শেষদিকে পারিবারিক হিসাব!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৯:৪২:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস আওয়ামী লীগ পরিবারের সস্তান। অন্যদিকে দক্ষিণের ইশরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার পুত্র-এম খোকন সিকদার

  • বিএনপি ব্যস্ত রাজনীতি নিয়ে, আমরা ব্যস্ত উন্নয়নে : তাপস
  • শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো, স্বৈরাচারকে বিদায় করবো : ইশরাক
  • আমার নির্বাচনি ইশতেহারে থাকবে চমক : আতিকুল
  • ধানের শীষে ভোট দিলে খালেদা জিয়া আটক থাকবে না : তাবিথ

ভোটের বাকি পাঁচদি*ন। শেষ মুহূর্তে রাজনীতির ন*য়া হিসাব পরিবার নিয়ে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দ*ল আও*য়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে আর বিএনপি নেত্রী কারাবন্দি খালেদা জিয়াও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

এ দুই হিসাবে এখন চলছে নানা স*মীকরণ। অনেকেই ব*লছেন, ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপ*স আওয়ামী লীগ পরিবারের সস্তান, তার দল ক্ষম*তায়, তার ফুপু দেশে*র প্রধানমন্ত্রী, তিনি কি ফুপুর ক্ষম*তার প্রভাবে জয়ী হতে পারবেন?

অন্যদিকে দক্ষিণের ই*শরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়*র প্রয়াত সাদেক হোসে*ন খোকার পুত্র। খোকা ছিলেন রাজনীতির শীর্ষে, সবার কাছে প্রিয়। এখনো ঢাকার বুকে সাদেক হোসে*ন খোকার করে যাওয়া উন্নয়নের চিত্র ভাসছে। ইশরাকও যেখানে যাচ্ছেন, বাবার কারণে সবার স*হমর্মিতা পাচ্ছেন।

তবে আওয়ামী লীগের পারি*বারিক দাপট কোনোভাবেই নির্বাচনে*র মাঠে পড়বে না বলে দাবি করেছে*ন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘কোনো প্রার্থী বা পরিবারের প্রভাব পড়বে না নির্বাচনে। আর কে কোন পরি*বারের সেটা আমার দেখার বিষয় ন*য়। এই দেশটার মালিক হচ্ছে জনগণ। এ দেশ*টা কারো পারিবারিক সম্পত্তি *ন*য়। আমি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো।’

ইশরাকের এমন পাল্টা বক্তব্যে ফজলে নূর তাপ*স বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ঢাকা গড়ার কাছে ব্যস্ত রয়েছে, কিন্তু বিএনপি রয়েছে জাতীয় রাজনীতি নিয়ে। এদিকে দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম আজ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবেন।

তার ইশতেহারে চমক থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে বিএ*নপির প্রার্থী তাবি*থ আউয়াল দিয়েছেন প্রতিশ্রুতি, তিনি নির্বাচিত হলে বস্তির লোকজনের জন্য কাজ করবেন এবং এও বলেছেন, এবার জনগণ ধানের শীষে ভোট দিলে খালেদা জিয়াকে আর আটক রাখা যাবে না।

রাজধানীবাসীর জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির অংশ হিসেবে বিভি*ন্ন অ*ভিযোগ নিয়ে বিএ*নপি সমর্থিত প্রার্থীরা ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী শেখ ফ*জলে নূর তা*পস।

গতকাল শনিবার বাবুবাজার সেতু এলাকা*য় গণসংযোগে তিনি এ মন্তব্য করে*ন। তাপস বলেন, ‘আম*রা গণসংযোগ করছি, বিপুল নেতাকর্মীসহ আমরা দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আম*রা লক্ষ করছি, আমা*দের প্রতিপক্ষ শুধু অভি*যোগ নিয়ে ব্যস্ত। তা*দের ঢাকাবা*সীর জন্য কোনো উন্নয়নের রূপরেখা নেই। ঢা*কাবাসীর উন্নত জীবনযাত্রার মান* উন্নয়নে তাদের কোনো *কার্যক্রম নেই। তারা জাতীয় রা*জনীতি নিয়ে ব্যস্ত, আর আমরা ঢাকা*বাসীর উন্নয়ন নিয়ে গণসংযোগ নিয়ে ব্যস্ত।’

আগামী ২৮ অথবা ২৯ তারিখে*র মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহার প্র*কাশ করা হতে পারে জানিয়ে নৌকার প্রার্থী বলেন*, ‘আমাদের পাঁচটি রূপরেখা— ঐতিহ্যে*র ঢাকা, সুন্দর *ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত *ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা গ*ড়ার লক্ষ্যে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। আমি মনে করি, ঢাকাবাসীর জ*ন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।

এই নির্বাচনে ঢাকাবাসীর রা*য়ের মাধ্যমেই উন্নত ঢাকা গড়া*র লক্ষ্যে একটি নবসূচনা, নবযাত্রা আম*রা করতে চাই। আমি আশা করি, ঢাকাবাসী সেই উন্নত ঢাকা গড়তে তাদে*র রায় নৌকা মার্কায় দিয়ে তাদের সেবক হিসেবে আমাকে নির্বাচিত ক*রবে। একই সঙ্গে নিজ নিজ ওয়ার্ডের কাউন্সির প্রার্থীদের নির্বাচিত করে উন্ন*ত ঢাকা গড়ার পক্ষে রায় দেবে।

এসময় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী এম এ মান্নান (লাটিম প্রতীক) এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলরপ্রার্থী মো. আব্দুর রহমান মিয়াজীকে (ঘুড়ি প্রতীক) পরিচয় করিয়ে দেন তাপস।

আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার না করার জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো প্রার্থী বা পরিবারের প্রভাব পড়বে না নির্বাচনে। কারণ, দেশটা কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়। গতকাল শনিবার গোপীবাগের নিজ বাসায় নির্বাচনি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি যতটুক জানি, উনি (তাপস) একজন সজ্জন ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক এবং আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, নির্বাচনে কোনো প্রকার ইনফ্লুয়েন্স করবেন না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপরে নির্বাচনি ফলাফল যা হবে আমরা তা মেনে নেবো। কিন্তু এতে কারচুপি হলে জনগণ কোনোভাবেই সেটা মেনে নেবে না।’

আপনাদের শারীরিকভাবে বা প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ প্রতিপক্ষ বলছেন সঠিক নয়— এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমার পাশে এখনো মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে একজন দাঁড়িয়ে আছেন। উনার নাম আমিনুল ইসলাম, উনি ৫৬ ওয়ার্ডের কামরাঙ্গীরচর এলাকার আমাদের একজন কর্মী।

তিনি শুক্রবার ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। আর কে অস্বীকার করলো না করলো সেটাতে কিছু যায় আসে না। বাস্তবতা তো থেকেই যায়। তার মতো আরো অনেককেই আহত করা হয়েছেন।

গত কয়েকদিন আগে আমাদের ৪১ নম্বর কাউন্সিলর প্রার্থীকেও ফিজিক্যালি আহত করা হয়েছে। আমি এ বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।তারপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তারপরও বলবেন সঠিক নয়! দেশটা কারো জমিদারি নয়, উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরাও কারো কথায় পরোয়া করি না।

উনারা কি বললেন, না বললেন তাতে কিছু যায় আসে না। যেটা দৃশ্যমান সেটা আপনারা তো দেখছেন। এটা কারো নিজের দেশ নয়। এটা আমাদেরও দেশ। এখানে কারো জমিদারি চলবে না। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার।’

আপনার প্রতিপক্ষ মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, তার দল ক্ষমতায়, তার ফুপু দেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কি ফুপুর ক্ষমতার জোরে প্রভাবে জয়ী হবেন কি-না, এমন প্রশ্নে ইশরাক বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, এই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমার প্রতিপক্ষ কোন পরিবারের সেটা আমি বড় করে দেখতে চাই না।

কারণ এই দল থেকে যারা মনোনয়ন পাবে, সবাই তো দলের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা পাবে। আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা তো রাষ্ট্রযন্ত্র দলীয়করণ করেছে। আর কে কোন পরিবারের সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। এই দেশটার মালিক হচ্ছে জনগণ। এ দেশটা কারো পরিবারিক সম্পত্তি নয়। আমি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো। জনগণকে সাথে নিয়ে এই স্বৈরাচারকে বিদায় করবো।

ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

গতকাল শনিবার দুপুরে নির্বাচনি প্রচারের ১৬তম দিনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নদ্দা এলাকার কালাচাঁদপুর মোড়ে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে এসব কথা বলেন আতিকুল ইসলাম। আজ রোববার নির্বাচনি ইশতেহার দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

‘রোববার আমার নির্বাচনি ইশতেহার দেবো। সেখানে চমক থাকবে। আর সচল, সুস্থ ও মানবিক ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার থাকবে।’ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আর বেশি দিন বাকি নেই। আজ বাদে ছয় দিন আছে।

এ ছয় দিনে সব ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে হবে।’ তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান ভোটারদের গিয়ে বলতে হবে, একটি আধুনিক ও যানজটমুক্ত শহর গড়তে নৌকায় ভোট দিতে।

এরপর সাইকেল চালিয়ে কালাচাঁদপুর বাজারে প্রচার চালান আতিকুল ইসলাম। তবে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে জেনে কালাচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালাচাঁদপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেননি তিনি ।

এরপর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে প্রগতি সরণিতে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চাই না কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হোক। এ জন্য স্কুলের মাঠের সমাবেশ বাতিল করে দিয়েছি। এ কাজে কাউকে উৎসাহ দেবো না। আমি চাই না নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো শিশু বা ছাত্রছাত্রী থাকুক।’

ঢাকা উত্তরে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, রাজধানীর বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করতে বারবার পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। বস্তিবাসীরা অনেক কষ্টে আছেন। আমরা নির্বাচিত হতে পারলে তাদের পুনর্বাসন করবো।

গতকাল শনিবার মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন কাঁচাবাজার এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ শুরুর প্রাক্কালে এসব কথা বলেন তাবিথ আউয়াল। বিএনপি মনোনীত এ মেয়রপ্রার্থী আরও ব?লেন, মিরপুরে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা চলছে। আমরা বিজয়ী হলে এসব নির্মূলে কাজ কর?বো। কাউকে অন্যায় করতে দেয়া হবে না। মিরপুর গার্মেন্ট শিল্প এলাকা।

কিন্তু এখানে কর্মীদের নিরাপত্তা নেই। তাদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করবো। এসময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখার সমালোচনা করে তাবিথ আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের সঙ্গে কখনো

আপস করেননি বলেই মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ১ ফেব্রয়ারি ধানের শীষে ভোট দিলে তা খালেদা জিয়ার পক্ষে যাবে। তাকে আটক রাখা যাবে না।’