বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি সহযোগিতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯ | আপডেট: ৭:০৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি সহযোগিতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি ওয়েস্টিন হোটেলে এ কর্মশালার আয়োজন করে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন দূতাবাস। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিয়োজিত চীন রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব ও উইং চিফ মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার একটি প্রেজেন্টশন উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন ২০১৯ সালের মে মাসে চীনের বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশের জন্য বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি সহযোগিতা’ বিষয়ক সেমিনারে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা এবং বাংলাদেশের চীনা সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা। অংশগ্রহণকারীরা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্পাদন সক্ষমতা সহযোগিতা সম্পর্কিত আলোচনায় যোগ দেন।

স্বাগতিক বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে উত্পাদন সামর্থ্য সহযোগিতা পরিচালনার জন্য এবং বিআরআইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশ চীনের অপরিহার্য অংশীদার।

তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট শি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও উত্পাদন সক্ষমতা সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হতে দেখেছেন এবং তারপর থেকে চীন বাংলাদেশকে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ মওকুফ করেছে, যা বিশ্ব জি-টু-জি সহযোগিতায় অত্যন্ত বিরল দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, বিআরআই-এর আওতায় বাংলাদেশ ও চীন ভবিষ্যতেও একসাথে কাজ করে যাবে এবং বিজয় অর্জন করবে। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে মানবসম্পদ সহযোগিতার বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় আমাদের মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়নের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরো দৃঢ়ভাবে অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব ও উইং চিফ মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বিআরআই এর আওতায় বাংলাদেশকে “অপরিহার্য অংশীদার” মনে করায় চীনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই বিআরআই-তে যোগ দেয়া প্রথম দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি সহযোগিতা সবসময় অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের কিছু নিজস্ব সুবিধা রয়েছে- যেমন তার অনুকূল ভৌগলিক অবস্থান এবং বিশাল জনসংখ্যা। তিনি বিশ্বাস করেন যে বিআরআই-এর আওতায় চীনের সহযোগিতা্ বাংলাদেশের সমৃদ্ধির লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত অর্জন করতে পারবে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, বিগত বছরগুলোতে চীন যা অর্জন করেছে তা চীনের অর্থনৈতিক বিকাশের কৌশল থেকে প্রাপ্ত, যা রফতানি বৃদ্ধি করে, দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায় এবং দারিদ্র নিরসন করে। বিআরআই-কে পুরো সম্প্রদায়ের জন্য সমৃদ্ধি ভাগ করে নেয়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীনের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ কিছু শিখতে পারবে।

চীন-সহায়তা কাঠামোর অধীনে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিনিধিরা শেখার সুযোগ দেওয়ার জন্য চীনকে তাদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, সত্যিই তারা চীনে তাদের সময়টুকু উপভোগ করেছেন।

তারা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং দু’দেশের মধ্যে উত্পাদন সক্ষমতা সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য কার্যকর প্রস্তাব রাখেন।

বাংলাদেশের জি-টু-জি প্রকল্পগুলিতে অংশ নেওয়া চীনা সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা তাদের প্রকল্পগুলি তুলে ধরেন এবং উৎপাদন সক্ষমতা সহযোগিতার বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণগুলি সম্পর্ক আলোকপাত করেন।

এছাড়াও কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, নৌ-পরিবহন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, টেকসই ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পেট্রোবাংলা এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।