আবরারের ভাই-ভাবীকে মারধর: পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯ | আপডেট: ১০:১৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়েছিলেন বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। বিক্ষোভের মুখে তিনি আবরারদের বাড়িতে না গিয়ে রাস্তা থেকে ফিরে আসেন। বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান ভিসি সাইফুল ইসলাম। এরপর সেখান থেকে তিনি রায়ডাঙ্গা গ্রামে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাতসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিসি আসার সংবাদ পেয়ে আবরারের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকে গ্রামবাসী। মুহূর্তেই কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আবরারের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে আবরারের কবর জিয়ারত করেন ভিসি। এরপর গাড়ি নিয়ে তিনি আবরারের বাড়ি দিকে যেতে থাকেন।

এ সময় বাড়ির সামনে গ্রামবাসী শুয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে সেখান থেকে ফিরে যান ভিসি। নারী-পুরুষ ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেয়। ভিসিকে নিরাপত্তা দিতে কয়েকশ’ পুলিশ সদস্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও ছিলেন। কঠোর নিরাপত্তা প্রহরায় জেলা প্রশাসকের গাড়িতে ভিসি এলাকা ত্যাগ করেন। ভিসি চলে যাওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়। পুলিশের লাঠিচার্জে আবরারের মামাতো ভাবি তমা গুরুতর আহত হন। তাকে কুমারখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করে গ্রামবাসী।

আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজ বলেন, আমার ভাইয়ার খুনিদের এখনও কেন বহিষ্কার করা হয়নি তা জানতে চাইলে ভিসি নীরব থাকেন। আরও প্রশ্ন করতে গেলে তিনি গাড়িতে উঠতে যান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর তার (ফাইয়াজ) বুকে আঘাত করেন।

এরপরও ভিসি আমার সঙ্গে ও আবরারের মায়ের সঙ্গে দেখা না করে চলে গেলেন। এতে আমরা খুব মর্মাহত হয়েছি। তিনি বলেন, ভিসি চলে যাওয়ার পর কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আমার ছেলে ফাইয়াজের বুকে আঘাত করেছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া আবরারের মামাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে পুলিশ আহত করেছে।

বাড়ির দরজা থেকে ভিসি চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আবরারের মা রোকেয়া বেগম জানান, তিনি (ভিসি) আমার ছেলের লাশ দেখতে যাননি, জানাজায়ও শরিক হননি। এ নিয়ে তিনি (ভিসি) নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভিসিকে অসম্মান করার মতো গ্রামে কেউ নেই। তবে ভিসির আচরণ প্রথম থেকেই রহস্যজনক মনে হয়েছে।’

য়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার:

সোমবার রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলে এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বেশিরভাগই বুয়েটে ছাত্রলীগের নেতা।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ. সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন গ্রেফতার সবাইকে ডিবি অফিসে রাখা হয়েছে।

তাদের আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুয়েট ছাত্রলীগের বেশ কজনকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি।

আবরারের বাবা গতরাতে এই ঘটনায় চকবাজার থানায় যে মামলা করেছেন তাতে ১৯ জনকে আসামী দেখানো হয়েছে। যারা সবাই শেরেবাংলা হলেরই ছাত্র। আবরারের মরদেহ দাফনের জন্য কুষ্টিয়ায় তার বাড়িতে পৌঁছেছে।

ঐ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

নিহত ছাত্রের নাম আবরার ফাহাদ। তিনি ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।