কীভাবে এলো করোনাভাইরাস

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০ | আপডেট: ৫:০১:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

জানা যায়, ২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স নামে ভাইরাসের আক্রমণে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৮০৯৮ জন হয়েছিলেন সংক্রমিত। সেটিও ছিল এক ধরনের করোনাভাইরাস। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, করোনাভাইরাস কোন প্রাণি থেকে ছড়িয়েছে? কেননা একবার ভাইরাসের উৎস শনাক্ত করতে পারলে রোগটি মোকাবেলা করা অনেক সহজ।

করোনাভাইরাস একটি সংক্রামক জীবাণু। যা এর আগে কোনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। ভাইরাসটির অপর নাম ‘২০১৯-এনসিওভি’। এর বিভিন্ন রকম প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ছয়টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরনের ভাইরাসের কারণে এখন সংখ্যা হবে সাতটি।

সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্ক আছে চীনের উহানের দক্ষিণ সমুদ্রের খাবারের পাইকারি বাজারের সঙ্গে। এছাড়াও বেশ কিছু সামুদ্রিক প্রাণি থেকে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। যেমন- বেলুগা তিমি। তবে চীনের ওই পাইকারি বাজারে অনেক জীবন্ত প্রাণিও থাকে। যেমন- মুরগি, বাদুর, খরগোশ, সাপ। এসব প্রাণীও করোনাভাইরাসের উৎস হতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, চীনের ‘হর্সশু’ নামের একপ্রকার বাদুরের সঙ্গে এ ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। কোনো একটি প্রাণি থেকে এসে এসব ভাইরাস মানব শরীরে বাসা বাধতে শুরু করে। সার্স ভাইরাস যেভাবে প্রথমে বাদুরের শরীর থেকে খাটাশের শরীরে, এরপর সেটি মানব শরীরে চলে আসে।

মনে রাখবেন, জ্বর দিয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। এরপর শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়।

এই ভাইরাস সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কী জানা গেছে

চীনে নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গত শনি ও রবিবারে তিন গুন বেড়ে গেছে। ভাইরাসটি এখন উহান থেকে অন্যান্য বড় বড় শহরেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

এক কোটিরও বেশি মানুষের শহর উহানে নতুন করে ১৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। রাজধানী বেইজিং-এ আক্রান্ত হয়েছে আরো দুজন এবং শেনঝেনে এখনও পর্যন্ত একজন আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

এনিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০ জনে। এর মধ্যে তিনজন মারাও গেছেন।

কিন্তু যুক্তরাজ্যে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা সরকারি হিসেবের চাইতেও অনেক বেশি। তাদের ধারণা প্রায় ১,৭০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

ভাইরাসটির নাম করোনাভাইরাস।

লোকজন এই ভাইরাসে এমন এক সময়ে আক্রান্ত হচ্ছে যখন চীনে নতুন বছরে উদযাপনের জন্যে লাখ লাখ মানুষ ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বছরের এই সময়ে তারা এক সপ্তাহের মতো ছুটি কাটায় যখন তারা নিজেদের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের কাছে বেড়াতে যায়। একারণে এই ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চীনে স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ভাইরাসটি প্রতিরোধ-যোগ্য এবং একে নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব।

কর্মকর্তারা বলছেন, যারাই উহান শহর ছেড়ে অন্যান্য শহরে যাবে তাদের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা হবে।