নোয়াখালী-৪ আসন আ.লীগ লড়ছে আসন ধরে রাখতে, বিএনপি পুনরুদ্ধারে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২০:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৮
নোয়াখালী-৪ আসন আ.লীগ লড়ছে আসন ধরে রাখতে, বিএনপি পুনরুদ্ধারে

মাওলা সুজন নোয়াখালী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগাম প্রচারে বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে সদর ও সুবর্ণচর উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৪ আসন। এই আসনে প্রধান দুই দলে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও মূল আলোচনায় থাকা দুই নেতাকে ঘিরেই ঘুরপাক খাচ্ছে নেতাকর্মীদের সব জল্পনা-কল্পনা।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এবং বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাজাহানের মধ্যেই হতে পারে মূল নির্বাচনী লড়াই। একরামুল করিম চৌধুরী ২০০৮ সালের নির্বাচনে মো. শাজাহানকে পরাজিত করেছিলেন।

আর এই আসনে ১৯৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. শাজাহান। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঘরানার নেতাকর্মীদের কাছে দুই নেতারই মজবুত অবস্থান রয়েছে। এই আসনটি আওয়ামী লীগের জন্য মর্যাদা অব্যাহত রাখার এবং বিএনপির জন্য হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনার লড়াই।

গত ঈদুল ফিতরের আগে এই আসনের প্রতিটি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছিল। ওই সময় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের অনেকেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন এবং তৃণমূল কর্মীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে প্রায় একই কায়দায় অনেকটা নীরবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ঈদের পরও দুই দলের বেশিরভাগ সম্ভাব্য প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাট-বাজারে ফেস্টুন ও ডিজিটাল ব্যানার টানিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দোয়া ও সমর্থন চাইছেন।

নির্বাচনী এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ এখন এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। এই আসনের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মূল আলোচনায় রয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও স্পিকার আবদুল মালেক উকিলের ছেলে গোলাম মহিউদ্দিন লাতু, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. একেএম জাফর উল্যাহ মনোনয়ন চাইবে।

এই আসনের সাবেক এমপি মো. শাজাহান বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন আজাদ এবং বর্তমানে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব বোরহান উদ্দিন আহমেদ মিঠুও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন।

নোয়াখালী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান বেশ মজবুত। দুই দফায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি আরো মজবুত করেছেন একরামুল করিম চৌধুরী। নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরেই দলের সব কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ এ আসনে সবচেয়ে বেশি সুসংগঠিত অবস্থায় রয়েছে। আর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটিগুলোও শক্তিশালী।

একরামুল করিম চৌধুরী জানান, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা হাজী ইদ্রিস মিয়া নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনিও জেলার পাশাপাশি তার নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। মাঠপর্যায়ে দলকে আরো সুসংগঠিত করেছেন। বিশেষ করে অবহেলিত সুবর্ণচর উপজেলা মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। যা ছিল বিগত সময়ে বনদস্যু ও জলদস্যুদের অভয়ারণ্য।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার জন্য সুবর্ণচর উপজেলাকে সেভাবে তৈরি করা হচ্ছে। তিনি দলের কাছে আবারো মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন পেলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কেননা গত দুবার নির্বাচিত হওয়ার পর সদর ও সুবর্ণচর উপজেলার উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। যা সদর-সুবর্ণচর উপজেলার জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপভোগ করছে। আগামীতে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে আরো ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চাইছেন।

তবে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম মহিউদ্দিন লাতু জানান, তার বাবা আবদুল মালেক উকিল দুর্দিনে আওয়ামী লীগের কান্ডারি ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়টি বিবেচনায় এনে নিশ্চয়ই তাকে মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন। তিনি দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ডা. এবিএম জাফর উল্যাহর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন ডা. একেএম জাফর উল্যাহ। এবার তিনি এমপি পদে দলের মনোনয়ন চাইছেন। তিনি যোগ্যতার বিচারে দলের কাছে বিশেষ বিবেচনা প্রত্যাশা করছেন।

এই আসনে বিএনপির যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মো. শাজাহানের নামই বেশি আলোচিত হচ্ছে। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দৃষ্টিতে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহানের বিকল্প নেই। কিন্তু কিছুদিন গঠিত হওয়া জেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে তৃণমূলে।

এ কমিটিতে জেলার সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদকে বাদ দেওয়ায় তার অনুসারীরা আগামী নির্বাচনে মো. শাহজাহানের পক্ষে কাজ না করার সম্ভাবনা বেশি। আর যদি তাই হয় তাহলে বিএনপির জন্য তা হবে বড় ধাক্কা। কেননা নোয়াখালী পৌর এলাকায় রয়েছে ধানের শীষের ভোটব্যাংক। যা হারুনুর রশিদ আজাদের তিল তিল করে গড়া।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মো. শাজাহান জানান, তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। এর আগে তিনি তিন দফায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। আর আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তিনি আবারো বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। কেননা দলের তৃণমুল নেতা কর্মীরা তার সাথে রয়েছেন।