‘দোস্ত এইড’ ও একজন ছোটনের গল্প

এ আল মামুন এ আল মামুন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৯:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০ | আপডেট: ৯:২৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

কি পাঠক! শিরোনাম পড়ে কি এর বিষয়বস্তু নিয়ে বিভ্রান্ত। না মোটেও আর কোন বিভ্রান্তি নয়। আজ আপনাদেরকে বলবো একটি গল্প। যে গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি নাম, একটি সংকল্প আর সাধনা। ‘মানবতার সেবায় এক ধাপ এগিয়ে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে সম্প্রতি দেশে কার্যক্রম শুরু করেছে ‘দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি’। সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে সংগঠনটির চেয়ারম্যান সমাজসেবক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে এক ঝাঁক নিবেদিত প্রাণ তরুণের প্রচেষ্টায় দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে ‘দোস্ত এইড’। এরই মধ্যে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে সংগঠনটি। আজকের গল্প এটিকে কেন্দ্র করেই।

কি ও কেন ‘দোস্ত এইড’ এর চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ছোটন জানান, ‘আমার জন্য ও বেড়ে ওঠা জামালপুর জেলার এক নিভৃত গ্রামে। সেখানে থাকাকালীন খুব কাজ থেকে আমার দেখার সুযোগ হয়েছে মানুষের কষ্টকর জীবন সংগ্রামকে। নদী ভাঙ্গন, বন্যা, কর্মহীন মানুষের একবেলা খাবার সংগ্রহের যুদ্ধ আমাকে পীড়া দিয়েছে। কিন্তু নীরবে চোখের পানি বিসর্জন ও আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করা ছাড়া আমার আর করার কিছুই ছিল না। তখন থেকেই ভিতরে জিদ কাজ করতো, জীবনে যদি কখনো সুযোগ আসে এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্পে প্রস্তুত করি নিজেকে। আর সকলের দোয়া আল্লাহর অশেষ রহমতে যখন পর্যায়ক্রমে তুরস্ক ও জার্মানিতে স্কলারশিপের সুযোগ আসে, তখন দেশের একটি প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া ছেড়ে পাড়ি জমায় তুরস্কে। সেখান থেকে জার্মানিতে। নিজের জন্য বা ভিন্ন কোন ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা না করে মানুষের জন্য কাজ করার বিষয়টি সামনে রেখে কাজ করে যেতে থাকি, কাজ শুরু করি ফান্ড সংগ্রহের। সেই ধারাবাহিকতায় এবং আপনাদের সকলের সহযোগিতায় অবশেষে আপনাদের ‘দোস্ত এইড’। খুব বেশি সামর্থ্য আমার নেই। তবে আছে দুরন্ত ইচ্ছা আর কঠিন সংকল্প। আপনাদের সহযোগিতা ও মহান আল্লাহর রহমত সঙ্গে থাকলে ইনশাআল্লাহ, মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করে যাবো অসহায় ও অবহেলিত মানুষের কল্যাণে।’

বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে মানব হিতৈষী যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে পারবেন ‘দোস্ত এইডে’র কার্যক্রমে। আর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েব সাইটে।সম্প্রতি তুরস্কের কার্ডেসেলি ও দোস্ত এইডের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অসহায় এতিম ছাত্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে। এ সময় অসহায় মানুষের মাঝে রিকশা এবং ভ্যানও বিতরণ দেয়া হয়। বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন একটি প্রতিনিধি দল।

দোস্ত এইডের কার্যক্রমের প্রশংসা করে এবলুম বাংলা’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাব্বির সামি বলেন, শুরুতেই দোস্ত এইডে’র প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর আলম ছোটনের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সমাজ উন্নয়ন মূলক যে ব্রতকে সামনে রেখে যে পথচলা শুরু হয়েছে, তা যদি সমুন্নত রাখা সম্ভব হয় তাহলে তাঁর এ মহতী উদ্যোগ নিয়ে তা তরুণদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পাশাপাশি এটি সুখী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করবে।

এদিকে, দোস্ত এইডে’র বর্তমান কার্যক্রমের প্রশংসা করে তাদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সায়েদুল এবং সম্পাদক সাংবাদিক ও সমাজসেবক রোজিনা খাতুন।

এ বিষয়ে সংগঠনটির অন্যতম উদ্যোক্তা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরওয়ার হোসেন মোহন বলেন, ‘আমরা এ সংগঠনের মাধ্যমে দেশে সমাজসেবার ধারণাটি বদলে দিতে চাই। আর তাই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জড়িত, মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ কিছু ব্যক্তি ও তরুণদের মাধ্যমে একটি সক্রিয় টিম আমরা গঠন করেছি। শুধু সাহায্য দিয়ে নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীতে এগিয়ে নিতে চাই আমরা। চাই সোনার বাংলা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখতে।’

এই সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরে দোস্ত এইড সোসাইটির চেয়ারম্যান তরুণ সমাজসেবক জাহাঙ্গীর আলম ছোটন বলেন, ‘আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে এই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ সুপেয় পানির টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। ঈদে দরিদ্র মানুষের নতুন পোশাক নিশ্চিত করণের পাশাপাশি গত বছরের ন্যায় প্রতি কোরবানিতে আমরা দরিদ্রদের জন্য ২৫০টি গরু কোরবানির মাধ্যমে তাদের ঈদ আনন্দ উদযাপনটি নিশ্চিত করতে চাই। সঙ্গে সত্যিকার শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নমূলক সকল কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকবে আমাদের সংগঠন।’

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, একইসঙ্গে এতিমদের নতুন কাপড় প্রদান, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, স্কলারশিপ প্রদান, রিকশা- ভ্যান, সেলাই মেশিন, ফুড প্যাকেজ, রমজানের সময় ইফতার, মসজিদ ও মাদ্রাসার ওজুখানা স্থাপনসহ ধর্ম, দল, মত নির্বিশেষে দেশের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে আমাদের সংস্থা।’