চবিতে ছাত্রলীগের অবরোধ, বাস-ট্রেন বন্ধ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৭ | আপডেট: ৩:০০:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৭

ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে ছাত্রলীগের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে।

মঙ্গলবার ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অবরোধে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শহরগামী শিক্ষকদের কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।

অন্যদিকে শহর থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসেনি কোনো শাটল ট্রেনও।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ভোর ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটকে তালা দেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এর পর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বটতলী থেকে ঝাউতলা স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনটি এলে অবরোধকারীরা আটকে দেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন দফতরের পরিচালক ড. শফিউল আযম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদের একটি অংশ। এ কারণে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকদের কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনটিও আটকে দেয়া হয়।

ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার শাহাব উদ্দীন জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঝাউতলা এলাকায় বিক্ষুব্ধ অবরোধকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনটি আটকে দেয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পর দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়।

ময়নাতদন্তের পর পুলিশ জানায়, দিয়াজ আত্মহত্যা করেছে। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন।

এ ঘটনায় পর দিন নিজে বাদী হয়ে মেজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন তিনি। মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবুল মনসুর জামশেদ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু, রাশেদুল আলম জিসান, আবু তোরাব পরশ, মনসুর আলম, আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান, আরিফুল হক অপু ও মোহাম্মদ আরমান।

পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ডিসেম্বর লাশ কবর থেকে তুলে ফের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ১১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়। এর পর যে প্রতিবেদন দেয়া হয়, তাতে বলা হয়, দিয়াজকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।