স্বপনকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় বাবুগঞ্জের নেতৃবৃন্দ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩৯:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ পরিবারের বিশ্বস্ত হাতিয়ার এস এম খালেদ হোসেন স্বপনকে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই। এস এম খালেদ হোসেন স্বপন ২১-০২-১৯৭২ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলার তৎকালীন আগরপুর (বর্তমান ১নং বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর) ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি ঠাকুরমল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে এসএসসি পাস করে শের-ই বাংলা ডিগ্রী কলেজ থেকে যথাক্রমে এইচএসসি ও স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। এসময় তিনি ‘ছাত্রদল- শিবির’ বিরোধী ‘সম্মিলিত ছাত্র সমাজ’ থেকে কলেজ সংসদে ক্রীড়া সম্পাদক ও জিএস পদে নির্বাচন করেন।

ছোটবেলা থেকেই সাহসী এই নেতা ১৯৯৭ সালে দক্ষিণাঞ্চল আওয়ামীলীগের অভিভাবক জননেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্’র হাত ধরে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সাংগঠনিক দক্ষতা, মেধা এবং প্রজ্ঞা দিয়ে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ২০০২ সালে তিনি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।এরপরে মাত্র ৩১ বছর বয়সে ২০০৩ সালে ততকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আওয়ামীলীগ মনোনিত দক্ষিনাঞ্চলের সর্বকনিষ্ঠ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ৩২ বছর বয়সে ২০০৪ সালে ধানমন্ডি ৩/১ সভানেত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আওয়ামীলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার সাথে সাথে এস এম খালেদ হোসেন স্বপন এবং তার পরিবারের উপরে নেমে আসে বিএনপি-জামায়াত ক্যাডারদের নির্মম অমানিশার কালো থাবা।একের পর এক মামলা-হামলা এবং নির্যাতনের স্বীকার হতে থাকেন তিনি এবং তার পরিবার।এমনকি তাকে না পেয়ে তার বাড়িতে একাধিক বার হামলা, ঘর কোপানোসহ তার মায়ের হাতের আঙ্গুল ভেঙে দেয় ততকালীন জোট সন্ত্রাসীরা।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারণী মহলের উপরে গ্রেনেড হামলা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় এস এম খালেদ হোসেন স্বপনকে কোন মামলা ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করে এবং পর্যায়ক্রমে ১৩টি মামলার আসামী করে।মিথ্যা হয়রানিমূলক এসব মামলায় একই সময়ে তিনি, তার পিতা, চাচা ও ভাই একত্রে জেল খাটেন (যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা)। দীর্ঘদিন জেল খেটে তার বাবা,চাচা এবং ভাই জামিনে বের হলেও তাকে দীর্ঘ ২৯ মাস জেলে থাকতে হয়।খালেদ হোসেন স্বপন জেলে থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালে আদালতে হাজিরা দিয়ে ফিরে আসার পথে রাত্রি যাপনকালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে তার পিতা আলহাজ্ব আবুল কাশেম সরদারকে হত্যা করে(যা প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের বরিশালের জনসভার শোক প্রস্তাবেও উল্লেখ করেন)।বাবার জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য তিনি প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেও তা মঞ্জুর হয়নি এবং তিনি তার বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগটাও পাননি!

২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে বরিশালে হাসানাত বিরোধী কোরাম তাদের পক্ষে কাজ করার শর্তে এস এম খালেদ হোসেন স্বপনকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একক মনোনয়ন দেয়ার প্রস্তাব দেন।কিন্তু খালেদ হোসেন স্বপন তার নেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্’র প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে সব প্রস্তাব নির্দ্বিধায় প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্বেও তাকে হারাতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয় অর্থাৎ দলীয় একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইলেকশন করেন এবং আওয়ামীলীগ সভাপতির চেয়ে অনেক বেশি ভোট পান।

২০১২ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে জনাব খালেদ হোসেন স্বপন পূনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং সভাপতির দায়িত্ব পান তার একই এলাকার বর্ষীয়ান নেতা এ্যাডভোকেট মোঃ সাইদুর রহমান খলীফা।সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা খালেদ হোসেন স্বপন গত প্রায় দেড় যুগ ধরে সফলতার সাথে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

২০১৪ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। যদিও অনেক নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীর পক্ষ নিয়েছিল! উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি সুনামের সাথে তার দায়িত্ব পালন করেন এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদকে একটি স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতার প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করেন।

খালেদ হোসেন স্বপন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আসার আগে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের অবস্থা ছিল খুবই নাজুক।লোকবলের অভাবে কোনো মিছিল-মিটিং-প্রোগ্রাম সফল করা সম্ভব হতনা।যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগে ভঙ্গুর অবস্থা বিরাজ করছিল।সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিরা চলতেন অপরাপর সংগঠনের সাথে আঁতাত করে। এসব কারনে দলে কোনো কর্মী ছিল না, ছিল শুধু নেতা! খালেদ হোসেন স্বপন নেতৃত্বে আসার পর থেকে তিনি তার সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে বাবুগঞ্জ আওয়ামীলীগকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।প্রতিটি ইউনিয়নে তিনি আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করেছেন এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন আওয়ামীলীগের পার্টী অফিস। তিনি ডাক দিলেই হাজার হাজার লোক রাস্তায় চলে আসে।শুধুমাত্র তার যোগ্য নেতৃত্বের কারনেই বাবুগঞ্জ আওয়ামীলীগে আজ রমরমা অবস্থা বিরাজ করছে।

খালেদ হোসেন স্বপন জননেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ পরিবারের খুবই বিশ্বস্ত হওয়ায় বিএনপি-জামায়াত জোট যেমন তাকে সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করে, তেমনি হাসানাত আব্দুল্লাহ্ বিরোধী কোরামের সেই আঁতাতকারীরাও তাকে বড় শত্রু ভাবে।আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ পরিবারের বিশ্বস্ত এবং খুবই জনপ্রিয় হওয়ায় বাবুগঞ্জের সব অপশক্তি এক হয়ে তার পেছনে লেগেছে। তাকে মাইনাস করতে পারলেই তাদের আঁতাতের রাজনীতি কায়েম হবে এবং বাবুগঞ্জ আওয়ামীলীগকে আবারও তারা সেই আগের জায়গায় নিয়ে যেতে পারবে।

দক্ষিণাঞ্চল আওয়ামীলীগের অভিভাবক জননেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্’র কাছে বাবুগঞ্জ আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের একটাই দাবী- বাবুগঞ্জ আওয়ামীলীগকে তিল তিল করে গড়ে তোলা সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী এই নেতাকে বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত করে বাবুগঞ্জ আওয়ামীলীগকে হায়েনা মুক্ত করা হোক।