করোনার চিকিৎসায় যুক্ত হলো নয়া স্টেম সেল থেরাপি, সুস্থ ৭ ব্যক্তি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৪:৫৫:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২০

করোনার চিকিৎসায় নয়া থেরাপি, সুস্থ হলেন ৭ ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত রোগীদে,র সুস্থ করতে বিশ্বজুড়ে নানা চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নিচ্ছে,ন চিকিৎসকরা।

প্লাজমা প্রতিস্থাপ,ন, কিছু অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগের সাহায্য নেয়া, আবার হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে আঁকড়ে রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। এ তালি,কায় যুক্ত হলো ন,য়া স্টেম সেল থে,রাপি। স্টেমসেল থে,রাপি প্রয়োগ করে মৃত্যুপথযাত্রী সাতজন কোভিড আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জন ইসরায়েলের। এক জন আমেরিকার বাসিন্দা।

কোভিড-১৯ রোগীকে সুস্থ ক,রতে বিশ্ব জুড়ে নানা চিকিৎসাপদ্ধতির শরণ নিচ্ছে,ন চিকিৎসকরা। কোথাও প্লাজমা প্রতিস্থাপ,ন, কোথাও কিছু অ্যান্টি ভাইরাল ড্রাগের সাহায্য নিয়ে, আবার কোথাও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনকে আঁকড়ে রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। এই তালিকায় অন্যতম সংযোজন এই স্টেম সেল থেরাপি।

মৃত্যুপথযাত্রী এই ৭ জন কোভিড-আক্রান্তের ফুসফুস থেকে শু,রু করে হার্ট, কিডনি, লিভার সবই প্রায় জ,বাব দিয়ে দিয়েছিল। গতানুগতিক চিকিৎসায় সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ চেষ্টা হিসেবে তাঁদের দেওয়া হয় প্রসূতি মায়ের প্ল্যাসেন্টা থেকে সংগ্রহ করা বিশেষ ধরনের কোষ বা স্টেম সেল। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে ব,লা হয় ‘প্লুরিস্টেমস অ্যালোজেনিক প্ল্যাসেন্টাল এক্সপ্যান্ডেড সেল’ বা ‘পিএলএক্স সেল’। এ বার কাজ হল ম্যাজিকের মতো।
স্টেম সেল থেরাপি কী?

 

সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও ভায়রোলজিস্ট অমি,তাভ নন্দীর মতে, “সন্তান জন্মানোর পর মায়ের শ,রীর থেকে যে প্ল্যাসেন্টা বেরিয়ে আসে, তার মধ্যে রয়েছে এই সব স্টেম সেল। বিজ্ঞানীরা এখান থেকে কোষ নিয়ে তাকে পরি,ণত করেন স্মার্ট কোষে। এমন ভাবে প্রোগ্রামিং করা হয় যে, সেই কোষ যে শরীরে যাবে, সেই শরীরে,র প্রয়োজন বুঝে, ঠিক তার মাপ মতো ওষুধ তথা প্রোটিন নিঃসরণ করবে। স্টেম সেল থেরাপি মূলত এটিই।”
কিন্তু কী ভাবে কাজ করে এটি?

 

অমিতাভবাবুর কথায়, ভাইরাসের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাকে ধ্বংস করার চেষ্টায় তা কখনও কখনও অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে প্রচুর পরিমাণে সাইটোকাইন রাসায়নিকের প্রবাহ শুরু হয়, যাকে বলে সাইটোকাইন স্টর্ম। এদের মধ্যে কিছু রাসায়নিক প্রদাহ ঘটিয়ে ফুসফুসের প্রচুর ক্ষতি করে। ফলে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে অকেজো হতে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রত্যঙ্গ। দেখা দেয় মাল্টি অরগ্যান ফেলিওর। রোগী মারা যান। প্রোগ্রামিং করে তৈরি করা কোষ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করালে তারা শরীরের ভিতরে প্রোটিন তথা ওষুধ তৈরি করে। ওষুধ বলতে দু’ধরনের প্রোটিন।

 

একটি প্রদাহ কমায়। আরেকটি অতিসক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নি,য়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।একে বলে ‘ইমিউন মডিউলেশন’। ফলে অক্সিজেনের পরিমাণ ফের নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রদাহের প্রকোপ কমাতে শুরু করে। অকেজো হতে থাকা প্রত্যঙ্গরা ফিরে পায় তাদের কার্য ক্ষমতা। তবে এই স্টেম সেল পরীক্ষার প্রাথমিক ধাপটুকু সারা হয়েছে। তাতে সাড়া মিলেছে ভাল। আরও অনেক পর্যায় এর বাকি। তবেই কোভিডের বিরুদ্ধে এই স্টেম সেল থেরাপি বিশ্বব্যাপী সমাধান হয়ে উঠতে পারবে কি না বোঝা যাবে।

 

হার্ট অ্যাটাকে মৃত পেশীতে গিয়ে স্টেম সেলের প্রোটিন নতুন হৃদকোষ তৈরি করতে পারে। পায়ের শিরা পচে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও তৈরি করতে পারে নতুন শিরা। রক্তের ক্যানসার, কিছু বিশেষ ধরনের রক্তাল্পতা বা রশ্মি চিকিৎসায় অস্থিমজ্জা নষ্ট হয়ে গেলে, নতুন অস্থিমজ্জা তৈরতেও সে সক্ষম।

৬ জন ইসরায়েলের বাসিন্দা ও একজন আমেরিকানের উপর এই স্টেম সেলের সাফল্যের হার ১০০ শতাংশ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, “এখনও পর্যন্ত স্টেম সেল থেরাপিতে যতটুকু কাজ হয়েছে, তা খুবই আশাব্যঞ্জক। ক্লিনিকাল ট্রায়ালের প্রথম ধাপ চলছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও অনেক বেশি ও অনেক ধরনের মানুষের উপর পরীক্ষা করে দেখতে হবে ফলাফল কেমন হচ্ছে। এই ধাপে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, বিভিন্ন রকম অসুখবিসুখ আছে এমন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ, শিশু, টিনএজার প্রত্যেকের শরীরে এই ওষুধ কী ভাবে কাজ করছে, তা দেখতে হবে। নিপারদ কি না তাও বুঝতে হবে। তৃতীয় ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সেন্টারে কন্ট্রোল ট্রায়াল করে দেখতে হবে দেশ ও জাতিভেদে ওষুধ একই ভাবে কাজ করছে কিনা। যত তাড়াতাড়ি এই সব ধাপ সম্পূর্ণ করা যাবে, তত তাড়াতাড়ি ওষুধ আসবে বাজারে। এই মুহূর্তে যতটুকু কাজ হয়েছে তার ভিত্তিতে কিন্তু বলা যায় না যে বাজারে কোভিডের ওষুধ এসে গিয়েছে।”

তবে ওষুধ না এলেও এই স্টেম সেলকে আঁকড়ে কোভিডের সঙ্গে লড়াইয়ে নতুন করে অস্ত্র শানাচ্ছেন চিকিৎসক-গবেষকরা।