দশমিনায় সরকারী এ আর টি ডিগ্রী কলেজে পরীক্ষায় চলছে নিরব চাঁদাবাজী

অনিয়ম আর দূর্নীতিতে ভরা দশমিনা সরকারী এআরটি ডিগ্রী কলেজ

ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ আহমেদ

সিনিয়র রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০:০৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৫১:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

আমাদের দশমিনা প্রতিনিধি ফয়েজ আহমেদ জানান:

দশমিনা সরকারী আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রী কলেজের কৃষি বিজ্ঞান, জীব বিদ্যা,উদ্বিদ বিদ্যা , রসায়ন,পদার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যাবহারীক পরীক্ষার নামে, প্রতি বিষয়ের জন্য প্রতিজন ছাত্র-ছাত্রীকে দিতে হচ্ছে ১০০টাকা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,আন্তঃ পরীক্ষায় ব্যাবহারীক পরীক্ষার জন্য কোন আলাদা ভাবে ফিস নেয়ার কোন সুযোগ নাই ,নাই কোন সরকারী বিধান । বিজ্ঞান ,বানিজ্য ও মানবিক বিষয় মিলিয়ে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৬৩৭ জন ।

প্রতি জন ১০০ টাকা হারে উত্তলন করলে মোট টাকার পরিমান দাড়ায় ৬৩,৭০০হাজার টাকা। আবার যার ৪টি বিষয় ব্যাবহারিক রয়েছে,তাকে দিতে হয় ২০০ টাকা। তা হলে যার ৪টি বিষয় ব্যাবহারিক রয়েছে,তাকে দিতে হবে ৪০০ টাকা। আবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের প্রভাষক মহোদয় স্টুন্ডেটসদের জানিয়েছেন,আইসিটি প্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার জন্য তাকে দিতে হবে প্রতি স্টুডেন্টকে ২০০টাকা।

 

উক্ত ২০০ হারে টাকা নিয়ে যেতে হবে ঐ প্রভাষকের বাসায়। ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রীরা জানান,ব্যাবহারিক পরীক্ষার খাতা কিনতে হবে একটি নির্দিষ্ট লাইব্রেরী থেকে। অন্যথায় তা গ্রহন করেননা আইসিটি প্রভাষক মোঃ মাহামুদুল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে,এটাকা ভাগ বাটয়ারা হয় মাত্র কয়েক জন শিক্ষককের মধ্যে। সূত্র আরো জানায় , কলেজে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীদের অন লাইন আবেদনের নামে অফিস কম্পিউটার অপারেটর, হাতিয়ে নিচ্ছে,প্রতি স্টুডেন্টস থেকে ২০০ টাকা। সূত্রের দাবী,কলেজের কম্পিউটার,কলেজের মডেম,কলেজের নেট,কলেজের প্রিন্টার ব্যাবহার করে একজন কম্পিউটার অপারেটর কর্তৃপক্ষের বিনানুমোতিতে এমন বানিজ্য করে কিরে। সূত্র জানান,প্রতি আবেদনের জন্য জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের অনুকুলে জমা দিতে হয় ২৫০ টাকা। অথচ ঐ কলেজ কম্পিউটার অপারেটর প্রতি আবেদনের জন্য আদায় করছেন ৪৫০টাকা ।

ভুক্তভোগীরা জানান,ঐ কম্পিউটার অপারেটরের কথামত টাকা না দিলে,বা তার দ্বারা অনলাইনে আবেদন করা না হলে,বিভিন্ন ভাবে হয়রানী হতে হয়। দেখা গেছে,কলেজটি যাদের দ্বারা পরিচালিত হবার কথা,তাদেরকে রাখা হয়েছে বিভিন্ন অজুহাতে অনেক দুরে। আর অধ্যক্ষ সাহেবকে নাম মাত্র পুতুল সাজিয়ে,ফায়দা লুটছেন অন্যরা। এ মর্মে কলেজ অধ্যক্ষ সুচেতা দাস, আজ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রী তারিখের স্বাক্ষরিত ৩১৮(৩)১৯ নং- স্বারকে, প্রভাষক কৃষি লিটন শীল এবং প্রভাষক পর্দাথ বিদ্যা মোঃ আঃ খালেককে তিন দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর নোটিস প্রদান করেছেন বলে জানান,কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও সার্টিফিকেট এবং নম্বরপত্র নিতে কলেজকে দিতে হয় ৬০০টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ টাকা কখনই সরকারী কিংবা কলেজ কোষাগারে জমা হয়না। তাহলে এ টাকাগুলো যায় কোথায় ? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। সুত্র বলছে এরকম অগনিত অনিয়ম আর দূর্নিতিতে ভরা দশমিনা সরকারী আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রী কলেজ।

রয়েছে শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে বিশাল গ্রুপিং। অভিযোগ রয়েছে,কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগেও হয়েছে জেষ্ঠতা লঙ্গন।এ নিয়ে চলছে আদালতে মামলা। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী ও অভিজ্ঞ মহলের দাবী,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অচিরেই দশমিনা সরকারী আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রী কলেজটিকে নিয়ন্ত্রনে আনা না গেলে,বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হবে অত্র কলেজে অধ্যায়রত শিক্ষার্থীরা,অহেতুক লোকসানে পরবে অভিভাবক,আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হবে ঐ সকল দুর্নীতিবাজ শিক্ষক-কর্মচারীরা।

এমর্মে ভারপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যক্ষ সুচেতা দাস এ প্রতিনিধিকে মুঠো ফোনে জানান, বিষয়টি আমিও শুনেছি। আমি এবিষয় নিয়ে তাহাদের সাথে আলোচনা করবো। আন্তঃ পরীক্ষায় এ ধরনের কোন ফি আদায় করার কোন বিধান নাই। তা ছাড়া যাহারা এ টাকা উত্তোলন করছেন,তাহারা আমার সাথে কিংবা কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কোন রকম আলোচনাও করেননি।এটা সর্ম্পৃন অবৈধ এবং বেআইনী। চলবে-