বুলবুল’র তান্ডবে বাবুগঞ্জে ৩০টি ইট ভাটায় ৫কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

আরিফ হোসেন আরিফ হোসেন

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৮:০২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ লোকসানের কবলে ভাটা মালিক। বাবুগঞ্জে অনুমোদিত চলমান ৩০টি ইট ভাটায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে অন্তত ৫কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করেছেন ইট ভাটা মালিক সমিতি। বিভিন্ন ইট ভাটা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ওই ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হয়েছে। সে মোতাবেক ৩০টি ইটভাটায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জোয়ারের পানিএবং অতিবৃষ্ঠির প্লাবনে গড়ে প্রায় ৭লক্ষ ইট সম্পূর্ণরুপে মাটির সাথে মিশে গেছে। আর এমন হিসেবে ৩০টি ভাটায় ২কোটি ১০লক্ষ কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। এতে অন্তত ৫কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মৃধা। তিনি বলেন ঘূর্ণিজড় বুলবুল এমনই এক সময় আঘাত হেনেছে যখন সকল ইট ভাটায় ইট পোড়ানো অথবা প্রস্তুতের কাজ চলছিল। শুধু পানিতে ইট নষ্ট হয়ে যাওয়াই শেষ হিসেব নয়, প্রথম আবহাওয়ার সংকেত পেয়ে সকল ইট ভাটায় লক্ষ লক্ষ টাকার পলিথিন কিনে তৈরী কাঁচা ইট যথা নিয়মে ঢেকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু উপর থেকে ঢেকে দিলেও পানির প্লাবনে নিচের ইট ভিজে সাজানো সকল ইট পানিতে হেলে পরেছে আর এতে তৈরী এবং চুল্লিতে যত ইট ছিল সব গলে মাটির সাথে মিশে গেছে। রানা ও যমুনা ব্রিকস্’র প্রোপাইটর মোঃ রেজভী হাসান রানা জানালেন, তার দুটি ভাটায় তৈরী অন্তত ১০লক্ষাধিক কাঁচা ইট সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গেছে। এতে অন্তত ২০ লক্ষ টাকার বেশী আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যে ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়। সাজ ব্রিকস্’র প্রোপাইটর মোঃ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন তার ভাটায় কিলিং এবং ফরাশ মিলিয়ে অন্তত ১৫ লক্ষ ইট ছিল যা সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গেছে এতে তার অন্তত ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। একই কথা জানালেন হাসান, সুপার, সকাল, আকন, ইসলাম, মাষ্টার, বেষ্ট, সালাম, আলী, হাওলাদার, ফাতেমা, আরাবী, বিএলএস,আসিব,নাইসসহ সকল ভাটার মালিকগণ। গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে ভাটাগুলির করুন চিত্র আর মালিক দের দুঃখের বর্ননা। কেউ নষ্ট ইট অপসারণ করছেন, কেউ নতুন ইট তৈরী করছেন। আবার অনেকে অর্থাভাবে ক্ষতির বোঝা মাথায় নিয়ে বসে আছেন।
ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, চলতি বছর প্রতিটি ইট ভাটায় ইট পিছু তিনগুন খরচ হচ্ছে। প্রথমত তৈরী খরচ এবং দ্বিতীয় নষ্ট ইট অপসারণ মজুরী এবং সেই ইট পুনঃরায় তৈরী করা। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয় কারণ, প্রতিটি ইট ভাটার রয়েছে মোটা অংকের ঋন। দাদন ছাড়া কোটি কোটি টাকা নগদ ব্যয় করে ভাটা চালানো সম্ভন নয় বিধায় সকল ভাটার বিপরীতে দাদন অথবা ঋন নেয়া আছে। আর সংঘত কারণে চলতি বছর সকল মালিককেই লোকসান গুনতে হবে।