শিশু মিথ্যা বললে কি আপনার করনীয়?

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ৭:০০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

শিশু (ইংরেজি: Child) ভূমিষ্ঠকালীন ব্যক্তির প্রাথমিক রূপ। যে এখনও যৌবনপ্রাপ্ত হয় নাই কিংবা বয়ঃসন্ধিক্ষণে প্রবেশ করেনি সে শিশু হিসেবে সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে চিহ্নিত হয়ে আছে। সচরাচর যে ছেলে বা মেয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে অবস্থান করছে সে শিশু হিসেবে চিহ্নিত। কখনো কখনো অনাগত সন্তান অর্থাৎ যে সন্তান এখনো ভূমিষ্ঠ হয় নাই বা মায়ের গর্ভে অবস্থান করছে সেও শিশুরূপে পরিগণিত হয়ে থাকে।

শিশুদের বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আচরণ অনেক পরিবর্তন হয়। এ সময় তাদের আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় থেকে এই সমস্যা বাড়তে থাকে। কারণ আপনার শিশু হঠাৎ করে নতুন অনেক শিশুদের সঙ্গে মিশতে শুরু করে। শিশুদের আচরণগত যে সমস্যা হয় তা হলো মিথ্যা কথা বলা।

কোনও কোনও সময় মা-বাবা এই স্বভাবকে অবহেলা করে গেলেও তা পরে বড়সড় আকার ধারণ করে। শুধু তাই-ই নয়, কথায় কথায় মিথ্যা বলার এই স্বভাব শিশুর জীবনেও নানা ক্ষতি করে, ছোট থেকেই তা রুখে না দিলে এই অভ্যাস খুব বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে।

আসুন জেনে নেই শিশুদের মিথ্যা বলা সামলাবেন কীভাবে?

অতিরিক্ত শাসন:-

তাদের নিয়ে যে সমস্যাগুলো অভিভাবকরা মূলত সম্মুখীন হন, তার মধ্যে সন্তানের মিথ্যা বলাও পড়ে। মনোবিদদের মতে, ভয়ে মিথ্যা বলা দিয়েই এই অভ্যাস বাসা বাঁধে শিশুদের স্বভাবে।

শিশুদের সামনে মিথ্যা এড়িয়ে চলুন:-

বাবা-মা অনেক সময় শিশুদের কাছে কথা লুকাতে মিথ্যা আশ্রয় নিয়ে থাকে। কিন্তু তা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়। শিশুদের সামনে যতটা সম্ভব মিথ্যা এড়িয়ে চলুন। তারা কিন্তু অভিভাবকদের থেকেই সবচেয়ে বেশি শেখে। তাই পারিবারিক নানা কারণে অতিকথন, মিথ্যা এড়িয়ে চলুন।

গল্পের ছলে:-শিশুকে প্রথম থেকেই গল্পের ছলে মনীষীদের জীবনী, ঈশপের নানা গল্প, নীতিকথা শেখান। বড় মানুষরা কেউ মিথ্যা পছন্দ করতে না অথবা মিথ্যা বিষয়টা খুব একটা গ্রহণীয় নয় সেই ধারণা মনের মধ্যে প্রবেশ করান।

মিথ্যা বলা কতটা খারাপ কিংবা আপনাদের বাড়ির সব সদস্য এই মিথ্যা বলাকে কতটা ঘৃণা করেন সেই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিন।

শিশুদের বন্ধু:-স্কুল থেকে ফিরলে বা কোনও বন্ধুর সঙ্গে মিশলে, লক্ষ রাখুন তার চারপাশের বন্ধুরা কেমন। তাদের মধ্যে কারও মিথ্যা বলার প্রবণতা থাকলে তা যেন আপনার শিশুকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে যত্নবান হোন।

মিথ্যার আশ্রয়:-কোনও কারণে আপনার শিশু কি নিজের ওপর আস্থা হারাচ্ছে বা অবহেলিত হচ্ছে কোথাও, সে দিকে নজর রাখুন। এসব কারণ ঘটলেও শিশুরা মিথ্যার আশ্রয় নেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে যারা অবহেলিত বলে মনে করে, তারা মিথ্যের মাধ্যমে অন্যদের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আত্মবিশ্বাসের অভাব ও অনিশ্চয়তার কারণেও অনেক সময় শিশুরা মিথ্যে বলে। শিশুরা বাবা-মায়ের মিথ্যে বলা থেকেও এই শিক্ষা লাভ করতে পারে। অনেক বড় মিথ্যা অভিভাবকরা ভুল করে হেসেই উড়িয়ে দেন। তখন শিশুর কোনও সংকোচ থাকে না। শিশুর মিথ্যা বলার প্রবণতা বাড়ার একটি বড় কারণ অভিভাবকের অতিকথন। বাবা-মায়ের সম্পর্কে অনাস্থা থাকলে শিশুরাও হয়ে উঠতে পারে মিথ্যাবাদী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখে গেছেন, মোরা সত্যের পরে মন আজি করিব সমর্পণ। জয় জয় সত্যের জয়।

শিশুকে প্রথম থেকেই গল্পের ছলে মনীষীদের জীবনী, ঈশপের গল্প, নীতিকথার গল্প পড়ান বা শোনান। বড় মানুষরা কেউ মিথ্যা পছন্দ করতে না অথবা মিথ্যা বিষয়টা খুব একটা গ্রহণীয় নয়— সে ধারণা তাদের মনের মধ্যে প্রবেশ করান। কোনও কারণে আপনার শিশু কি নিজের উপর আস্থা হারাচ্ছে বা অবহেলিত হচ্ছে কোথাও, সে দিকে নজর রাখুন। সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকার বই বা গল্পের বই এনে দিন। আপনি নিজেও উত্সাহের সঙ্গে আপনার শিশুকে সঙ্গে নিয়েই পড়ুন।

মিথ্যা বলা কতটা খারাপ কিংবা আপনাদের বাড়ির সকল সদস্যরা এই মিথ্যা বলাকে কতটা ঘৃণা করেন— সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিন। শিশুর সঙ্গে যথেষ্ট সময় কাটান। আপনার কাজ করার সময়ে তাকে ফোন বা টিভি দিয়ে শান্ত রাখলেন, আপনার এই মারাত্মক ভুল কিন্তু ভবিষ্যতে চিন্তার কারণ হতে পারে। ফোনের বদলে শিশুর হাতে তুলে দিন ছবি আঁকার খাতা, রং পেনসিল, খেলনা। বিকেলে পার্কে নিয়ে ঘুড়তে যান, খেলতে দিন। প্রথমেই বোঝা দরকার যে, বায়না এবং আবদার একই রকম শোনালেও তার অর্থ আলাদা। যে শিশুটি আদুরে গলায় মা-বাবাকে কিছু কিনে দেওয়ার জন্য আবদার করছে, তার সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে বায়নার। কোনও কিছু কিনে দিতেই হবে— এই মনোভাব থেকে বাচ্চা বায়না জোড়ে। আর বায়না পরিণত হয় জেদে। তখন শিশুর মনোভাব ‘ওটা আমি নিয়েই ছাড়ব’। আপনার বাচ্চার চাহিদা কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, সেটা বুঝবেন আপনিই।বাইরের জগতের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ করে দিন। দেখবেন এই সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে।