বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা চর, ভ্রমন বিনোদনে নতুন মাত্রা

প্রকাশিত: ১০:২২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৭ | আপডেট: ১০:৩৯:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৭
বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা চর, ভ্রমন বিনোদনে নতুন মাত্রা

বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা চর ॥
বন বিভাগের বৃক্ষ রোপন ॥ ভ্রমন বিনোদনে নতুন মাত্রা ॥

বঙ্গোপসাগরে বুক চিরে জেগে উঠেছে নতুন চর। লাল কাকড়া অবাধ ছুটোছুটি আর অতিথি পাখির কলকাকলী পর্যটকদের মুগ্ধ করে তুলেছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বঙ্গোপসাগর অভ্যন্তরে এ চর স্থানীয় জেলেরা কাছে হাইরের চর নামে পরিচিত। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে এ চর ভ্রমনে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমনের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করতে বুধাবার বিকালে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, হোটেল মালিক সমিতি, টুরিস্ট সেন্টার সদস্যরা এ চরটি পরিদর্শনে যায়। প্রায় পাঁচ হাজার একর আয়তন নিয়ে জেগে ওঠা এ চরটির আনুষ্ঠনিকভাবে এর নামকরন করা হয় চর বিজয়। এ সময় প্রায় ২ হাজার গোল, ছইলা, কেওড়া ও সুন্দর গাছের চারা রোপন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটার সৈকত থেকে ট্যুরিস্ট বোট নিয়ে মাত্র দেড় ঘন্টায় পৌছানো যায় এ বিজয়ের চরে। বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চরটি পানিতে ডুবে থাকে। শীত মৌসুমে ধুঁ ধুঁ বালু নিয়ে জেগে উঠে। এসময়ে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী বাসা তৈরি করে মাছ শিকার এবং শুঁটকি তৈরি করে জেলেরা। মানুষের খুব একটা বিচরন নেই বলে শীতে এখানে সমাগম ঘটে লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির। আবার শীত কমে আসলেই চলে যায় যে যার আপন দেশে। চরটি ঘুরে এসে সমাজ কর্মী লুৎফুল হাসান রানা জানান, চারদিকে সাগরের অথৈই পানি। এরই মাঝে আকাশ আর মাটির সাথে মিতালী তৈরি করেছে জেগে ওঠা এই নতুন বিজয়ের চর। লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির অবাধ বিচারন তৈরি করেছে প্রকৃতির এক নান্দনিক সৌন্দর্য্য। এখানে যে কেউ আসলেই ভাল লাগবে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি জনি আলমগীর বলেন, সমুর্দের মাঝে সুন্দর এ চরটিকে এখন সরকারি-বেসরকারিভাবে ব্রান্ডিং করে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এতে ভ্রমন পিয়াসুদের কাছে কুয়াকাটার পর্যটন আরো বেশি আকর্ষনীয় হবে।
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আলহাজ্ব হারুর অর রশিদ বলেন, চরটির আয়তন পরিমাপ করে পর্যায়ক্রমে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের আওতায় আনা হবে।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম জানান, চরটিতে ভ্রমনে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌ-পুলিশকে সাথে নিয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে। কুয়াকাটা পৌর মেয়র জনাব আ. বারেক মোল্লা বলেন, পর্যটক আকর্ষনে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।