মাদারীপুরে সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১৫

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৪২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের পাঁচখোলা এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনতে এ ঘটনায় দুই ইট ভাটার মালিককে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের পাঁচখোলা এলাকার সোবাহান ফকিরের ইটের ভাটার পাশেই আব্দুল মান্নান খানের ইটের ভাটা। ভাটায় ইট বেচাকেনা ও টাকা পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাটার মালিকপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে সোবাহান ফকির তার লোকজন নিয়ে মান্নানের ইটভাটায় গিয়ে সালিশ মিমাংসার মাধ্যমে পাওনা টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা বাধে। এরপরেই দুই পক্ষের লোকজন দেশীও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের আহত হয় ১৫ জন। আহতরা মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এরমধ্যে পলাশ মাতুব্বর (৩০) ও সোহাগ মোল্লাকে (২৮) গুরতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে চিকিৎসক।
অন্যান্য আহতরা হলেন, সুকুমার (২৫), মো. আমিরুল (২২), আয়ুব (২০), সাইদুল (২২), সেলিম খান (২৫), সুমন খান (২৭), হাবিবুর রহমান খান (৫৫), বিল্লাল হোসেন (৪৮), মিঠুন চৌধুরী (১৮), আসিব শিকদার (২২), খবির খান (৪৫), রাশেদ খান (১৮), সাইফুল (২৫), হেমায়েত মোল্লা (৫০), শহিদুল (৩০), সুফিয়া বেগম (৭০) ও রানু বেগম (৪৫)। এরা সবাই সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
আব্দুল মান্নান খানের ছেলে সজিব খান বলেন, সোবাহান ফকিরের লোকজন আমাদের ভাটায় এসে বিনা কারণে টাকা দাবি করে। তারা কাঠ ও ইটের দাম চায়। তারা আমাদের কাছে কোন টাকা পায় না। নিজেদের ক্ষমতা দেখানোর জন্য সোবাহানের নেতৃত্বে তার লোকজন এসে আমাদের ভাটার অফিসে ঢুকে ভাঙচুর করে। এতে আমাদের ভাটার নতুন প্রায় ১০ লাখ টাকার কাচাঁ ইট নষ্ট করে ফেলে।
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে সোবাহান ফকির বলেন, আমরা তাদের কোন ক্ষতি করিনি। আমরা সালিশ মিমাংসার মাধ্যমে পাওনা টাকা দাবি করেছি। টাকা না দিয়ে তারাই বরং আমাদের লোকজনকে মারধর করে। আমরা পুলিশের কাছে সব ঘটনা খুলে বলেছি।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আমরা দুই পক্ষের সোবাহান ও মান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই মামলা হবে।