দেশ প্রেম প্রমাণ করার সুযোগ বার বার আসে না, বিএমপি কমিশনার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০ | আপডেট: ২:৫২:অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

জুবায়ের ইসলামঃ

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভয়াবহ মহামারীর নাম করোনা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে ।আক্রান্ত দেশগুলো তাদের অর্থনীতির কথা চিন্তা না করে জনগণের জীবন বাঁচাতে দেশ লগডাউন ঘোষণা করেছে।

এই লগডাউনের তালিকায় বাংলাদেশেও রয়েছে। জনগণের জীবন বাঁচাতে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত ৩০শে মে পর্যন্তু সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।তবে জরুরি সেবা ও উৎপাদন মূলক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মহামারী করোনা ভাইরাস দেশের মানুষের জীবন ধ্বংস করতে পিছু লেগেছে। তাই করোনা প্রতিরোধ ও দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে করোনার পিছনে দৌড়াচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের সকল বিভাগ ।পুলিশের সকল সদস্যরা আন্তরিক ভাবে কাজ করছে জনগণের জীবন বাঁচাতে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পিছিয়ে নেই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিএমপি।জনগণকে নিরাপদে রাখতে করোনার সামনে নিজেদের বুক পেতে দিয়েছে বিএমপির সদস্যরা।বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার এর নেতৃত্ব নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একযোগে কাজ করছে বিএমপির সকল বিভাগ ।

“নিজেদের নিরাপদ রেখে জনগণকে নিরাপদ রাখতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে ” বিএমপি কমিশনারের এমন কথায় উজ্জীবিত হয়ে কাজ করছে বিএমপি সকল সদস্যরা ।

আক্রান্ত করতে করোনা ভাইরাস প্রতিটি মূহুর্তে মানুষের পিছু তাড়া করে যাচ্ছে ।করোনা থেকে সেই জনগণকে নিরাপদ রাখতে দিন রাত ছুটে চলছে বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার ।

একজন মানুষ কতটা মানবিক কাজ ও পরিশ্রম করতে পারে তার প্রমাণ বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার ।নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে থেকে প্রতিটি মূহুর্তে চেষ্টা করে যাচ্ছেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য । পাশাপাশি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও বরিশালবাসীকে নিরাপদ রাখতে আধুনিক এবং সৃষ্টিশীল চিন্তা ভাবনা করে যাচ্ছেন তিনি ।

অনেকে ভাবে পুলিশ মানেই রুক্ষ মুখ, নীল পোশাক আর লাঠিপেটা করা,কিন্তু এই পুলিশের কঠোরতার আড়ালেও নরম একটা মন আছে সেই ধারনা এখন দেশের সকল মানুষের মাঝে ছড়াতে শুরু করেছে । বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস দেখা দেয়ার পর সেটা আরো ষ্পস্ট হয়ে উঠেছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত ছুটি থাকলেও ছুটি নেই স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশের ।বিএমপি সদস্যরা দিন রাত কাজ করছে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতেই নয় বরং কাজ করছে দেশের সকল মানুষের কল্যানে।

বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার এর নির্দেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বরিশাল নগরীতে সর্বপ্রথম ওয়াটার ক্যানন দিয়ে জীবাণু নাশক স্প্রে করাসহ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করেছে বিএমপি সদস্যরা।

বিএমপি সদস্যরা এমন এমন কাজ করেছে যা তারা আগে কোন দিন করেনি এবং পূর্বের কোন প্রশিক্ষণও ছিল না। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে পুলিশ জানাযা থেকে শুরু করে করছে দাফন কাফন ।মাথায় করে মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। রাস্তায় পড়ে থাকা অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিচ্ছেব পুলিশ।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিষয়টি স্পষ্ট যে দেশের এই সংকট পূর্ণ মুহূর্তে বিএমপি কমিশনারের নির্দেশে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বরিশালে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে বিএমপি সদস্যরা।

বিএমপি কমিশনারের নির্দেশে পরিচয় গোপন রেখে রাতের আধাঁরে অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছে অন্যান্য সদস্যরা। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিতরণ করা হয়েছে মাস্ক ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার।

বরিশাল বাসীকে নিরাপদ রাখতে বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার এর নির্দেশে শহরে যাত্রীবাহী যান প্রবেশ ও চলা চল বন্ধ করতে শহরে বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে এবং অপ্রয়োজনে বাহিরে এসে ঘোরাঘুরি না করতে সকল জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে নগরীর বাজারগুলো খেলার মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দ্বায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানুষের সংস্পর্শে এসে বরিশালে এ পর্যন্তু মোট ৯জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। করোনায় ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে অনেক সদস্য। তার পরেও মনে শক্তি সঞ্চয় করে কাজ করে যাচ্ছে বিএমপি সদস্যরা।

পুলিশ সদস্যরা এতো অনুপ্রেরণা কেথায় পেল এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার বলেন, শুরু থেকেই পুলিশ একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান।পূর্বের কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্য, দাঙ্গা, সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করে মানুষের সেবা দিতে দিতে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একটা বাস্তব প্রশিক্ষণ হয়েছে এটাই আমাদের প্রথম শক্তি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিপিই, ঔষধ এবং প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র প্রদানসহ ঝুঁকি ভাতা প্রদান করেছেন। আমাদের আইজিপি মহোদয় সব সময় অনুপ্রেরণা প্রদান করছেন এর ফলে মানুষের সেবা দিতে আমরা এখন আর ভয় পাই না।

এছাড়াও পুলিশের একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে বাংলাদেশর মুক্তি যুদ্ধে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন একজন পুলিশ সদস্য ।নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি কিন্তু দেশের বিপদে কিভাবে কাজ করতে হয় সেটা আয়ত্ত করেছে । তাছাড়া দেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, দূর্যোগ ও মহামারী পরিস্থিতি সব সময় আসে না এবং দেশপ্রেম প্রমান করার সুযোগ সব সময় হয় না। দেশ প্রেম প্রকাশ এবং দেশের মানুষের জন্য কি করতে পারলাম এটাও একটা ভিতরের শক্তি ।

বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সুশীল সমাজসহ সাধারণ মানুষ যে ভাবে পুলিশের ভালো দিকগুলো প্রচার করছে সেটাও আমাদের একটা বড় মনোবল।

এছাড়াও ধর্মীয় একটা বিষয় আছে মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েও কতটুকু করতে পেরেছি বা করেছি একদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাব দিতে হবে।দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনগণের কল্যানে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার এর কাজের প্রশংসা করে সুশীল সমাজ বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতি হয়তো এক সময় থাকবে না ।পৃথিবী মহামারী করোনা থেকে মুক্তি পাবে। শুধু মানুষের চাওয়া বিপদ কেটে গেলেও পুলিশের ভাবমুর্তি অক্ষুন্ন থাকুক । পুলিশের জন্য ভালবাসাটুকু অটুট থাকুক জন্ম থেকে জন্মান্তরে।

তাই সবাই একসাথে বলে উঠুক বিএমপি সবসময় মানবিক পুলিশ ।পুলিশ জনতা,জনতাই পুলিশ প্রমাণ করলেন বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম বার।