‘বিজেপির খেলা শেষ’, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৪৫:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৯

জল্পনাই সত্যি হলো। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগই করলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। আস্থা ভোটের আগেই ভারতের মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট আগামীকাল আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার নির্দেশ দেয়ার পরেই সংখ্যা জোগাড়ে তৎপর হয়ে ওঠে বিজেপি শিবির।

কিন্তু যে অজিত পওয়ারের কাঁধে ভর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিয়েছিলেন ফড়নবিশ, সেই অজিতই উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের পর বিজেপির কাছে কার্যত সংখ্যা জোগাড় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সে কারণেই তার এ পদত্যাগ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সংবাদ সম্মেলনে সে কথাই জানিয়েছেন ফড়নবিশ।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা ও মুখপাত্র নবাব মালিক এক টুইট বার্তায় মন্তব্য করেছেন, ‘বিজেপির খেলা শেষ’।

এর আগে নানা নাটকীয়তার পর গত শনিবার ভোরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অজিত পাওয়ার শপথ নেন।

তার পর বিক্ষুব্ধ শিবসেনা-কংগ্রেস ও এনসিপি জোট আদালতের দ্বারস্থ হন। আজ মঙ্গলবার সকালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে ফড়নবিশ সরকারকে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেয়ার নির্দেশ দেয়।

ওই রায়ে আরো বলা হয়, শিগগিরই প্রোটেম স্পিকার নিয়োগ করে বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে আস্থা ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে দেবেন্দ্র ও ফড়নবিশকে। কোনো গোপন ব্যালেটের বদলে সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে সেই আস্থাভোটের পুরো প্রক্রিয়া।

রায় প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মাত্র দু’দিন আগে শপথ নেওয়া দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন অজিত।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহর জরুরি বৈঠকের পর তড়িঘড়ি বার্তা গেল মহারাষ্ট্রে। মোদি-শাহর নির্দেশেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দেবেন্দ্র ফডণীস। উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের আচমকা ইস্তফার পর এবার চমক দেখালেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মহারাষ্ট্রে বুধবার আস্থাভোট হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই রণকৈশল স্থির করতে মঙ্গলবার দুপুরে তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নয়াদিল্লিতে ওই বৈঠকে ছিলেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডাও।