ঢাবিতে সুযোগ পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত ইটভাটা শ্রমিক কাজলের

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৪২:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারি গ্রামের গাংপাড়ার মৃত আয়ুব আলির ছোট ছেলে কাজল হোসেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। দ্ররিদ্র পরিবারে তার জন্ম। জীবন জীবিকার তাগিদে বাবা কখনও গরুর গাড়ি চালাতেন আবার দিন মজুরের কাজ করতেন। দারিদ্রতা যেন সংসারে তাদের নিত্য সঙ্গী ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি শেষ না হতেই কাজলের বড় দুই ভাইয়ের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৫ সালে কাজলের বয়স যখন ঠিক ৫ বছর তখন বাবা মারা যান। কিছু বুঝে উঠার আগেই শিশু কালেই পিতাকে হারাতে হয়। মায়ের পরম ভালবাসায় বেড়ে উঠে শিশু কাজল।

২০০৬ সালে ভর্তি হয় কুমারি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা শেষ করে মাধ্যমিকের জন্য ভর্তি হয় হারদি মীর সামসুদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখান থেকে ২০১৩ সালে জেএসসি পাশ করে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়।

নবম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার পর প্রাইভেট বেতন, যাতায়াত খরচ, পোষাক, বইপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা মায়ের পক্ষে মেটানো সম্ভব না হওয়ায় পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। অভাবের সংসারে যেখানে ৩ বেলা অন্ন জোগাড় কারা দায়, সেখানে কেমন করে পড়াশুনার ব্যায় মিটাবে মা।
বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে সে বলে পড়াশুনা করবে। মা বলেন তোমাকে সমাজের গুণি মানুষদের একজন হতে হবে। মায়ের কথায় আবার ২০১৫ সালে স্কুলে যাওয়া শুরু করে। পড়াশুনার পাশপাশি ইটভাটায় নিয়মিত কাজ করেন সংসার ও লেখাপড়ার খরচ বহন করার জন্য। পরীক্ষার আগ মূহুর্তে প্রস্তুতির জন্য ভাটায় কাজ বন্ধ করে দেন। ২০১৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৮৯ পয়েন্ট পেয়ে সে এসএসসি পাশ করে।

কলেজে ভর্তি হওয়ার পরও ভাটায় কাজ করেছেন। কারণ কলেজে লেখপড়ার খরচ বেশি। ২০১৯ সালে মেধাবি কাজল আলমডাঙ্গা সরকারী ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৯ সালে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন।

এইচএসসি পাশ করার পর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার কারণ ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে কোচিং, বাইরে থাকাসহ নানা খরচ রয়েছে। যা কষ্ট সাধ্য। মায়ের শেষ সম্বল একটি গরু অল্প দামে বিক্রি করেন ৪৪ হাজার টাকায়। ছেলের কোচিং করানোর জন্য।

গ্রামের বড় ভাই হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। তার সাথে যোগাযোগ করে মায়ের ইচ্ছায় কোচিং করতে যান রাজশাহীতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য রাজশাহীতে একটি কোচিং এ ভর্তি হন। থাকতেন বড় ভাইয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। এ ভাবে ৪ মাস রাজশাহীতে থেকে কোচিং করেন সে। গরু বিক্রির ৪৪ হাজার টাকার মধ্যে তার খরচ হয় ২৬ হাজার টাকা। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য ফরম তোলেন বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় এ ইউনিটে মেধা তালিকায় ৩৯তম স্থান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি ইউনিটে মেধা তালিকায় ৪৬৯তম স্থান অধিকার করেন।
মেধা তালিকা অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে দরিদ্র মেধাবি শিক্ষার্থী কাজল হোসেন। বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা যাবেন কাজল ভর্তির জন্য। আর পড়াশুনার জন্য স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন বৃহস্পতিবার।