স্মার্ট ফোনেই ধ্বংস গ্রামিন খেলাধুলা!

আরিফ হোসেন আরিফ হোসেন

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯ | আপডেট: ৩:৩০:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

বরিশালের বাবুগঞ্জ থেকে বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন খেলা-ধুলা। বর্তমানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই আজ বিলুপ্তির পথে। এ জন্য সুশিল সমাজ দায়ী করছেন প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও স্মার্ট ফোনকে। উপজেলর সর্বশ্রধাভাজন সাবেক প্রধান শিক্ষক ইসহাক মাষ্টার বলেন, তরুণ ছেলে-মেয়েদের হাতে হাতে স্মার্ট ফোন চলে আসায় গ্রামিন খেলাধুলা ভুলতে বসেছে তারা। বিকালে খেলার মাঠে কাউকে দেখা যায় না, মাঠের কোনে মাথা গুজে মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে এই প্রজন্ম। এর ভয়াবহতা একদিন দেশ ও জাতী উপলব্দি করবে। অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার ,ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা দরকার।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামাঞ্চলে এক সময় প্রায় শতাধিক গ্রামীন খেলা-ধুলার প্রচলন ছিল। তার মধ্যে ছেলেরা খেলত হা-ডু-ডু, ডাংগুলি, কাবাডি, গোল্লা ছুট, খেটে খেলা, দৌড়-ঝাঁপ, কপালটোকা, কানামাছি ভোঁ ভোঁ, সাত পাতা, ডুব সাঁতার , নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা , ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, হৈল বৈল, বস্তাদৌড়, লুকোচুরিসহ , দাঁড়িয়াবাঁধা, এক্কাদোক্কা, পাঁচগুটি, চোরপুলিশ, বৌ-ছি, কিতকিত, কড়ি খেলা, বালিশ বদল, লুকোচুরি, পুতুল খেলা, রান্নাবাটিসহ অনেক খেলা।
এসমস্ত খেলাগুলোর অধিকাংশই এখন বিলুপ্তির পথে। তার মধ্যে এখনও হা-ডু-ডু, কাবাডি, লাঠিখেলাসহ হাতেগোনা কয়েকটি খেলা সকের বসে খেলতে দেখা যায়। এখনও গ্রামাঞ্চলে পহেলা বৈশাখ, মহররম ও গ্রামীণ মেলার সময় এসব খেলা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। এসব ঐতিহ্যবাহী খেলা-ধুলার পরিবর্তে অনেক দিন আগেই এদেশে প্রচলন হয় ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার। বর্তমানে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও খেলার মাঠের স্বল্পতার কারনে বিপন্ন অবস্থায়। ক্রিকেট খেলা আমাদের দেশীয় খেলা না হলেও অন্যান্য দেশের মত বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচলিত খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব খেলায় প্রযুক্তির ছোবলে আগ্রহ হারাচ্ছে এই প্রজন্ম।
এখন দোকান পাট থেকে শুরু করে সব যায়গায় স্মার্টফোনে লুডু খেলায় মেতেছে কিশোর-যুবকরা। লুডু খেলার নামে জুয়ায় আসক্ত হচ্ছে তারা।
এব্যপারে বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লুডু খেলার নাম করে রাস্তার ধারেই জুয়ায় মক্ত হচ্ছে যুব সমাজ। আমাদের পক্ষ থেকে সচেতনতা মূলক কাজ করছি। এ ব্যপারে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের খোজ নেয়া উচিত সন্তানরা স্মার্ট ফোন কি কাজে ব্যবহার করছে।
বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জহিরুল হাসান অরুন বলেন, পড়াশুনা যেমন ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ ঘটায় তেমনি শারীরিক বিকাশ ঘটাতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। আগেকার দিনে গ্রামাঞ্চলে হা-ডু-ডু, কাবাডি ও লাঠিখেলার জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা চলত। বিভিন্ন গ্রামে এসব খেলার জমজমাট আয়োজন হতো। এসব খেলা দেখার জন্য অনেক দুর দুরান্ত থেকে মানুষ দলে দলে এসে উপস্থিত হতো খেলার মাঠে। অনেক খেলোয়াড় টাকার বিনিময়েও বিভিন্ন দলের হয়ে খেলতো। তাতে করে ভালো খেলে যেমন টাকাসহ নানারকম পুরস্কার মিলতো সেইসাথে ভালো খেলোয়াড় হিসাবে এলাকায় ছড়িয়ে পড়তো তার খ্যাতি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এসমস্ত খেলোয়াড়দেরকে অনেক সম্মান করতো।
এ অবস্থা চলতে থাকলে হয়ত অচিরেই গ্রামীন খেলা-ধুলা আমাদের সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাবে। পরিণত হবে রূপকথার গল্পে। তবে এখনও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নিলে হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলোর অনেকটাই টিকেয়ে রাখা সম্ভব। গ্রামীন খেলা-ধুলার সাথে রয়েছে আমাদের পূর্ব পূরুষদের সম্পর্ক। তাই তাদের স্মৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমাদের উচিত এসমস্ত খেলা-ধুলার আয়োজন করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর পরিচিতি ও তার সুফল লাভের জন্য আকৃষ্ট করা।