ঘুর্ণিঝড় আম্ফান উপকুলের দুই উপজেলায় দুই হাজার পাঁচ’শ ঘর ক্ষতিগ্রস্থ। তলিয়ে গেছে এক হাজার মাছের ঘের।

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০ | আপডেট: ১০:৪২:অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

সুপার সাইক্লোণ আম্ফান বুধবার রাতে উপকুলীয় উপজেলা আমতলী ও তালতলীর উপর আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে ও উৎকন্ঠে উপকুলের মানুষের নিঘুম রাত কাটিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে উপকুলের দুই উপজেলায় দুই হাজার পাঁচ’শ ঘর সম্পর্ণ ও আশিংক বিধস্থ হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহিরের অন্তত এক হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে ্ওবং নষ্ট হয়েছে কয়েক হাজার একর জমির ফসল। উপড়ে পরেছে অন্তত দশ হাজার গাছপালা।
জানাগেছে, সুপার সাইক্লোণ আম্ফান বুধবার রাতে উপকুলীয় উপজেলা আমতলী ও তালতলীর উপর আঘাত হানে। উপকুলবাসীর আতঙ্ক ও উৎকন্ঠায় নিঘূম রাত কেটেছে। দমকা হাওয়া ও হালকা বৃষ্টির মধ্য দিয়েই শেষ হয় ঘুর্ণিঝড় আম্ফান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোন মানুষ ও পশুর প্রাণহানী ঘটেছে। তবে দুই উপজেলার দুই হাজার পাঁচ’শ ঘর সম্পূন্ন ও আশিংক বিধ্বস্থ’ হয়েছে। এর মধ্যে আমতলীতে এক হাজার আট’শ ৯৩ টি এবং তালতলীতে ছয়’শ ৭ টি। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহিরে অন্তত এক হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়েছে কয়েক হাজার একর জমির ফসল। উপড়ে পরেছে অন্তত দশ হাজার গাছপালা। গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে দুই উপজেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। আমতলী সদর ইউনিয়নের উত্তর টিয়াখালী গ্রামের বসির বেপারী, মনির মৃধা ও নান্নু তালুকদার বলেন, তাদের ঘর সর্ম্পন্ন বিধ্বস্থ হয়ে গেছে। তালতলীর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মরানিদ্রা গ্রামের আলীম ও নলবুনিয়া গ্রামের ইজু মিয়া বলেন, তাদের ঘর বন্যায় ভেঙ্গে গেছে। আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ই্উনিয়নে পাঁচ’শ ঘর ভেঙ্গে গেছে বলে জানান চেয়ারম্যান এ্যাড. নুরুল ইসলাম, আমতলী সদর ইউনিয়নে এক’শ ঘর ভেঙ্গে গেছে বলে জানান চেয়ারম্যান মোতাহার উদ্দিন মৃধা, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে এক’শ পঞ্চাশ টি ঘর ভেঙ্গে গেছে বলে জানান চেয়ারম্যান একেএম নুরুল হক তালুকদার, কুকুয়া ইউনিয়নে পঞ্চাশ টি ঘর ভেঙ্গে গেছে বলে জানান চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন মাসুম তালুকদার, আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নে আশিটি ঘর ভেঙ্গে গেছে বলে জানান চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ হাওলাদার। তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে এক’শ পঞ্চাশটি ঘর এবং পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাহিরে সাত’শ মাছের ঘের তলিয়ে গেছে বলে জানান চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজী, ছোটবগী ইউনিয়নে পঞ্চাশটি ঘর ভেঙ্গে গেছে বলে জানান চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনু, কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে এক’শ পঞ্চাশটি ঘর ভেঙ্গে গেছে বলে জানান চেয়ারম্যান আলতাফ আকন। এদিতে উত্তর টিয়াখালী কালামিয়া দাখিল মাদ্রসা ও ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম কলেজের টিন শেড ঘর ভেঙ্গে গেছে।
আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের দেয়া তথ্যমতে আমতলী উপজেলায় এক হাজার আট’শ ৯৩ টি ঘর সম্পুন্ন ও আশিংক বিধ্বস্ত হয়েছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষয়ক্ষতি পুনাঙ্গ তালিকা পাইনি। তালিকা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিার পারভীন বলেন, ঘর বাড়ী, ফসল ও গাছপালার ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্থদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।