ঝালকাঠিতে প্রথম আক্রান্ত পরিবারটি করোনা জয় করে বাড়ি ফিরেছে

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২০ | আপডেট: ৩:১৩:অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২০

ঝালকাঠিতে প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া একই পরিবারের তিন জনই সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্ত হওয়ার পওে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে পর পর ২বার নমুনা পরীক্ষায় তাদেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসে বলে জানিযেছেন ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা.শ্যামল কৃষ্ণ হালদার।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিড়ি ইউনিয়নের বিন্নাপাড়া গ্রামের নাছির হাওলাদার(২৮), তার স্ত্রী সুমা আক্তার(২৩) এবং তাদের ৬মাস বয়সী শিশু পুত্র মো. সাজিদকে নিয়ে তাদেও পরিবার নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। গত ৮ এপ্রিল তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে বিন্নাপাড়া গ্রামের বাড়িতে আসেন। আসার পরে তাদের জ্বর সর্দি-কাশি দেখা দিলে নমুনা পরীক্ষা করা হলে করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসে। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে পরে আক্রান্ত পরিবার ও আশ পাশের লোকজন। এ সময় ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা.শ্যামল কৃষ্ণ হালদারের নির্দেশনা অনুযায়ী সদও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ওমর ফারুক’র তত্বাবধানে হোম আইসোলেশনে থেকেই চিকিৎসা শুরু হয় আক্রান্ত পরিবারটির।স্বাস্থ্য সহকারি মো.জুবায়ের হোসেন নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
এরা নিয়মিত জ্বও ও কাশির ওষুধ খেতেন। এছাড়া পানিতে লেবু, আদা, এলাচি, দারুচিনি দিয়ে ফুটিয়ে পান করতেন এবং ভাপ নিতেন। এর বাইরে নিয়ম-আনুন মেসে ব্যায়াম করায় এক মাসের মধ্যেই করোনা জয় করে সুস্থ হয়ে ওঠে ৩ জনের পুরো পরিবারটি। অসুস্থ থাকাকালীন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদেও কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছে।
করোনা জয় করা নাছির হাওলাদার বলেন,‘প্রথম যেদিন শুনেছি আমার পুরো পরিবার করোনায় আক্রান্ত তখন একদম ভেঙ্গে পড়েছিলাম। গরীবের সংসার কি খাব, কিভাবে চিকিৎসা নেব? কিন্তু জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ,স্বাস্থ্য বিভাগ ও জন প্রতিনিধিরা এগিয়ে এসেছেন। তারা আমাদেও খদ্য,চিকিৎসা সহ সব ধরণের সহযোগিতা করেছেন। যার জন্য আমরা দ্রুত সুস্থ হতে পেরেছি।আমাদেও সহযোগিতায় যারা এগিয়ে এসেছেন তাদেও প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
গাবখান ধানসিড়ি ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারি মো.জুবায়ের হোসেন বলেন,‘আমি প্রতিনিয়ত এই পরিবারের খোঁজ খবর নিতাম। এরা নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিচ্ছে কি না সে বিষয়ে খেয়াল রাখতাম।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ডা.ওমর ফারুক বলেন,‘আমাদের পক্ষ থেকে সব সময় চেষ্টা ছিলো কিভাবে এদেও সস্থি করে তোলা যায়। যখন যে ওষুধ দরকার হত আমরা দিয়ে দিতাম। আর সব সময় তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতাম। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নেয়ায় এরা করোনাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা.শ্যামল কৃষ্ণ হালদার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.রিফাত আহম্মেদ এর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি।’
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা.শ্যামল কৃষ্ণ হালদার বলেন,‘করোনার হাত থেকে বাচঁতে হলে এই মূহুর্তে সবার ঘওে থাকতে হবে। আর জরুরী প্রয়োজনে বাইওে বের হতে হলেও মাস্ক ও গ্লভস পড়তে হবে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।