শার্শার কায়বার চেয়ারম্যান টিংকুর বিরুদ্ধে এক যুবককে গুম করার অভিযোগ ভুল ছিল:দাবি পরিবারের

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৩৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

যশোরের শার্শার কায়বার চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর বিরুদ্ধে আনা মহিবুলকে গুম করার অভিযোগ ভুল ছিল বলে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন তারা বাবা ও মা ৷

রবিবার ২০শে অক্টোবর শার্শা থানায় উপস্থিত মহিবুল এর পরিবার ও কায়বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ হাসান টিংকু সহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সরেজমিনে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে তারা একথাগুলো জানাই। মহিবুলকে গুম করার কথা উঠেছে সেই মহিবুল বর্তমানে ঢাকায় তার চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে বলে তার বাবা ও মায়ের কাছ থেকে এর সত্যতা জানা যায়। কিন্তু তারা সাথে সাথে এটাও স্বীকার করেন তার সন্তানের সাথে সরাসরি তাদের ফোনে কথা হয়নি, আত্নীয়-স্বজনদের মাধ্যমে জেনেছি। মহিবুল শার্শা উপজেলার কায়বা গ্রামের শুকুর আলী ধোবেনের ছেলে। এ ঘটনায় মহিবুলের বাবা বলেন,আমার ছেলে বাজার থেকে বাড়িতে আসার সময় দেখতে পাই একটি ছেলে ও একটি মেয়ে একটি ঘরের ভিতরে যাচ্ছে, ঐ দৃশ্য দেখে তখন আমার ছেলে জানালা দিয়ে মোবাইলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ।

 

এরকম জঘন্য কাজ করে আমার ছেলে অন্যায় করেছে বলে তিনি জানান। ঘটনার দিন ১o-১৫ জন লোক আমার বাড়ি এসে আমার ছেলেকে খুজঁতে থাকে ও আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমার ছেলে কোথায়? আমি তাদেরকে বলি আমার ছেলে কোথায় গেছে আমি জানি না। পরে শুক্রবার ৪টার দিকে বিভিন্ন সুত্র থেকে বিচার হবে বলে আমি জানতে পারি। আমি বিকালে বিচারের সময় ছেলেকে হাজির করার পূর্বে যারা আমার বাড়ীতে এসেছিল তাদের কাছে জানতে চাইলাম চেয়ারম্যান ফিরোজ ভাই কি বিচারে উপস্থিত রয়েছেন? কারন আমার আশংকা চেয়ারম্যান বিচারে উপস্থিত না থাকলে উত্তেজিত জনতা আমার সন্তানকে মারধর করতে পারে,বিচার শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর চেয়ারম্যান বিচারে উপস্থিত হন। মহিবুল এর বাবা ও মা আরো বললেন বিচারে উপস্থিত জনতার সামনে সবকিছু শোনার পর চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত দিল এই বিচার তার পক্ষে করা সম্ভব না,চেয়ারম্যান আমার ছেলেকে থানায় হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত দেন। পরে ওই বিচার থেকে মহিবুলকে কিছু এলাকাবাসীর মাধ্যমে থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়,শার্শা থানায় আসার পর থানার বাইরে মহিবুলকে সাথে নিয়ে এলাকাবাসী অপেক্ষা করতে থাকে,এক পর্যায়ে তাকে যারা থানায় হস্তান্তর করতে এসেছিল তাদেরকে প্রসাবের কথা বলে ঘটনাস্থল থেকে সে পালিয়ে যায় ।

পরে মহিবুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে তারই চাচাতো ভাই ঢাকায় অবস্থানরত তার বাসায় আশ্রয় গ্রহণ করে,মহিবুল এর সাথে তার মা-বাবা ফোনে কথা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। ঘটনা তদন্তে সাংবাদিকবৃন্দ মহিবুলের মা-বাবার সামনে উপস্থিত হলে তারা আরো জানায় ঘটনার দিন যখন তার ছেলেকে থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয় তখন আমরা থানায় খোঁজ নিয়ে দেখি আমার সন্তান থানায় নেই,এতে আমরা ভয় পেয়ে় সন্তান হারানো শঙ্কায় থাকি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে আমার সন্তানকে পাওয়া যায়নি,এর সূত্র ধরে আমরা মিথ্যা ও ভুল তথ্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছিলাম। থানায় আসার পর আমরা ঘটনা সম্পর্কেে বিস্তারিত জানতে পারি যে,কায়বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ টিংকুর কোন দোষ নাই। চেয়ারম্যান আমার ছেলের সঠিক বিচারের জন্য থানায় পাঠিয়েছিল,এই ভেবে আমরা প্রথমে সংবাদকর্মীদের কাছে ভিডিওতে বলেছিলাম যে আমার ছেলে গুম হয়ে গেছে,তখন আমাদের দুজনের মাথা ঠিক ছিল না বলে আবোল-তাবোল বলেছিলাম৷ তারা গুমের বিষয়ের ভুল তথ্য দেয়াই চেয়ারম্যানের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।