নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১:১৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯ | আপডেট: ১:১৭:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

মাদারীপুর জেলা প্রেসক্লাব রাজনীতির খপ্পরে

মাদারীপুর জেলা প্রেসক্লাব এখন রাজনীতি ও আত্মীয়করণের খপ্পরে। একজন ক্ষমতাধর নেতার ছত্র ছায়ায় মাদারীপুরে কর্মরত ৬৪ জন সাংবাদিকের মধ্যে মাত্র ২৪ জন সাংবাদিকের স্বাক্ষর নিয়ে জরুরি সভা দেখিয়ে প্রেসক্লাবের নিয়মিত কার্য-নির্বাহী কমিটি ও বিদ্যমান গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছে কিছু সুবিধাভোগী সাংবাদিক।
অপরদিকে অবৈধ ওই মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির আবেদনে প্রেসক্লাবের রেজিস্ট্রেশনও দিয়েছে মাদারীপুর সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ নিয়ে জেলায় সাংবাদিকদের মধ্যে চলছে তীব্র সমালোচনা।

জানা গেছে, জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনে কর্মরত ৬৪ জন সাংবাদিক রয়েছে। মাদারীপুর প্রেসক্লাবের কার্য-নির্বাহী কমিটি গঠন করতে হলে বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের খ’ ধারা এবং বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের ১৩ ধারা অনুযায়ী প্রেসক্লাবের সংবিধান বা গঠনতন্ত্রের কোন অংশ সাধারণ সভায় দুই তৃতীয়াংশ ভোটে সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে হয়। অথচ সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে কতিপয় সাংবাদিক গোপনে কার্য নির্বাহী কমিটি গঠন করে।

একাধিক সাংবাদিকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টম্বর তৎকালীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি অবৈধভাবে তার স্বাক্ষরে এবং তার মন্ত্রণালয়ের স্মারকের মাধ্যমে সাংবাদিক শাহজাহান খানকে আহবায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেন।

এই আহবায়ক কমিটির কার্যক্রম সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ২০১৭ সালে ১ জানুয়ারি সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে অভিযোগ দেয়া হয়। সেই সাথে প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাদারীপুর জেলা প্রশাসককে অনুলিপি দেওয়া হয়। ওই অভিযোগের ব্যাপারে সাবেক নৌ মন্ত্রী শাজাহান খান ঐ আহবায়কের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি, বরং তার পৃষ্ঠপোষকতায় গত ২০১৭ সাথে ৫ জানুয়ারি ৬৪ জন সাংবাদিকের মধ্যে মাত্র ২৪ জন সদস্যের স্বাক্ষর নিয়ে গোপনে একটি জরুরি সভার মাধ্যমে বিদ্যমান গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে শাহজাহান খানকে সভাপতি ও জাহাঙ্গীর কবিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট মাদারীপুর প্রেসক্লাবের কার্য-নির্বাহী কমিটি গঠন ও সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুমোদন করে।

অপরদিকে ওই কমিটির প্রণীত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গোপনে করা কমিটির মেয়াদ এবছরের ৪ জানুয়ারি শেষ হয়। তারপরেও ওই মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে মাদারীপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে আট মাস পরে বর্তমান বছরের আগস্ট মাসে প্রেসক্লাব রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করলে সমাজসেবা বিভাগ যাচাই বাছাই না করেই রেজিস্ট্রেশন দিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম মাওলা আকন্দ বলেন, মাদারীপুর প্রেসক্লাবের বিদ্যমান গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ড ও গঠনতন্ত্রের ধারাসমুহের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কার্যকরী কমিটি গঠন, গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং কাগজপত্র যাচাই না করে দেওয়া রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ অবৈধ। অবৈধ কার্য-নির্বাহী কমিটি, গঠণতন্ত্র এবং রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ সকল কার্যক্রম রহিতকরনের দাবি করছি।

অপরদিকে অবৈধভাবে গঠিত কমিটির সভাপতি দাবী করা সাংবাদিক শাহজাহান খানকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

তথ্য সুত্র, যুগান্তর