* যে মেঘের রৌদ্র’র নেই *

এম. আর. প্রিন্স এম. আর. প্রিন্স

সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী

প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০ | আপডেট: ১০:২০:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

এম.আর. প্রিন্স :

মেঘ নামক অবুঝ শিশুটির ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্নার আওয়াজ নিরবে নিভৃতে কষ্টের এক অদৃশ্য আর্তনাদ ! ৮ টি বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার নেই, শব্দ নেই, মেঘের কোন রৌদ্রর নেই, বাবা ডাক নেই, মায়ের মমতা নেই ! বহুকাল ধরেই দেশ স্বাধীন আছে। কিন্তু স্বাধীনতার উপকরণ গুলোর যথার্থতা নেই !

নেই নেই শব্দেই বড় হচ্ছে মে ঘ । শিশু থেকে কিশোরে, কিশোর থেকে যৌবনে, যৌবন থেকে সুখের উল্লাসে কিংবা বৃদ্ধে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই ! কারন অবুঝ শিশু মেঘে’র প্রিয় বাবা মা তার চোখের সামনে যৌবনেই সবচেয়ে নিরাপদ থাকার মানুষের যে স্থান ‘ নিজগৃহ ‘ সেখানেই নির্মমভাবে খুন হয়েছে। যারা অন্যের সংবাদ শিরোনাম করে তারাই তখন সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। তাহলে এই বস্তুনিষ্ঠ সৎ সাহসী সাংবাদিকতার অর্থ কি? কোন প্রশ্নের জবাব খুঁজে পায়না মেঘ ! শীত বসন্তেও মেঘের জীবনে ঘন কালো অন্ধকার মেঘ, সর্বদাই কান্নার বৃষ্টি ! এ কান্না বারো মাসী ।

সাহসী সাংবাদিক সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি’র খুনের তদন্ত সঠিক পথে নেই ! তাই দীর্ঘ ৮ বছরেও তদন্ত কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই ।
২০১২ সালের ১১ই ফ্রেরুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হয় এই দম্পতি । তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনীদের গ্রেফতারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়ে ছিলেন, তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু এরপরই অজানা রহস্যে থমকে যায় সবকিছু। শুরু হয় পরিকল্পিত নানা ষড়যন্ত্র ও গুজব । এখন মনে হচ্ছে সেই ৪৮ ঘন্টা ছিলো কথার কথা ! ৪৮ ঘন্টা ৪৮ বছরে পরিনত হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই ।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বেরিয়ে আসে অনেক কিছু। প্রভাবশালীদের জড়ানো সহ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও গ্রিলকাটা সিঁধেল চোর তত্ত্বে ছুটাছুটি। থানা পুলিশ, পর্যায়ক্রমে ডিবি পুলিশ, র ্যাব সহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন মামলায় যখন কোন অদৃশ্য বাঁধা বা চাপ থাকে তখন এটি সময় ক্ষেপনের নানা কৌশলে অস্পষ্ট ও দুর্বল হয়। এ নিয়ে সাংবাদিক সংগঠন ও নেতাদের কার্যক্রম দেখে মনে হয় তারা শুধু নিয়ম রক্ষার আন্দোলন করছে। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে দেশব্যাপী কোন জোড়ালো আন্দোলন ও প্রতিবাদ গড়ে তোলা হচ্ছেনা। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৭০ বার পেছানোর পর আবার নতুন করে ২৩ মার্চ ২০২০ নির্ধারণ করেছে আদালত ।