বেনাপোল কাস্টস হাউসের নিরাপদ গোপনীয় লকার ভেঙ্গে সোনা, ডলারসহ মুল্যবান পণ্য সামগ্রী চুরি, সাময়িক বরখাস্ত -৫

প্রকাশিত: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৪৯:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

বেনাপোল কাস্টস হাউসের নিরাপদ গোপনীয় লকার ভেঙ্গে সোনা,ডলারসহ মুল্যবান পণ্য সামগ্রী চুরি গেছে। দূর্ধর্ষ চুরি উদঘাটনে পোর্ট থানাসহ র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি (ক্রাইম সিন) ও পিবিআই ঘটনাস্থলে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। শনিবার অফিস করার পর রোববার সরকারি ছুটি থাকায় কেউ অফিসে ছিলেন না। সোমবার সকালে অফিস খুললে চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে কাস্টম পাড়ায়। কি পরিমান মালামাল খোয়া গেছে তা কাস্টমের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোল্ট ইনচার্জসহ ৫ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

কাস্টম সুত্র জানায়,কাস্টম হাউজের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় গোপনীয় একটি কক্ষে তালা ভেঙ্গে লোহার লকার ভেঙ্গে মূল্যবান বিপুল পরিমান সোনা,ডলার ও টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র নিয়ে যায় চোরেরা। সেই কক্ষে প্রবেশ করার পূর্বে সংঘবদ্ধ চোর চক্র সিসি ক্যামেরার সব গুলো সংযোগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেখান থেকে মুল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে বলে কাস্টম সুত্রটি দাবি করে। ওই লকারে কাস্টম,কাস্টম শুল্ক গোয়েন্দা,বিজিবি ও পুলিশের উদ্ধারকৃত স্বর্ণ, ডলার বৈদেশিক মুদ্রা,কষ্টি পাথরসহ মুল্যবান দলিলাদি ছিল। সোমবার সকালে ওই লকারের তালা ভাঙ্গা দেখে চুরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করেন কাস্টম কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে কাস্টমের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা। তারপর ওই স্থানে পুলিশ মোতায়ন করা হয়। বাইরের কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কি পরিমাণ সোনা টাকাসহ অন্যান্য মালামাল চোরেরা নিয়ে গেছে তারও কোন হিসাব কেউ বলতে পারেনি। সর্বশেষ বিকাল ৫টা নাগাদ ডিবি, সিআইডি,পিবিআই,র‌্যাব ও বেনাপোল পোর্ট থানার কর্মকর্তারা ওই লকার রুমে প্রবেশ করেন। এ সময় হাত পায়ের ছাপ নির্নয় করার সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসবির এএসপি তৌহিদুল ইসলাম,ইন্সপেক্টর সৈয়দ মামুন হোসেন, র‌্যাব কর্মকর্তা কামরুজ্জামান,আতিকুর রহমান,বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম,এআরও জিএম আশরাফ,বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান প্রমুখ। তারা যৌথ ভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তের পর জানা যাবে কি পরিমাণ মালামাল সেখান থেকে চোরেরা নিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা বলেন,কাস্টম হাউসে সিসি ক্যামেরায় সুরক্ষিত একটি সংরক্ষিত এলাকায় কি ভাবে এ ধরনের দুর্ধর্ষ চুিরর ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কাস্টম হাউজে নিজস্ব সিপাইসহ আনসার ব্যাটালিয়নের একটি ইউনিটও নিরাপত্তার কাজে দায়িত্ব পালন করে থাকে।


বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান জানান,বেনাপোল কাস্টমের গুদামে বিকল্প চাবি ব্যবহার করে চুরির ঘটনা ঘটেছে। কি পরিমান পণ্য খোয়া গেছে তার গনণাকাজ চলছে। তবে সেখানে বিপুল পরিমান সোনা ছিল বলে জেনেছি। এখানে পুলিশ সুপার মঈনুল হকসহ সিআইডি ও পিবিআই কর্মকর্তরা তদন্ত কাজ চালাচ্ছেন।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন,কি পরিমান অর্থ সম্পদ খোয়া গেছে এটা এই মুহুর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। খতিয়ান এর হিসাব মিলিয়ে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব।


বেনাপোল কাস্টস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান,কাস্টম এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কড়াকাড়ি,ভায়াগ্রা চক্রর অপতৎপরতা ও কাস্টমস কমিশনারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য একটি চক্র এ কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি জানান। ভোল্ট ইনচার্জ সাহাবুল সরদারসহ ৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার মেলানো হচ্ছে। গণণা শেষ না হলে বলা যাচ্ছে না কি পরিমাণ পন্য খোয়া গেছে। এ ঘটনায় যুগ্ম কমিশনার মো:শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।