ভাসানচর নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনা চায় ইউএনএইচসিআর

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৩৮:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৯

কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে চায় জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআরের ডেপুটি হাইকমিশনার কেলি ক্লেমেন্টসের চারদিনের বাংলাদেশ সফ”র শেষে সংস্থার দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কেলি ক্লেমেন্টস ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছে’ন। বৈঠকগুলোতে তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশে’র নেতৃত্বকে সহায়তা দেয়া, সব অংশীদারি সংস্থার কাজের প্রয়োজনীয় পরিবে’শ নিশ্চি’ত করা এবং ভাসান’চর নিয়ে সর’কারের সাথে যে কোন স’ময় গঠনমূল’ক আলোচনায় ব’সার জন্য ইউএনএইচসিআরের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে’ন।

বৈঠকে তারা মিয়ানমারে’র রাখাই’ন রাজ্যে কক্সবাজারে’র সমান্তরালে কাজে’র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করে’ন। কেলি ক্লেমেন্টস মিয়ান”মার সরকার ও অন্যান্য সব পক্ষের সাথে মিলে শ’রণার্থীদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জ’ন্য রাখাইনে নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টিতে ইউ’এনএইচসিআরের প্রচেষ্টার ক”থা উল্লেখ করেন। ক্লেমেন্টস শ’রণার্থী ইস্যুতে উদার মান’সিক’তার জন্য বাংলাদেশ স”রকারকে ধন্যবাদ জানান।

ডেপুটি হাইকমিশনার কক্সবাজারের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎকালে চ’লমান মানবিক কার্যক্রম ও স্থানীয় বাংলাদেশীদের স’হায়তায় ন’তুন অনুদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তরুণ ও নারীসহ অনেক শরণার্থীর সাথে কথা বলে’ন।

তাদের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নে ইউএনএইচসিআর কিভাবে সাহায্য করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেন। শরণার্থীরা তাকে জানান, রাখাইনে’র বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপ’দ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে’র উপযোগী নয়। তবে বেশিরভাগ শরণার্থীই নি’রাপত্তা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেয়া হলে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। কেলি ক্লেমেন্টস শরণার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে ইউএনএইচসিআর ও অংশীদার সংস্থাগুলোর চলমান কর্মকান্ডের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এটি প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমার সমাজে একীভূত হতে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেলি ক্লেমেন্টস শেষবার ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এবারের সফরে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় মানবিক কর্মকান্ডের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পর্যেবেক্ষণ করেছেন। এ’র সাথে স্থানীয় বাংলাদেশী জনগণে’র ওপর রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রভাব ও মানবিক কর্মকান্ডের চ্যালঞ্জগুলো সম্পর্কে তাকে অবহিত ক*রা হয়। তিনি নয়াপাড়া ও কুতুপালং ক্যাম্পে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি, স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইউএনএইচসিআরের যৌথ নিবন্ধন কার্যক্রমের ব্যাপক অগ্রগতি লক্ষ্য করেন। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইউএনএইচসিআরের যৌথ নিবন্ধন প্রক্রিয়া সমাপ্তের পথে। ইতিমধ্যে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।

কুতুপালং রেজিস্ট্রেশন সেন্টার পরিদর্শনের পর ‘কেলি ক্লেমেন্টস বলে’ন, শরণা’র্থীদের সুরক্ষার জন্য রেজিস্ট্’রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিরাট অর্জন। এর মাধ্যমে’ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও মান’বিক সাহায্য যথায’থভাবে নিশ্চিত করা যাবে। শ’রণার্থীদের অনেকের জন্যই এটি জী’বনে পাওয়া প্রথম পরিচয়পত্র।

কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চলতি বছর ৯৫ কোটি ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে পাওয়া গেছে ৬১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্বেও মানবিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের ও স্থানীয় বাংলাদেশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। কক্সবাজার সফরকালে কেলি ক্লেমেন্টস জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সাথে টেকনাফে স্থানীয় বাংলাদেশী জনগণের জন্য নগদ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।