সিসিটিভি ফুটেজে আবরার ফাহাদ হত্যায় ৬ জন শনাক্ত

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৪৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং এদের মধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন সোমবার বিকেলে বুয়েটের হলে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

আবদুল বাতেন বলেন, এই ঘটনায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

আটক চার জনই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা হলেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান রাসেল। এডিসি আব্দুল বাতেন এদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, পলাতকদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এর আগে গতকাল রোববার দিবাগত গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে আবরারের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, শিবির সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগে গতকাল রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে ডেকে নিয়ে প্রহার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। পরে দিবাগত রাত তিনটার দিকে হল থেকে আবরারের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

কুষ্টিয়ার ছেলে আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

আবরারের সহপাঠীরা গণমাধ্যমে জানান, তিনি (আবরার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতেন। এ কারণে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আজ সকালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝি, এখানে ভিন্নমতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার কারও নেই। কাজেই এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তদন্ত চলছে, তদন্তে যারাই অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে, পারসোনালি আমি বলেছি- এখানে আমার কোনো ভিন্ন মত নেই।

 

‘আবরার শিবির নয়, আ’লীগ সমর্থক ছিলেন’:

আবরারের চাচা জানান, তার ভাতিজা তাবলিগ জামাতে যেতেন। বুয়েটে ভর্তির পর দুই-তিনবার তিনি তাবলিগে গিয়েছিলেন।

আবরার আওয়ামী লীগ সমর্থক হয়েও বিশ্বজিতের পরিণতি বরণ করতে হয়েছে-এমন ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান। তিনি লিখেছেন, ‘বুয়েট ছাত্র আবরারের অপরাধটা কী? আমি তো বলবে আরেকটি বিশ্বজিতের ঘটনা ঘটলে।

 

পার্থক্য হলো— বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আর আবরারকে বুয়েটের হলে। এ ছাড়া তো আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। দুজনকেই শিবির সন্দেহে বর্বরভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো। দুজনই সাধারণ গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা। আচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে পিটিয়ে ছাত্রহত্যার অধিকার তো কেউ কাউকে দেয়নি। কারও অপরাধ থাকলে পুলিশ, প্রশাসন আছে কেন? আমি বিশ্বজিতের মতো আবরার হত্যারও বিচার চাই। কারা এই হামলাকারী খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেয়া হোক।’