ইরাকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে একদিনেই নিহত ৩০

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৪৭:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইরাকে প্রায় মাসখানেক যাবত চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখনো অব্যাহত আছে। যার অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করেছে জনগণ।

এতে সড়কে বিক্ষোভরতদের ওপর পুলিশ অতর্কিত গুলিবর্ষণে অন্তত ৩০ বেসামরিকের প্রাণহানি হয়েছে। তাছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে শতাধিক লোক।

তুর্কি বার্তা সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’ জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে কর্মসংস্থানের সংকট, নিম্নমানের সরকারি পরিষেবা এবং বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজধানীর সড়কগুলোতে নামতে শুরু করেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।

ইরাকি আধাসরকারি মানবাধিকার কমিশন এবং বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার দাবি, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এদিনের বিক্ষোভে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে গত এক মাসে নারী ও শিশুসহ নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল কমপক্ষে ১৭৯ জনে। তাছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে হাজারখানেক লোক।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর সরকারি বেশ কয়েকটি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, চলমান বিক্ষোভে সড়কে অবস্থানরতদের ওপর সরকারি বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। যাতে এখন পর্যন্ত ১৪৯ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। তাছাড়া প্রায় একই রকম মত দিয়েছে জাতিসংঘ। মূলত এরমধ্যেই গত শুক্রবার নতুন করে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। যেখানে এদিনের বিক্ষোভে আহত হয়েছে প্রায় অসংখ্য লোক। এদের মধ্যে বেশ কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।

শুক্রবারের অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় ইরাকের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন জানিয়েছে, সড়কে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অব্যাহত গণবিক্ষোভের মুখে সম্প্রতি পার্লামেন্ট ভেঙে দেশব্যাপী আগাম নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন শিয়া মতালম্বি জনপ্রিয় নেতা মুকতাদা আল-সদর।

পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একের পর এক টিয়ার গ্যাস এবং গুলি চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শহরে। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে বিক্ষোভ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।

সম্প্রতি এক বিবৃতির মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগ করিয়ে দেশে আগাম নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। যেখানে আন্দোলনকারীদের সকল দাবি মানার আগ পর্যন্ত ইরাকি আইনপ্রণেতাদের পার্লামেন্ট অধিবেশনও বয়কটের আহ্বান জানান এ নেতা।