১৫০০ টন পেঁয়াজ নামলো বন্দরে

বড় শিল্পগ্রুপগুলোর পেঁয়াজ এসেছে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

সরকারের অনুরোধে সাড়া দেয়া বড় শিল্পগ্রুপগুলোর আমদানিকরা পেঁয়াজ অবশেষে সমুদ্রপথে দেশে আসতে শু’রু করেছে। এরইমধ্যে চট্টগ্রামভিত্তিক বিএসএম গ্রুপ ৭০০ টন; ঢাকার মেঘনা গ্রুপ এনেছে ৮০০ টন। এই দুই প্রতিষ্ঠানের বাইরে ছোট আম’দানিকার’কদের পেঁয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়েছে একাধিক জাহাজ।

বাকি শিল্পগ্রুপগুলোর মধ্যে সিটি গ্রুপের পেঁয়াজ আসছে দুদি’ন প’র; এস আলম গ্রুপের পেঁয়াজ আসছে ডিসেম্বরের প্রথম স’প্তাহে। অর্থ্যাৎ ধারণা করা হচ্ছে ডিসেম্বর থেকে নিয়মিতই পেঁয়াজ আসবে চট্টগ্রাম দিয়ে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রথমবার বড় পেঁয়াজের চালান আমদানির পর বুধবার ও বৃহ*স্পতিবার সারাদিনই আলোচ*নার বি*ষয় ছিল বিএসএম গ্রুপের পেঁয়াজ। আজ খাতুনগঞ্জে পৌঁছার পর বাজারে কিছুটা ইতি*বাচক প্রভাব পড়েছে। আজ চীনের পেঁয়াজে*র দাম কেজি ১০ টাকা কমে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মিয়ানমারের পেঁয়াজে*র দামও কেজি ১০ টাকা কমেছে।

জানতে চাইলে বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল ব*শর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, আম*রা পেঁয়াজ আম*দানি করি না; সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়েই এই পেঁয়াজ এনেছি। বৃহস্পতি*বার রাতে বন্দর থেকে ছাড় নিয়ে ২০০ টন পেঁয়াজ ঢাকা-চট্টগ্রাম*সহ দেশের বিভি*ন্ন বাজারে পৌঁছেছে; শুক্রবারও পৌঁছবে আরও ৫০০ টন। আসার পথে রয়েছে আরও পেঁয়াজ। কিন্তু স*রবরাহ দিতে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে দেশে পেঁয়াজের চাহিদার চেয়ে স*রবরাহে অনে*ক ফাঁরাক। ছোট-বড় আমদানিকারকরা মিলে যদি ধারা*বাহিকভাবে সর*বরাহ বাড়ায় তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রনে আসতে বাধ্য।

জানা গেছে, পেঁয়াজের বাজার নি*য়ন্ত্রনে স*রকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপগুলো বিদেশ থেকে স*মুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়। এরমধ্যে স*বচে বেশি ৫৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অ*নুমতি নেয় এস আলম গ্রুপ। সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপও আড়াই হাজার টন করে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সে*সব পেঁয়াজ আসতে দেরি হওয়ায় সরকার আকাশপথে উড়োজাহাজে জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। বিমানে এস আলম গ্রুপ প্রতিদিন একশ টন করে পেঁয়াজ আনছে; তা ঢাকা শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে নামছে।

কিন্তু সব শীর্ষ শিল্পগ্রুপগুলোকে পেছনে ফেলে চট্টগ্রামভিত্তিক বিএ*সএম গ্রুপ প্রথম সমুদ্রপথে জাহাজে পেঁয়াজ নিয়ে আসে; গত ২৫ নভেম্বর সেটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে যায়। বিএসএম গ্রুপ মোট তিন জাহাজে মোট ৭০২ টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নামিয়েছে। এছাড়া গতকাল বৃহষ্পতিবার বন্দর জেটিতে ভিড়া ‘ওইএল স্ট্রেইট’ জাহাজে মেঘনা গ্রুপ এনেছে ৫৪০ টন।

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা বলছেন, আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ব*ন্দর জেটিতে ভিড়েছে দুটি জাহাজ একটি হচ্ছে ‘ওইএল স্ট্রেইট’; আরেকটি হচেছ ‘মাউন্ট কেলেট’। দুটি জাহাজেই ৭৭৪ টন পেঁয়া রয়েছে। এছাড়া বুধবার জেটিতে ভিড়ে জাহাজ থেকে নামানো হয়েছে ৯শ টন। মিসর, চীন, তুরস্ক থেকে এসেছে এসব পেঁয়াজ।

বন্দর কর্মকর্তা বলছেন, বৃহস্পতিবার আরও তিনটি জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। এ’সব জাহাজে আরও পেঁয়াজ রয়েছে; তবে পরি’মান এখনও জানা যা’য়নি।

এদিকে এস আলম গ্রুপ মোট সাড়ে ৬৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করবে; এরমধ্যে কিছু উড়োজাহাজে এবং কিছু পেঁয়াজ সমুদ্রপথে জাহাজে করে আসবে। প্রতিদিন কার্গো উড়োজাহাজে ১শ টন করে পেঁয়াজ ঢাকা বি’মানবন্দরে নামছে। আর এস আলম গ্রুপের পেঁয়াজ কবে আসবে জানতে চাইলে মিসরে অবস্থানরত গ্রুপের শীর্ষ এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, মিসর থেকে তিন হাজার টন এবং তুরস্ক থেকে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ নিয়ে একটি খোলা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

বড় শিল্পগ্রুপগুলোর পেঁয়াজ আসার পর খাতুন’গঞ্জের পাইকারি বাজারে এ’র প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জানতে চাইলে খাতুন’গঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়ত’দার সমিতির সাধার’ন সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, কিছুটা প্রভাব পড়েছে তবে পুরোপুরি প্রভাব পড়েনি; মিসর ও অন্যদেশ থেকে পেঁয়াজ আসলে প্র’ভাব পড়বে; দাম আরও কমবে। আজ মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং চীনের পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১শ টাকা। ‌আজ মিয়ান’মার থেকে ট্রাকে করে ৪শ টন পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে ঢুকেছে। তবে মিস’র ও তুরস্কের কোন পেঁয়াজ ঢুকেনি। -কালের কণ্ঠ