রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত নিরসন না হলে, আরেক ফিলিস্তিন সৃষ্টি হবে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

এডিটর প্যানেল

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭ | আপডেট: ৬:০৬:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭
রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত নিরসন না হলে, আরেক ফিলিস্তিন সৃষ্টি হবে

রাশিদ রিয়াজ : রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক বিশ্ব কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নিতে পারলে এ সমস্যা আরেকটি ফিলিস্তিনের জন্ম দেবে। গত মঙ্গলবার স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে আলজেরিয়ার এক প্রতিনিধি দল সাক্ষাতে এমন বলেছেন। মিডিল ইস্ট মনিটর এ খবর দিয়ে বলছে, রোহিঙ্গা সংকট জরুরি সতর্ক বার্তা দিচ্ছে এবং তা হচ্ছে ফিলিস্তিন সমস্যার অনেক উপাদানই এক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ সমস্যার দিকে দ্রুত নজর না দিলে তা বড় ধরনের মানব বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।

আইআরও চেয়ারম্যান মাহমুদ কামাল বাদাবির পরিবার থাকেন গাজায়। তবে তিনি জার্মানির নাগরিক। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি সংকটের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের অনেক মিল আছে। তবে বাংলাদেশে তারা আশ্রয় পেয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ, নির্বিচারে গণধর্ষণ ও লুটপাট থেকে রক্ষা পেয়েছে। ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলিদের হাতে এখনো নির্যাতনের শিকার। তবে যতক্ষণ না রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর উদ্যোগ নিবে ততক্ষণ এ পরিস্থিতি আরো বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে মোড় নিতে পারে। যা ফিলিস্তিনে হয়েছিল।

আলজেরিয়ার সাংসদ ইউসেফ আদজিসা বলেন, আমি ভীত এ কারণে যে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শীঘ্রই হচ্ছে না। এজন্যেই এ সংকট ফিলিস্তিনি সংকটের মত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে ইসরায়েল ক্রমাগত আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণ করলেও বিশ্ববাসী এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি, ফলে ফিলিস্তিনিরা শরণার্থী শিবিরে আটকে থেকেছে, কারো পক্ষে অভিবাসী হিসেবে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। এধরনের ঘটনা রোহিঙ্গাদের নিয়ে পুনরায় ঘটতে দেওয়া যায় না।

স্পিকারকে বাদাবি বলেন, রোহিঙ্গাদের দেখলে আমার ফিলিস্তিনের কথা মনে পড়ে। জনাব বাদাবি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের যে সব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে তা তাদের আইনী লড়াইয়ে সহায়ক হবে। সার্বজনীন বিচার ব্যবস্থায় তাদের এ অমূল্য তথ্যাবলী প্রমাণ করা উচিত। শুধু তাদের ত্রাণ, ওষুধ ও সাহায্য দেওয়াই যথেষ্ট নয়, একই সঙ্গে এটাও জরুরি যে তারা যাতে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন ও যুদ্ধাপরাধের বিচার পায়।

আলজেরিয়ার সাংসদ ইউসেফ আদজিসা ঢাকায় বিভিন্ন দেশের সংসদীয় দলের মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ কমিটি’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আইআরও ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ওপর তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন এনজিও’র সঙ্গে কাজ করছে। তাদের আইনগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। -আমাদের সময়.কম