ওসি মোয়াজ্জেমের ৮ বছরের কারাদণ্ড

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৯ | আপডেট: ৩:৫৩:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভিডিওচি’ত্র সামাজি’ক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দে’য়ার অভিযোগে সোনাগা’জী থানার সাবে’ক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে’ন আদাল’ত। সাথে আরও ১৫ লাখ টাকার জরিমানাও করা হয়েছে তাকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রথম রায় এটি।

এরআগে ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ সাই’বার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে’র’ বিচারক আস-শামস জ’গলুল হোসেন রায়ের জন্য বৃহস্পতি’বার তারিখ নির্ধারণ করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ সাইবা’র ট্রাইব্যুনালের বি’চারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এজলাসে আস’ন গ্রহণ করেন। দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে ওসি মোয়াজ্জেমকে এজলাসে আনা হয়।

এর আগে, ১৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদু’ল হ’ক সুম’ন ঢাকা’র সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। ওইদিন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

২৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের সিনিয়র স’হ’কারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা আদাল’তে প্রতিবেদন জমা দেন। একই দিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে একই ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফ’তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে ১৭ জুন গ্রেফ’তারি পরোয়ানা জারিসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।

১৬ জুন শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার হন মোয়াজ্জেম হোসেন। ১৭ জুন ওসি মোয়াজ্জেম জামিন আবেদন করলে নাকচ করেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। ২০ জুন সাইবার ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমে’র পক্ষে কারাগারে ডি’ভিশন পাওয়ার বিষয়ে আবে’দন করা হলে বিচারক গত ২৪ জুন তাকে প্রথম শ্রেণি’র বন্দির (ডিভিশন) সব সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি ২ জুলাই হাইকোর্টে জামি’ন আবেদন করেন। সেখানে’ও তার জামি’ন নাকচ হয়।

প্রসঙ্গত, ২৭ মার্চ সোনা’গাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতা’হানির অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী নুসরাতের মা। প’রে সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করা হয়।

যৌন হয়রানির অভিযোগ ক’রতে যাওয়ার পর সোনাগাজী থানার ওসির কক্ষে ফের হয়রানির শিকার হতে হয় নুসরাতকে। নিয়ম না মেনে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

এরপর ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার চলাকালে নুসরাতকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ডেকে ছাদে নিয়ে গায়ে আগুন দেয় নরপশুরা। ওই দিন নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃত্যু হয়।

২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলায় ফেনীর সোনা’গাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরা’ত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হ’ত্যার দায়ে মামলার প্র’ধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামির স’বার ফাঁসির আদেশ দিয়েছে’ন আদালত। আসামিদের বেশির’ভাগ’ই এখন কারাগারে।