কিছু অসাধু লোক আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার পাঁয়তারা করছে: ইকবাল

এ আল মামুন এ আল মামুন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২০ | আপডেট: ১২:২৭:অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২০

বিনোদন ডেস্ক: পাইরেসির প্রতিবাদ করায় চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল কথাবার্তা রটানো হচ্ছে। সম্প্রতি জাজ মাল্টিমিডিয়ার সাথে তার দ্বন্ধ তৈরি হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া এবং এর কয়েকজন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেন এসকে ফিল্মসের সহ-প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল। রমনা থানায় অভিযোগগুলো দায়ের করা হয়। এর আগে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে ইকবালের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় জিডি করেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার শহীদুল্লাহ মিয়া।

মোহাম্মদ ইকবালের করা অভিযোগ দুটির একটিতে উল্লেখ করা হয়, সেদিনের ঘটনার পর জাজের কর্ণধার আব্দুল আজিজ, সিইও আলিমুল্লাহ খোকন, মো. শহীদুল্লাহ মিয়াগণ প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবালকে বিভিন্ন মেয়ে ও খারাপ ছেলে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার পাঁয়তারা করছে।

দায়েরকৃত দ্বিতীয় অভিযোগে ইকবাল উল্লেখ করেন, গত বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটির পাইরেসির সঙ্গে জাজ মাল্টিমিডিয়া জড়িত আছে। এ নিয়ে পরিদর্শক ও প্রযোজক সমিতিতে বেশ কিছুদিন আগে একটি অভিযোগও করেছেন। সেটির সত্যতাও মিলেছে সমিতির মাধ্যমে, যা তিনি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগ দুটি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘জাজের কর্মকর্তাগণ মিলে আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার পাঁয়তারা করছে। এ ছাড়াও আমার পাসওয়ার্ড ছবির পাইরেসির সঙ্গে যার জড়িত। যা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। তাই আমি বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’

তিনি বলেন, যখনই জানতে পারি ‘শাহেনশাহ’ পাইরেসি করার অপচেষ্টা করছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার মো. শহীদুল্লাহ মিয়া। তখন তাকে ফোন করে গালাগালি করেছি ঠিক কিন্তু সে যে অভিযোগটি তুলেছেন যে আমি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছি সেটি ভিত্তিহীন।

ইকবাল আরও বলেন, ‘জাজ মাল্টিমিডিয়ার ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার মো. শহীদুল্লাহ মিয়া পাইরেসির সঙ্গে যুক্ত আছে। আমার “পাসওয়ার্ড”, “ভালোবাসা ডটকম” ছবির পাইরেসিও সে করেছে। আমি প্রযোজক সমিতিতে এ নিয়ে অভিযোগও করেছি। ও একেক সময় একেক কথা বলে। ওর অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রযোজক সমিতিতে মিটিং হয়েছে। সমিতি কয়েকবার চিঠি দিয়ে তাকে ডেকেছে কিন্তু তিনি আসেনি। সিনেমা বাঁচাতে পাইরেসি রুখতে হবে। এ দেশের সিনেমার পাইরেসির মূল হোতা জাজ মাল্টিমিডিয়া। যে ভাবেই হোক সিনেমার স্বার্থে পাইরেসি বন্ধ করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, দেশের প্রায় ৭৩টি সিনেমা হলে গত ৬ মার্চ মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান ও নুসরাত ফারিয়া অভিনীত ছবি ‘শাহেনশাহ’। শাপলা মিডিয়ার প্রযোজনায় ছবিটি নির্মাণ করেছেন শামীম আহমেদ রনি। কথা ছিল, জাজ মাল্টিমিডিয়ার পরিবেশনায় ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবির পরিবেশনার দায়িত্ব নেয় শাকিব খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মস।

এই ইস্যুতে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার মো. শহীদুল্লাহ মিয়াকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন এসকে ফিল্মসের সহ-প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় জিডি করেন মো. শহীদুল্লাহ মিয়া।

এ বিষয়ে জানতে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও আলিমুল্লাহ খোকনকে ফোন করা হয়। তিনি বলেন, ‘দেশের বেশ কিছু সিনেমা হলে আমাদের মেশিন (প্রজেক্টর মেশিন, সার্ভার, সাউন্ড সিস্টেম, পাওয়ার এমপ্লিফায়ার, সাউন্ড বক্স, ইউপিএস, ভোল্টেজ স্টেবিলাইজার, এসি ইত্যাদি) দেওয়া আছে। এ নিয়ে হল মালিকদের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তিও আছে। “শাহেনশাহ” ছবিটি আমরা ডিস্ট্রিবিউশন করব, মৌখিকভাবে এমনটাই কথা ছিল। আমরা এর প্রচারণাও করেছি। কিন্তু শেষে এসে এসকে বিগ স্ক্রিনে এটি ডিস্ট্রিবিউশন হয়েছে। তবে তারা শুধু সার্ভার দেবে আর বাকি জিনিসপত্রগুলো থাকবে হল মালিকদের। কিন্তু হলগুলোতে আমাদের মেশিন বসানো। তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ছবির প্রযোজক সেলিম খানকে ফোন করে আমাদের ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার মো. শহীদুল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপরই ইকবাল তাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে সে গিয়ে হাতিরঝিল থানায় জিডি করেছে।’

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ ইকবাল ঢালিউড কিং শাকিব খান অভিনীত ‘শুটার’, ‘পাসওয়ার্ড’, ‘বীর’সহ বেশকিছু সিনেমা প্রযোজনা করেছেন।