ঢাবিছাত্রী ধর্ষণ: মজনুর মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে মানববন্ধন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২০ | আপডেট: ১০:২১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় আটক মজনুর দ্রুত মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে গণঅবস্থান, পদযাত্রা ও মানববন্ধন করেছেন ঢাবির শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান। বুধবার (৮ জানুয়ারি) শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি), রোকেয়া হলসহ ঢাবির এলাকায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মসূচি থেকে তারা এই দাবি জানান।

দেশে প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলছেন, দেশে শুধু একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে না। প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। কিন্তু কোনও ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় নারীর প্রতি এ ধরনের নির্যাতন বেড়েই চলেছে। তারা সব ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।

ধর্ষণের ঘটনার প্রথম দিন রাত থেকে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সোচ্চার রয়েছে ছাত্রলীগ। ধর্ষণের প্রতিবাদে মশাল মিছিল ছাড়াও রোকেয়া হল থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আল্পনা এঁকে প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা ধর্ষকের এমন শাস্তি চাই, যেটা ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যা দেখে ধর্ষকরা ভয় পাবে। অবশ্যই শাস্তি যেন আইনের ভিত্তিতেই হয়। আর দেশের আইনের সংশোধনের মাধ্যমে যেন ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়।’

ছাত্রদলও ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি পেশসহ মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আমরা চাই, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি যেন মৃত্যুদণ্ড হয়। আর এ ধরনের শাস্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে যদি আইনি জটিলতা থাকে, তাও যেন পরিবর্তন করা হয়। না হলে এ ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’

এদিকে, ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন,‘আমাদের প্রত্যাশা, ধর্ষকের যেন দ্রুত মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত হয়। সমাজ থেকে এ ধরনের ঘটনার হ্রাস করতে হলে, সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে যৌনশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন তো সব সময় ধর্ষণের বিরুদ্ধে চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সে ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে, ধর্ষণের অভিযোগে মজুনকে গ্রেফতারের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন পালন করছেন। এসময় তারা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের আহ্বায়ক আল কাদেরী জয় বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল, প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। আর এ ধরনের ঘটনা তো আজকেই প্রথম বা আজকেই শেষ নয়। প্রতিনিয়ত দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আর দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্যই ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটছে।’

ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘প্রকৃত ধর্ষককে চিহ্নিত করতে যেন ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘যাকে ধর্ষক বলে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে প্রকৃত ধর্ষক কিনা, তা চিহ্নিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করার দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তিরও দাবি জানাচ্ছি। ’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘আমারা দ্রুত ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

প্রসঙ্গত, রবিবার (৫ জানুয়ারি) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্টপেজে নামার পর তাকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে ফুটপাতের ঝোপে নিয়ে ধর্ষণ করে। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ওই শিক্ষার্থী রিকশায় করে বান্ধবীর বাসায় যান। সেখান থেকে বান্ধবীসহ অন্য সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।

এদিকে, এ ঘটনার পর ওই দিন রাত থেকেই ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে ঢাবির শিক্ষার্থীরা ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ, মশাল মিছিল, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছেন। ইতোমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার (৮ জানুয়ারি) মজনু নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন র‌্যাবের সদস্যরা।