আবরার হত্যার জেরে ঢাবি-বুয়েটে ব্যাপক বিক্ষোভ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৯ | আপডেট: ২:২৯:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ (২১) হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বুয়েট ক্যাম্পাস বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বিক্ষোভে কয়েকজন শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।

 

এসময় আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারের দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা বলছেন, ‘আবরার হত্যা পেছনে ছাত্রলীগের অতিমাত্রায় ভারতপ্রেম প্রেরণা জুগিয়েছে। দেশপ্রেমিক আবরারের ভারতবিদ্বেষী স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে তাকে খুন করা হয়েছে।’

আবরার হত্যার জেরে ঢাবি-বুয়েটে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এরআগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শের-ই-বাংলা হলের ভেতর থেকে আবরার ফাহাদ নামে এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হতে পারে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই বাংলা হলের নিচতলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা:

হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিবির সন্দেহে আবরারকে রবিবার রাত আটটার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে রাত আড়াইটার দিকে হলের সিঁড়ির পাশে আবরারের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ডাক্তারকে খবর দিলে তিনি এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

মারধরের সময় ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু। তিনি বলেন, আবরারকে শিবির সন্দেহে রাত আটটার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইলে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করি। ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু পেইজে তার লাইক দেয়ার প্রমাণ পাই। সে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাই। এক পর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো তাকে মারধর করে থাকতে পারে। পরে রাত তিনটার দিকে শুনি আবরার মারা গেছে।