ক্ষমতার দাপট চিরদিন নয়

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০১৮ | আপডেট: ১০:১৯:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০১৮
ক্ষমতার দাপট চিরদিন নয়

মুফতি আহমদ আবদুল্লাহ : যে কোনো সমাজ ও যে কোনো দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাধি হলো বাড়াবাড়ি ও জুলুম-অত্যাচার। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, জুলুম-অত্যাচারের কারণে বিশ্বের অনেক বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে, সমাজ-ব্যবস্থা বিলীন হয়েছে, সমাজের লোক চরম অবক্ষয়ের শিকার হয়েছে। মজলুমের আহাজারিতে বিষাক্ত হয়ে ওঠেছে সেখানকার আকাশ-বাতাস। পরিশেষে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে জালিমের ওপর এমন সব বিপদ ও শাস্তি নেমে এসেছে, যার কথা কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। আর ঐ শাস্তিগুলো ছিলো ভ‚মিকম্প, বজ্রপাত, দুর্ভিক্ষ, কঠিন কঠিন রোগব্যব্যাধি এবং ভয়ানক আরও অনেক কিছু। জুলুম-অত্যাচারের ফলে আল্লাহর শাস্তি অবতীর্ণ হওয়াটা ছিলো এমন একটি কানুন যা কখনও পরিবর্তন হওয়ার মত নয়।
ক্ষমতার নেশা এতই ভয়ানক যে, এর কারণে অনেক সময় মানুষ দয়া, মায়া, করুণা এমনটি মানুষ্যত্ব থেকেও বঞ্চিত হয়ে পড়ে। সর্বত্র জুলুম-অত্যাচারের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের বাদশাহ আর্য মেহের সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সৌখিন শিকারি ছিলেন। তীর নিক্ষেপের প্রতি তার আসক্তি ছিলো।

একদা তার প্রাসাদের বাইরে তারই কোনো একজন কর্মচারীর শিশুপুত্রকে ক্রীড়ারত দেখতে পান। তখন তার মনে একজন মানুষকে তীরের নিশানায় পরিণত করার শখ জাগে। তিনি সেই ক্রীড়ারত শিশুটিকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটি হাত-পা ছুড়তে ছুড়তে সবার সামনে প্রাণ ত্যাগ করে। পাছে স¤্রাট নারাজ হন, তাই শিশুটির পিতা নিজের পুত্রের জন্য ক্রন্দন না করে বাদশার নির্ভুল তীরন্দাজের প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানান।
ক্ষমতার দাপটের নেশায় মত্ত হয়ে যুগে যুগে এ ধরণের আরও অনেক ঘটনাই যে ঘটেছে মানব-ইতিহাস তার সাক্ষী। আর এর পরিণাম প্রত্যেক জালিমকে তার কৃতকর্মের ফলও ভোগ করতে হয়েছে একদিন।
বর্তমান যুগেও বাতিলপন্থীরা ন্যায়পন্থীদের ওপর সব রকমের জুলুম-অত্যাচার চালাচ্ছে। তারা ক্ষমতার নেশায় মত্ত হয়ে ভদ্রতা ও মানুষ্যত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর যখন যেভাবে ইচ্ছা ঝাপিয়ে পড়ছে। তাদেরকে অবাধে হত্যা করছে, দেশছাড়া করছে, দলিত-মথিত করছে। সর্বোপরি তাদের ওপর রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিচ্ছে।
সম্ভবত তাদের এ কথা স্মরণ নেই যে, সর্ব শক্তিমান আল্লাহর ক্ষমতা সবার ওপরে। তার ক্ষমতাই চিরস্থায়ী। তাদের ঐ কৃতকর্মের জন্য তিনি তাদের ছেড়ে দিচ্ছেন না, বরং কিছুদিনের জন্য অবকাশ দিচ্ছেন মাত্র। আর নিশ্চয়ই সেদিন বেশী দূরে নয়, যখন আল্লাহর ঢিল দেয়া এই রশিতে টান পড়বে এবং দুষ্কৃতিকারীরা কড়ায়-গণ্ডায় তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে।

  • আমাদের সময়.কম