আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর বেইলি ব্রীজ এখন মরণ ফাঁদ

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ | আপডেট: ১০:০১:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

বরগুনার আমতলী ও তালতলী সড়কের আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর বেইলি ব্রীজ এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে। ব্রীজের ভগ্ন দশার কারনে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করেছে এলাকাবাসী। দু’উপজেলার দু’লক্ষাধীক মানুষের সেতুবন্ধন এ ব্রীজটি দ্রুত নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন তারা। উপজেলা এলজিইডি বিভাগ দাবী করছে ওই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ এলজিইডির কাছ থেকে নিয়ে গেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ দাবী করছে এলজিইডির কাছ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই সড়কটি আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই দুই বিভাগের রশি টানাটানিতে আমতলী ও তালতলী সড়কের উপর নির্মিত বেইলি ব্রীজটির সংস্কার হচ্ছে না।

জানাগেছে, আমতলী থেকে তালতলী উপজেলার সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম তালতলী সড়ক। ৪০ কিলোমিটার এই সড়কটির আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর উপর ১৯৮৫ সালে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ বেইলি ব্রীজ নির্মাণ করে। এ ব্রীজ দিয়ে আমতলী ও তালতলী উপজেলার দু’লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। দুই উপজেলার সেতুবন্ধন এই ব্রীজটি দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা ও তালতলীগামী পরিবহন বাস ,তালতলী আইসোটেক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাড়ী ট্রাক, প্রাইভেট কার, মাহেন্দ্র, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা, মোটর সাইকেলসহ সহস্রাধীক গাড়ী পারাপার হয়।

গাড়ী চলাচল করায় দিন দিন ব্রীজটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ব্রীজের পাটাতন আলগা হয়ে সরে গেছে। ব্রীজে ছোট গাড়ী ওঠলেও ঠকঠক শব্দ করে নড়ে। ব্রীজের মাঝখানের পাটাতন দেবে গেছে। দীর্ঘদিন ব্রীজটি সংঙ্কার না করায় মারাত্মক দূর্ঘটনার আশঙ্কা করেছে এলাকাবাসী। এদিকে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ ও বরগুনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের রশি টানাটানিতে ব্রীজটির সংস্কার হচ্ছে না। আমতলী উপজেলা এলজিইডি বিভাগ দাবী করছে ওই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ এলজিইডির কাছ থেকে নিয়ে গেছে। তাই ওই ব্রীজের দেখভাল করবেন তারা। অপরদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দাবী করছে এলজিইডির কাছ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই সড়কটি আনার প্রক্রিয়া চলছে। এখনো আনা হয়নি। যতক্ষন পর্যন্ত আনা না হবে ততক্ষন পর্যন্ত সড়কটি সকল কিছু দেখভাল করবেন এলজিইডি। সেহেতু ওই ব্রীজটি তারাই সংস্কার করবেন।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ব্রীজের মাঝখানের পাটাতন দেবে গেছে। ওই পাটাতনের উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও গাড়ী পারাপার করছে।
স্থানীয় বাকি বিল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজটি সংস্কার না হওয়ায় এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। দ্রুত ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানাই।
আড়পাঙ্গাশিয়া ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ব্রীজের এ বেহাল দশার কথা উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।

আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ আবু জাফর বিশ্বাস বলেন, বেইলি ব্রীজ পুরাতন হওয়ায় গাড়ী পারাপারের সময় ওজন নিতে পারছে না। ফলে ব্রীজের পাটাতন দেবে গেছে। ব্রীজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চালকরা গাড়ী পারাপার করছে। বড় ধরনের দূর্ঘটনা রোধে দ্রুত ব্রীজটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
তালতলী শহরের ব্যবসায়ী শামীম পাটোয়ারী বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রীজ দিয়ে গাড়ী পারাপার করছে।

বাস গাড়ী চালক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, নড়বড়ে ব্রীজ দিয়ে গাড়ী পারপার করতে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানাই।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ এলজিইডির কাছ থেকে নিয়ে গেছে। ওই সড়কের উপর নির্মিত আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর বেইলি ব্রীজটি তারা সংস্কার করবেন। ওই ব্রীজ সংস্কারের দায়িত্ব আমাদের না।

বরগুনার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান বলেন,আমতলী-তালতলী সড়কটি এলজিইডি বিভাগের কাছ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এখনো ওই সড়কটি এলজিইডির অধিনেই আছে। তাই ওই সড়কের উপর নির্মিত আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর বেইলি ব্রীজটি তারাই সংস্কার করবেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন বলেন,ওই ঝুকিপূর্ণ ব্রীজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।