ছাত্র শিবির যখন ছাত্রলীগ নেতা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৪৩:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৯

ডেক্স নিউজ : ২০১৬ সাল পর্যন্তও ঢাকায় মেয়েদের চোখের লেন্সের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার পাশাপাশি বিএনপির পরিবার থেকে আসা সক্রিয়ভাবে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই শিবির কর্মী এখন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। বতমান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির পদটি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নাম তাসফিন আব্দুল্লাহ।
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের চক ঘোগা গ্রামের সাবেক বিএনপি নেতা মৃত আবুল কাসেম বিশ্বাসের ছেলে। আবুল কাসেম বিশ্বাস আড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির ১ নং সম্মানিত সদস্য ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

এদিকে ঢাকাতে ছাত্রশিবির ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও ১৪ নভেম্বর ২০১৭ সালে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের পুনাঙ্গ কমিটিতে সহসভাপতির পদ পেয়ে যান তাসফিন আব্দুল্লাহ। অভিযোগ আছে আওয়ামীলীগের এক আত্মীয় নেতার সুপারিশে বতমান জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের হাত ধরে তাসফিন জেলা ছাত্রলীগের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি পেয়ে যান। ছাত্রলীগের কোনো ইউনিটের সঙ্গে আগে সংশিষ্টতা না থেকেও সরাসরি জেলা ছাত্রলীগের এত বড় পদপাওয়াটা অনেকই বিস্ময় প্রকাশ করেন সেই সময়। তাসফিনের শিবির সংশ্লিষ্টতার কথা জেলা ছাত্রলীগের অনেক নেতা জানলেও প্রমাণের অভাবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি তখন ।

 

হঠাত্ করেই কয়েকদিন আগে এই তাসফিন আব্দুল্লাহর ফেসবুক থেকে পাওয়া শিবির ও হেফাজত ইসলামীর সংশ্লিষ্টার কিছু তথ্য প্রমাণের স্ক্রীনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা ছাত্রলীগ নড়েচড়ে বসে। তাঁর নিজ এলাকা দৌলতপুরেও রাজনীতি সচেতন মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

 

স্ক্রীর্নসটে দেখা গেছে ২০১২ সাল থেকে ২১০৩ সালের মধ্যে ইসলামি শিবির ও হেফাজত ইসলামের বিভিন্ন পেজে তাঁর সংশি–ষ্টতা। ওই সব তথ্যে আছে হেফাজত ইসলামেরান গুলিস্তান তান্ডবে হেফাজতের পক্ষে স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বাঁশের কেল্লা পেজে শিবিরের পক্ষে লেখা শেয়ার, আওয়ামীলীগের মন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করে লেখা ছাত্রশিবির ও হেফাজতের স্ট্যাটাস তাসফিনের নিজ ফেসবুকে শেয়ার দেওয়া আছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যালেন্ডারও তার ফেসবুক টাইম লাইনে শেয়ার করা। এছাড়া শিবির ও হেফাজতের পেজ ‘নাগরিক হুশিয়ার, ‘ইসলামের কলম, কান্ডারি হুশিয়ার, ‘নাস্তিকরা হুশিয়ারসহ একাধিক ফেসবুক পেজের পক্ষে তাসফিন আব্দুল্লাহর সংশিষ্টতা দেখা গেছে।

শিবির থেকে কিভাবে ছাত্রলীগের কমিটিতে প্রবেশ করলো?—জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াছির আরাফত তুষার বলেন, ‘আমি তাসফিনকে আগে চিনতাম না। কমিটিতে আসার পরে চিনলাম। তবে জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে ঢুকেছে আমাদের কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশে। সে ভালো বলতে পারবেন।,

 

যখন জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের দলের মধ্যেই সুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। অনুপ্রবেশকারীদের সারা দেশের কমিটি থেকে বের করে দিতে বলছেন। তাসফিন আব্দুল্লাহকে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে সংশিষ্টতার প্রমানও মিলিছে। এই অবস্থায় তাঁকে বহিস্কার করা হবে কি না—এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের এই সভাপতি বলেন, ‘ছাত্র শিবির ও হেফাজতের সঙ্গে তাঁর যে সংশ্লিষ্টতা ছিল, তা সে গোপন করে ছাত্রলীগের কমিটিতে ঢুকেছে। তথ্য প্রমাণ দিয়ে বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে পাঠাবো।,

এদিকে তাসফিনের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ আহমেদ বলেন, ‘সে যদি ছাত্র শিবিরের কোনো পদে থাকেন, প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।,

কিন্তু সভাপতি বলেছেন, তাসফিনের কোন এক আত্মীয়র সুপারিশে আপনি নাকি তাকে জেলা ছাত্রলীগ নেতা বানিয়েছে?—এমন প্রশ্নে সরাসরি কোনো জবাব দেননি সাদ আহমেদ। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।,

 

তাসফিনের ছাত্র শিবির ও হেফাজতের সংশিষ্টতা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা ছাত্রলীগের অনেক নেতাই এখন মুখ খুলেছেন। জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সহ-সভাপতি ও সাবেক সদস্য সাগর মাহমুদ বলেন, ‘এই তাসফিনের বাড়ি আমাদের গ্রামে। সে মূলত বিএনপি পরিবারের ছেলে। তাঁর বাবা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ছিলেন। তাসফিন আব্দুল্লাহ মাদ্রাসা থেকে পাশা করে ঢাকাতে ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রশিবিরের রাজনীতি সঙ্গে জড়িত ছিলেন বিষয়টি অনেকই জানতেন।,

 

এই নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের নেত্রী যখন নিজ দলের কর্মীদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন তখন জামাত শিবির ও বিএনপির এই সব অনুপ্রবেশকারীদের এখনই দল থেকে বের করে দিতে হবে। তা না হলে এক সময় দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।,

তাসফিনের নিজ উপজেলা দৌলতপুর ছাত্রলীগের আহবায়ক চঞ্চল হোসেন বলেন, ‘আগেই শুনেছিলাম তাসফিন ছাত্রশিবির করত। এখন তা প্রমাণ হয়ে গেল। এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করা হোক।,

 

তাসফিনের ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশিষ্টতার বিষয়ে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক সিদ্দিকী বলেন, তাসফিনের সম্পর্কে কিছু তথ্য আমার কাছে জেলা থেকে পাঠানো হয়েছে। আমার বাড়িও কুষ্টিয়া। কয়েকবার তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে। এখন জেলা কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ নামা কেন্দ্র বরাবর পাঠালে কেন্দ্র তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।,

 

শুধু তাসফিন আব্দুল্লাহই নয়, তাঁর বড় ভাই সায়ীদ আনছারী বিপ্লবের কপালও খুলে গেছে। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে চাকুরি করে দেশে ফেরেন। কোনো রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন না। দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের পেছনে ফেলে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির জোরে নৌকার প্রতীক পেয়ে ২০১৬ সালে ফাঁকা মাঠে আড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়ে যান।