কলাপাড়া হাসপাতালের ডা: লেলিনের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ধ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ | আপডেট: ১০:১৫:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ কলাপাড়ায় শ্বাস কষ্ট জনিত কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পায়ে হেঁটে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মৃত্যু ঘটনায় ডা. জেএইচ খান লেনিন এখন টক অব দ্য টাউন। শনিবার রাত অনুমান ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তির পর একটি অজ্ঞাত ইনজেকশন পুশ করার পর থেমে যায় শামসুল হক তালুকদার (৬০) এর জীবন। ঘটনার পর পর বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক লেনিনকে অবরুদ্ধ করলে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্দোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর পর ইনজেকশনের নাম লেখা প্রেসক্রিপশনটি ডা. লেনিন ছিড়ে ফেলে। এ ঘটনায় স্বজনদের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ থাকলেও এ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ না দেয়ায় ময়না তদন্ত ছাড়াই রবিবার সকালে নিহতের লাশ তার নিজ গ্রাম চাকামইয়া ইউনিয়নের নেওয়াপাড়া গ্রামে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নিহতের বড় ছেলে মিলন তালুকদার (২৮) বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় শ্বাস কষ্ট জনিত কারনে বাবাকে মোটর সাইকেলে নিয়ে হাসপাতালে যাই। হাসপাতালের গেটে মোটর সাইকেল থেকে নেমে বাবা আমার হাত ধরে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লেনিনের কাছে যায়। গ্যাস দেয়ার জন্য কাগজে ঔষধের নাম লিখে দিয়ে তিনি বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। এরপর দোতলায় নিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে তাকে গ্যাস দেয়া হয়। এসময় বাবা আমার সাথে কথা বলছিলেন। কিন্তু এক নার্স বাবার শরীরে ইনজেকশন দেয়ার পর পর বাবা ছটফট করতে শুরু করায় আমি দৌড়ে ডা. লেনিনের কাছে গেলে তিনি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এখন আর যেতে পারবেন না বলে প্রয়োজনে রোগী বরিশাল নিয়ে যেতে বলেন। আমি ফিরে বাবার কাছে এসে দেখি সব শেষ। আমার সাথে ডা. লেনিন রোগীর কাছে না আসলেও নার্স পরিস্থিতি দেখে তাকে রোগীর কাছে নিয়ে আসে। এসময় সে আমার হাত থেকে কৌশলে তার লেখা ঔষধের কাগজটি নিয়ে ছিড়ে ফেলে। নার্সদের দিয়ে আমার লাশ সরিয়ে ফেলতে বলে।

নিহতের চাচাতো ভাই উপাধ্যক্ষ নুর বাহাদুর তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে যাই। রোগীর মুত্যুতে ডা. লেনিনের অবহেলার কথা শুনেছি। ডা. লেনিন ঔষধের নাম লেখা কাগজটিও ছিড়ে ফেলেছেন শুনেছি। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় সকল স্বজনরা বিক্ষুদ্ধ হতে চাইলে আমি তাদের নিবৃত্ত করি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জেএইচ খান লেনিন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় এক মূমূর্ষ রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। তাকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য লিখে দেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা সেবা দেয়ার পূর্বেই তিনি মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, আমি রোগী মৃত্যুর খবর পেয়ে কোয়ার্টার থেকে হাসপাতালে এসে উদ্ভুত পরিস্থিতি দেখি। ডা. লেনিনের কাছে জানতে পারি রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার পূর্বেই তিনি মারা গেছেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা বলছিলো, গ্যাস দেয়া শেষে ইনজেকশন দেয়ার পর পরই রোগী মারা যায় ডা. লেনিনকে বার বার ডাকার পরও তিনি রোগীর কাছে যাননি।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মনিরুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে রোগী মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে হাসপাতালে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি বিঘœ হওয়ার আশংকা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। নিহতের স্বজনরা ভুল চিকিৎসার কথা বললেও তারা লিখিত কোন অভিযোগ না দেয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. লেনিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী ওঠে। তার চিকিৎসা সেবায় অদক্ষতা, গাফেলতি, অভদ্র ব্যবহার, অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরন ও বানিজ্যিক মনোভাবের বহি:প্রকাশ ঘটে।