রাজাপুরে অর্থাভাবে অগ্নিদগ্ধ শিশুর চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২০ | আপডেট: ২:৩৭:অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২০

ঝালকাঠির রাজাপুরের কৈবর্তখালি গ্রামের পেয়াদা বাড়ির ৪ বছর বয়সী শিশু মিলি আক্তার অগ্নি দগ্ধ হয়ে বিনা চিকিৎসায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের বিছানায় কাতরাচ্ছে। সম্প্রতি রান্না শেষ হওয়ার পরে সবার অজান্তে মিলি একটি চিপস এর খোসা চুলায় দেয়। তাতে আগুন জ্বলে উপরে উঠলে মিলির শরীরে সামনের দিকে আগুন লেগে শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এতে চিবুকের নিচ থেকে নাভির নিচ পর্যন্ত পুড়ে যায়। তার শরীরে সার্জারী করতে হবে। সার্জারীতে প্রায় ৭০ হাজার টাকার প্রয়োজন বলে জানান শিশুটির পরিবার। শিশু মিলি বর্তমানে কর্মহীন নির্মাণ শ্রমিক অসহায় আবুল হোসেনর মেয়ে।
রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে উপস্থিত হয়ে মিলির মা রিনা বেগম আকুতি করে জানান, নলছিটির মালুহার গ্রামের আবুল হোসেনের সাথে বিয়ের পর থেকেইে স্বামী সংসার নিয়ে বাবা দিন মজুর আঃ ছালামের বাড়িতে চলে আসেন। করোনা ভাইরাসের সমস্যায় তাদের কর্ম বন্ধ থাকায় অর্ধাহারে অনাহারে দিন চলছে। এর মধ্যে ১৫ মার্চ দুপুরে শিশু মিলির শরীর আগুনে পুড়ে যায়। ওই দিনই মিলিকে প্রথমে রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে রেফার্ড করেন। বার্ণ ইউনিটের ডা. প্রফেসর এমএ আজাদ সজল তখন বলেছিলেন, শিশুটির শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। শরীরে সার্জারী করতে হবে। তাতে ডাক্তারকে দিতে হবে ৪৫ হাজার টাকা এবং ঔষধপত্র নিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লাগতে পারে। কিন্তু কয়েকদিন পরে ডা. প্রফেসর এম এ আজাদ সজল মারা গেলেন। পরে অন্য ডাক্তাররা বরিশালের মমতা ক্লিনিকে নিয়ে সার্জারী করানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। মমতা ক্লিনিকের ডাক্তার হাবিবুর রহমান জানান, মিলির সার্জারী করতে সর্বসাকুল্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার প্রয়োজন হবে।
রিনা বেগম আরো জানান, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিগত দিনে কিছু ঔষধ দিয়েছে। বাকি অনেক ঔষধ আমাদের বাহির থেকে কিনতে হয়েছে। প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে ধার দেনা করে প্রায় ৬০ হাজার টাকার খরচ হয়েছে। বর্তমানে মিলির চিকিৎসার জন্য টাকা জোগারের কোন পথ নেই। তাই তিনি সমাজের বিত্ত বানদের সাহায্য কামনা করেছেন রিনা বেগম। তার মোবাইল নম্বর-০১৭৭৬৬৭৪৪১৮ (বিকাশ)।