রোগীকে অপারেশন টেবিলে রেখেই মারাগেলেন ডা. আবরার আহম্মেদ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯ | আপডেট: ১০:০১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

অপারেশন টেবিলে অস্ত্রপচার করে রোগীকে বাঁচিয়ে তুললেও বাঁচলেন না চিকিৎসক। অস্ত্রপচারের শেষ মুহুর্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি। ওনি আর কেহ নন, তিনি হলেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. আবরার আহম্মেদ।

রোববার (২০ অক্টোবর) বরিশাল নগরীর বান্দ রোডস্থ রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে অস্ত্রপচারকালে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে তাৎক্ষনিক তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলায়হে রাজেউন।

নাক-কান-গলা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবরার আহমেদ ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এর ২৬ তম অধ্যক্ষ ছিলেন। এর আগে দীর্ঘ সময় তিনি একই মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে বুশরা আবরার ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক এবং ছোট মেয়ে প্রকৌশলী রাইসা আবরার আমেরিকায় থাকেন।

দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মরহুম ডাক্তার আবরার আহমেদ এর প্রথম নামাজে জানাযা শেষে সড়ক পথে ঢাকায় ধানমন্ডি ৬ নম্বরে তার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ডা. আবরার আহমেদ এর একান্ত সহকারী ফরিদ হোসেন জানান, ‘আবরার আহমেদ বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ শাহজাহান চৌধুরীর বাড়িতে বসবাস করতেন।

গত শনিবার রাত থেকে তিনি ডায়েরীয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মধ্যে সকালে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারি এক রোগীর থাইরয়েড অপারেশন করছিলো। প্রাথ ৩ ঘন্টা ব্যাপী অস্ত্রপচার শেষে সেলাই দিতে গিয়ে বুকে ব্যথা অনুভব করেন।

মুহুর্তের মধ্যেই তিনি বুকে হাত দিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তি করার কিছুক্ষন পরেই বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন।

স্বজনদের সূত্রে জানাগেছে, ‘ডা. আববার আহমেদ’র এর দেশের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন। ৫ম বর্ষে থাকাবস্থায় সেখান থেকে তিনি বদলি হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে আসেন।

১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে শেবাচিমে ৪র্থ ব্যাচ হিসেবে ইন্টার্ন কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৮৪ সালে সরকারি চাকুরিতে যোগদানের পর থেকে শেবাচিম হাসপাতালের বিভিন্ন পদের দায়িত্ব পালন তিনি। চাকুরি জীবনে তিনি শেবাচিম হাসপাতালের ইএনটি’র আরএস ছিলেন। সেই থেকেই বরিশালে বসবাস করে আসছিলেন তিনি।

তার মৃত্যুতে চিকিৎসক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর খবর পেয়ে শেবাচিম হাসপাতালের সাবেক ও বর্তমান সকল পর্যায়ের চিকিৎসকরা হাসপাতালে ছুটে যান তাকে শেষ বিদায় জানাতে। গভিরভাবে শোক প্রকাশ করেন তারা। বাদ জোর মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রথম নামাজে জানাযায় চিকিৎসক ও নার্সসহ শত শত মানুষ অংশংগ্রহন করেন। পরে চোখের জ¦লে বিদায় জানান তাকে।