জাবিতে দাবির মুখে সকল পর্যায়ে নতুন নিয়োগ বন্ধের ঘোষণা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৪৭:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

শাহাদাত সুমন,জাবি প্রতিনিধিঃশিক্ষকদের একাংশের বাঁধার মুখে একজন শিক্ষক নিয়োগ ও দু’জন শিক্ষ*ককে স্থায়ী করার সিলেকশ*ন বোর্ড স্থগিত করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ এটি নিশ্চিত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্র*শাসনিক ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে স*ভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের’ একদল শিক্ষক সেখানে যান।

একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের সাথে ইনস্টিটিউট অব রিমোর্ট সেন্সিংয়ের (আইআরএস) একজন শিক্ষক নি*য়োগ ও মার্কেটিং বিভাগের দু’জন শিক্ষককে স্থায়ী করার বিষয়ে আলোচনায় বসেন।

এসময় উপাচার্য ক্লাস, পরীক্ষায় বাঁধা সৃষ্টি হয় এম*ন কোন কর্মসূচি না দিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা উপাচার্যের অনুরোধ মেনে নিয়ে উপাচার্যের কাছে দাবি জানান, নতুন করে কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়া যাবেনা। নতুন করে শিক্ষ*ক নিয়োগ দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

তবে শিক্ষকদের স্থায়ীকরণের সভা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। সেসময় উপা*চার্য আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। উপাচার্যের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন*কারী শিক্ষকরা সেখান থেকে চলে আসেন। এরপরও বিকেলে আবার ইন্সটিটিউট অব রিমোট সেন্সিং এ নতুন শিক্ষক নিয়োগের সিলেকশন বোর্ড বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

পরে বিকেল তিনটার দিকে উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকেরা আবার সেখানে যান। তাঁরা নিয়োগের এ বোর্ড অবৈধ দাবি করে তা বাতিলে*র দাবি জানান এবং উপাচার্যের অফিসে অ*বস্থান নেন। বিকেল সাড়ে চারটায় উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনায় বসেন। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দি*ন ও খবির উদ্দিন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারে*ক রেজা ও শামীমা সুলতানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ। প্রশাসনের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) নুরু*ল আলম ও কোষাধ্যক্ষ শেখ মো. মনজুরু*ল হক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে দুই পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপাতত নতুন শিক্ষক নিয়োগের সিলেক*শন বোর্ড বসবে না।

এ বিষয়ে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের সদস্য সচিব অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ আছে। তথ্য-উপাত্তসহ তাঁর বিরুদ্ধে আনা ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে নতুন করে কোন শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড হতে পারেনা। আমাদের কথাগুলো শুনে উপাচার্য সিলেকশন বোর্ড বাতিল করেছেন।’

এরপর, সমসাময়িক নিয়োগ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ। বিজ্ঞপ্তিতে তারা ভিসিকে দুর্নীতিগ্রস্থ এবং হামলার মদদদাতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহের তদন্ত চলাকালীন তিনি যদি নিয়োগসহ কোনো নীতি-নির্ধারণী কর্মকান্ডে অংশ নেন, তাহলে ক্যাম্পাস পুনরায় অস্থিতিশীল হওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।’

তারা আরও বলেন, ”বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিমোর্ট সেনসিং- যার ডিগ্রি প্রোগ্রাম এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদন পায়নি, সেই ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এই ইনস্টিটিউট ঘিরে অনেক ধরনের অনিয়মের বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।”