মুলাদীতে মৎস্য অফিস সহকারীর সহায়তায় বাঁধা জাল দিয়ে অবাধে মাছ নিধন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ | আপডেট: ১০:৩২:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

মুলাদী প্রতিনিধি ॥

মুলাদীতে মৎস্য অফিস সহকারীর সহায়তায় বাঁধা জাল দিয়ে অবাধে মাছ নিধন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসাধু জেলেরা উপজেলার আড়িয়ালখাঁ ও জয়ন্তী নদীতে বাঁধা জাল দিয়ে বড় থেকে ক্ষুদ্রাকৃতির মাছ নিধন করছে। ফলে নদীতে থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিসার নদীতে অভিযান পরিচালনা করে কোনো বাঁধা জাল না পেলেও প্রতিনিয়ত ওই জাল দিয়েই জেলেরা মাছ শিকার করছে। অভিযোগ রয়েছে মৎস্য অফিসার অভিযান পরিচালনার জন্য বের হতেই জেলেদের কাছে অভিযানের সংবাদ পৌছে যায়।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার জয়ন্তী নদীর চরবাটামারা, রামচর, আড়িয়ালখাঁ নদীর মিয়ারচর, ভূইয়া বাড়ি লঞ্চঘাট, মনষাগঞ্জ, মহিষগুদি, মুলাদী তেরচর রাস্তার মাথা, কুড়িরচর, চরকমিশনার, কাঠেরচর এলাকায় বাঁধা জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে। এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সাধারণ জেলেরা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ নিধন করে চলছে। এসব জেলেরা তাদের বাঁধা জালে ধরা মাছ থেকে বড় মাছ বাছাই করে বাজারে বিক্রি করে দেয় আর ক্ষুদ্রাকৃতির মাছ মহিলাদের দিয়ে এলাকায় ঘুরে বিক্রি করে কিংবা মৃত অবস্থায় নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

উপজেলা মৎস্য প্রশাসন এসব বাঁধা জালের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা না করায় জেলেরা প্রতিনিয়ত মাছ নিধন করে চলছে। তেরচর রাস্তার মাথা এলাকার জামাল হোসেন জানান দিন-রাত প্রায় ২৪ ঘণ্টাই জেলেরা বাঁধা জাল দিয়ে নদীতে মাছ শিকার করে। মুলাদী মৎস্য অফিসের সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেনের যোগসাজশে জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ কিংবা প্রশাসনের লোকজন নদীতে গেলেই অফিস সহকারী জেলেদের জানিয়ে দেয় আর জেলেরা তাদের জাল রেখে পালিয়ে যায় কিংবা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে।

এব্যাপারে মুলাদী মৎস্য অফিসের সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন জেলেদের তথ্য দেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন নদীতে জেলেরা বাঁধা জাল দিয়ে মাছ শিকার করে কিনা এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নাই। মুলাদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান নদীতে অভিযান চালিয়ে কোনো বাঁধা জাল না পাওয়ায় জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। তবে বাঁধা জালসহ কোনো জেলেকে আটক করা হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।