স্বাস্থ্য ভাল রাখতে যা যা করনীয়

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৬:২৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯

স্বাস্থ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ১০টি মানদন্ড হল—একঃ কর্মশক্তি-সম্পন্ন, স্বাভাবিকভাবে জীবনের বিভিন্ন কাজ মোকাবেলা করতে পারে। দুইঃ আশাবাদী, সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করতে পারে। তিনঃ নিয়মিত বিশ্রাম নেয়, ঘুম ভাল। চারঃ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে, বিভিন্ন অবস্থার মোকাবেলা করতে পারে। পাঁচঃ সাধারণ সর্দি ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধক শক্তি আছে। ছয়ঃ ওজন সঠিক, শরীরের সংগঠনিক দিক সঠিক। সাতঃ চোখ উজ্জ্বল, কোনো প্রদাহ রোগ নেই। আটঃ দাঁত পরিষ্কার এবং সতেজ, ব্যাথা নেই, দাঁতের মাঢ়ির রং স্বাভাবিক। নয়ঃ চুলে উজ্জ্বতা আছে, খুশকি নেই। দশঃ হাড় স্বাস্থ্যবান, পেশি ও ত্বক নমনীয়, হাঁটাহাঁটি করলে কোনো অসুবিধা নেই।

আপনি স্বপ্ন দেখছেন বড় কিছু করার কিংবা পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করার। এর জন্য মানসিক এবং দৈহিক সুস্থতার প্রয়োজন রয়েছে। মানসিক দিক ভাল আছে বলেই আপনি এগুলো করতে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আপনাকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। কেননা শরীর যদি ভালো না থাকে তাহলে কোন কিছুতেই মন বসানো যায় না। তাই পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি ছোট ছোট নিয়ম মানলেই আপনি থাকবেন চাঙ্গা বা তরতাজা।

* প্রতিদিন কমপক্ষে দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন৷ তবে মিষ্টি মিশ্রিত পানীয় নয়। কোলা, ফান্টা বা এ জাতীয় কোন পানীয় স্বাস্থ্যর জন্য ভাল নয়।

* ফাস্টফুডকে ‘না’ বলুন। ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়৷ কারণ এগুলোতে লুকিয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং নানা রকম ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান৷ খাবার মুখরোচক করার জন্য দেয়া হয় টেস্টিং সল্ট। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

* নিয়ম করে প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটুন৷ অথবা খেলাধুলার মধ্যে থাকুন। এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে। হাঁটাহাটি বা খেলাধুলা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে৷

* প্রতিদিন খাবারের মেনুতে সবজি ও মাছ রাখুন এবং দেশীয় ফল খেতে ভুলবেন না। খাবার গ্রহণের সময় কখনোই একবারে বেশি খাবেন না। অল্প করে খান, তবে একটু পর পর। আর
কাজ বা পড়াশুনার মঝে অবশ্যই টি ব্রেক নিবেন। কারণ একটানা করতে গেলে কিছুটা হলেও শরীরে চাপ পড়ে।

* সবসময় খাবারে লবণের ব্যবহার কম করুন। সলিড ফ্যাট খাবার, যেমন- ফাস্টফুড, ঘি, মাখন, চিজ ইত্যাদি খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

* প্রতিদিন নির্দিষ্ট টাইমে ঘুমাতে যান এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠুন।

* নিয়মিত নিজের ওজন, ব্লাড প্রেশার, শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ চেক করুন। মাসে অন্তত একবার রেগুলার চেকআপের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

একটা সুপরিচিত প্রবাদ বলে, “বিপদ আসার আগেই সাবধান হওয়া ভালো।” এটা ঠিক যে, কিছু কিছু রোগ এড়ানো যায় না। তবে, সহজেই অসুস্থ না হওয়ার অথবা অসুস্থতা রোধ করার জন্য আপনি অনেক কিছু করতে পারেন। যেগুলো আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।

উত্তম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

মেয়ো ক্লিনিকের মতে, “অসুস্থতা এবং রোগ সংক্রমণ এড়ানোর সবচেয়ে ভালো একটা উপায়” হল, হাত ধোয়া। সর্দিকাশি হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, হাতে জীবাণু থাকা অবস্থায় নাক বা চোখ ঘষা। এই ধরনের জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হল, নিয়মিতভাবে হাত ধোয়া। উত্তম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বিভিন্ন মারাত্মক রোগের সংক্রমণও এড়ানো যায় যেমন, নিউমোনিয়া এবং ডায়েরিয়া।

বিশুদ্ধ জল ব্যবহার করুন

কিছু কিছু দেশে পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ জল সরবরাহ করা রোজকার বিষয়। কিন্তু, পৃথিবীর যেকোনো জায়গায়ই বিশুদ্ধ জল পাওয়া সেই সময় কঠিন হয়ে উঠতে পারে, যখন বন্যা, ঝড়, পাইপ ভেঙে যাওয়া অথবা অন্যান্য কারণে জলের প্রধান উৎস দূষিত হয়ে পড়ে। জলের উৎস যদি নিরাপদ না হয় এবং জল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে রাখা না হয়, তা হলে এতে রোগজীবাণু জন্মাতে পারে ও সেইসঙ্গে কলেরা, প্রাণনাশক ডায়েরিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগ হতে পারে।

বিভিন্ন প্রকারের পুষ্টিকর খাবার

পুষ্টি ছাড়া ভালো স্বাস্থ্য সম্ভব নয় আর পুষ্টি লাভ করার জন্য স্বাস্থ্যকর, সুষম খাবার প্রয়োজন। আপনার খাদ্য তালিকার মধ্যে লবণ, চর্বি ও শর্করাযুক্ত খাবার থাকতে হবে, তবে লক্ষ রাখবেন যেন তা অতিরিক্ত হয়ে না যায়। এই তালিকার মধ্যে যেন ফলমূল ও শাকসবজিও থাকে আর খাবারে যেন বৈচিত্র্য থাকে। পাউরুটি, সিরিয়াল, পাস্তা অথবা চাল কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে লেখা উপকরণের তালিকা দেখে নিন, যাতে আপনি ভুসিযুক্ত খাবার বেছে নিতে পারেন। ভুসি ছাড়ানো শস্য থেকে তৈরি খাবারের বিপরীতে এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি ও ফাইবার থাকে। প্রোটিন পাওয়ার জন্য অল্প পরিমাণ এবং কম চর্বিযুক্ত মাংস খান আর সপ্তাহে অন্ততপক্ষে কয়েক বার মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন। কিছু দেশে উদ্ভিদ থেকে প্রস্তুত এমন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পাওয়া যায়।