চিত্র নায়িকা মুনমুনের স্মৃতিতে আজো অম্লান পরিচালক আজিজ আহম্মেদ বাবুল

এ আল মামুন এ আল মামুন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০ | আপডেট: ৪:৪৮:অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

প্রিয়ংকা ইসলাম: কথা বলে আজ মরলে কালকে দুইদিন! মৃত্যুর পর হয়তো একটি শোক সভা জনা ৫০ লোক। প্রথম বছর মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় ১৫ জন লোকও নেই। তারপর ধীরে ধীরে স্মৃতির পাতা থেকে মুছে যেতে থাকে প্রিয় মানুষটির চেহারা এমনকি নামটি পর্যন্তও! কিন্তু এক যুগ পেরিয়ে আরও একটি বছর। চিত্র নায়িকা মুনমুন ঠিকই স্মরণ করলেন চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজ আহমেদ বাবুল কে। একেই বলে শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা। এই প্রজন্মের তো বটেই পরিচারক অাজিজ অাহমেদ বাবুলের সময় কার অনেক পরিচালক, অভিনেতা অভিনেত্রীরাও তাকে স্মরণ করতে হয়তো ভুলে গেছেন। এমনকি তার চলচ্চিত্র যারা অভিনয় করেছেন, তাদেরও হয়তো মনে নেই গুণী এই পরিচালক এর মৃত্যুর দিনটির কথা।

পরিচালক আজিজ আহমেদ বাবুল কে স্মরণ করতে গিয়ে চিত্র নায়িকা মুনমুন যেন অনেকটাই নস্টালজিক হয়ে পড়েন! হারিয়ে যান পুরনো সেই অতীতের দিনগুলোতে। স্মৃতির পাতা মন্থন করতে গিয়ে একে একে মনের আয়নায় ভেসে উঠতে থাকে অনেক স্মৃতিময় ঘটনা। পরিচালক আজিজ আহমেদ বাবুল সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে চিত্র নায়িকা মুনমুন বলেন, “”টোটাল ফিল্মিক বলতে যা বোঝায় তিনি তাই। অর্থাৎ তার টেকনিক, একাগ্রতা, সততা, ভদ্রতা, সবথেকে বড় কথা মনের গহীন থেকে চলচ্চিত্র শিল্পটাকে ভালোবাসতেন তিনি “।

এমনই সব বিশ্লেষণ দিয়ে স্মৃতিপটের ঝাঁপিটাকে মেলে ধরেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম অ্যাকশন কন্যা মুনমুন। মার্জিত রুচিবোধ আর সরলতায় যিনি নিজেও সবার ভালোবাসার পাত্র। তিনি বলছিলেন তার ‘শিবা গুন্ডা’র ছবির পরিচালক প্রয়াত আজিজ আহমেদ বাবুলের কথা। চলতি জুন মাসের ২ তারিখ ছিল এই ক্ষণজন্মা পুরুষের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।

মাত্র ৪৮ বছর। গড় আয়ু হিসেবে এটাকে বলা যায় দ্যুতিময় কাজের মাত্র শুরুর বয়স। তবে বাংলা চলচ্চিত্রের আজকের অবস্থায় বিবেচনায় বলতে গেলে বলতে হয় বাবুল ছিলেন তার ও বয়সটার সর্বোচ্চ দাবিদার এক পুরুষ। ভালো আচরণ, রুচিবোধ, কপটুমক্ত সরলতা, চরিত্রবান এক আদর্শ পুরুষ। তবে সেটা তার বিচারের মাপকাঠি নয়, কর্মে তিনি কতটুকু বিচক্ষণ আর টেকনিকজ্ঞান কতটুকু প্রখর ছিলো সেটাই হবে তার কর্মের মাপকাঠি।

তার ছবিতে কাজ করে সে কথারই পুনরাবৃত্তি করেছেন মুনমুন। তিনি বলেছেন, ওই সময় আমি ছিলাম আমার সেরা সময়ে। হাতে একের পর এক কাজ। এরমধ্যে আজিজ আহমেদ বাবুল ভাই এলেন প্রস্তাব নিয়ে। সালটা ১৯৯৯। ‘শিবা গুন্ডা’ নামের একটি ছবি। দেখতে সুদর্শন। ছিপছিপে গড়ন লম্বা ফর্সা, ব্যবহার ছিলো ডাউন টু আর্থ। প্রথম দেখাতেই সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন। টাইট সিডিউল থাকার পরও তাকে ফেরাতে পারিনি। আমার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিয়েই তার ছবিতে নিয়েছিলেন। আমার বিপরীতে ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। কাজ করে বুঝলাম বাবুল ভাই শুধু ব্যবহারেই উঁচু নয়; একজন উঁচু মাপের টেকনিশিয়ানও। ছবিটি হিট হয়েছিলো। দেখতে দেখতে ১৩টি বছর হয়ে গেল।

আজিজ আহমেদ বাবুল ১৯৫৯ সালের ৩১ অক্টোবর, টাংগাইলের মির্জাপুর থানার বাইমহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের কমবেশি সবাই ছিলেন চলচ্চিত্রের প্রতি দুর্বল। সে ধারা আজও বহমান। ধুঁকতে থাকা চলচ্চিত্রের দুরবস্থার মধ্যেও পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারার অংশ সিনেমা হলটি এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সেটা দেখভাল করছেন আপন সহোদর মানজুর এলাহী। বোন বিশিষ্ট প্রযোজক, অভিনেত্রী ও গীতিকার জাহানারা ভূইয়া বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। ভগ্নিপতি বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন আজিজ আহমেদ বাবুলের।

মৃত্যুর আগে আজিজ আহমেদ বাবুল বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। তার ধরে নির্মিত হয়েছে- স্নেহের প্রতিদান, হাতিয়ার, গুপ্তঘাতক, ‘দোস্ত আমার দুশমন, মৃত্যু কত ভয়ঙ্কর, শিবা গুণ্ডা, খবর আছে, মুখোমুখি, ভালোবাসার শত্রু, হুমকির মুখে, ঠেকাও বিচ্ছু, তিন বাদশা, অন্ধকারে রাজনীতি, মহড়া, ঢাকার কুতুব, ডেঞ্জার মেয়ে, তাকাও জনতা, দেখাও গুরু প্রভৃতি।