মেধা ও অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে মেডিকেলে সুযোগ পেলেন রিয়া

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৩৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৯

স্বল্প আয়ের ৫ সদস্যের পরিবার। এর মধ্যে মেধা ভালো থাকায় বড় মেয়ে বড় মেয়ে মহুয়া আক্তার রিয়া যাবতীয় খরচ দিয়ে পড়াশোনা করাতেন। মেধা ভালো থাকায় রিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম স্থান অধিকারী। এর মধ্যে তিনি সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় ৩ বার জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০১৭ সালে নলছিটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীা দিয়ে ৪.৯১ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর বরিশাল অমৃতলাল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়ে উত্তীর্ণ হন মহুয়া আক্তার রিয়া। ১১ অক্টোবর বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি পরীায় অংশ গ্রহণ করেন। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে যশোর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বড় মেয়ে মহুয়া আক্তার রিয়া।
মা-বাবা’র ইচ্ছা “ভালো মানুষ হয়ে উচ্চ শিা অর্জন করে নিজেকে মানব সেবায় নিয়োজিত করবো” সেই আশা পূরণ করতেই তারা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। সদ্য প্রকাশিত মেডিকেলে ভর্তিতে সুযোগ পাওয়া মহুয়া আক্তার রিয়া’র সাথে আলাপকালে এসব কথা জানা গেছে। রিয়া ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ইশ্বরকাঠি গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন ও মর্জিনা বেগমের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
রিয়া আরো জানান, বাবা তোফাজ্জেল হোসেন উত্তমাবাদ রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদালয়ে চাকুরী করতেন। সেখানের সামান্য বেতন দিয়ে সংসার চালানো দুঃসাধ্য ছিলো। তাই মা মর্জিনা বেগম তাকে সহায়তার জন্য বাসায় টেইলারিংয়ের কাজের পাশাপাশি একটি বেসরকারী সংস্থায় চাকুরী নেন। মা-বাবা অর আমরা ৩ বোন মিলে ৫ জনের সংসার পরিচালনা ও আমাদের পড়াশোনার খরচ চালাতে তারা হিমশিম খেতেন। তারপরেও আমাদের সুশিায় শিতি করতে তারা দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন। খুব কষ্টে দিনাতিপাত করে পড়াশুনা করতে হয়েছে। এখন বাবার চাকুরী সরকারী হয়েছে, পরিবার আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। সেই সাথে আমিও মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। বর্তমানে আমরা খুবই আনন্দে আছি। তবে মেডিকেলে ভর্তি পরীার সপ্তাহ খানেক পূর্বে দাদি রোকেয়া বেগম (৭০) মারা যাওয়ায় পড়াশুনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। অন্যদিকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ না পাওয়ায় মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলাম। আল­াহ আমাদের মঙ্গল করেছেন।
রিয়া’র পিতা মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন জানান, আমার ৩ কন্যার মধ্যে মহুয়া আক্তার রিয়া বড়। ছোটবেলা থেকেই অতিরিক্ত কোন কিছুর চাহিদা ছিলো না। অল্পতেই তুষ্ট থাকতো সবসময়। শুধু রিয়াই না, অন্য মেয়ে দুটোও একই রকমের। আমি আমার ৩ কন্যাকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।