চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে বর্তমান বাংলাদেশ

মন্তব্য কলাম

এম. আর. প্রিন্স এম. আর. প্রিন্স

সাংবাদিক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব

প্রকাশিত: ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭ | আপডেট: ১০:১৭:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭

বিজয়ের ৪৭ এ পা রাখলো বাংলাদেশ । গৌরবান্বিত স্বাধীনতার এত বছর পরে অনেক চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে ২০১৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর কেমন আছে বাংলাদেশ ? বাঙ্গালী জাতি অল্পতেই অনেক খুশি ; প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাবের প্রয়োজন নেই । সারাদেশে রঙ্গীন বাতির আলোর ঝলকানি , আনন্দ উৎসবের উম্মাদনায় ভুলে যেতে পারে সকল না পাওয়া ; আরও এগিয়ে যাওয়া কিংবা সকল অপ্রাপ্তির কথা । প্রতিটি দিবসের উৎসবের নানা রঙের লাইটিংয়ের জ্বলা নেভার ন্যায় শুধু মাত্র রাজনৈতিক অস্থিরতা, অদূরদর্শিতা, খাঁটি দেশপ্রেমের অভাব, দুর্নীতি আর টেকসই কাজের অভাবে সত্যিকারের উন্নয়ণও জ্বলে নেভে ! আবার এতকিছুর পরেও প্রাপ্তিও কম নয় ; ২০১৭ সালের শেষের দিকে এসে দেখছি স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে দৃশ্যমান ! দীর্ঘ নদীর উত্তাল ঢেউ পেড়িয়ে পিলারের উপর বসেছে স্প্যান ।পায়রা সমুদ্র বন্দর সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ।ঢাকা শহর জুড়ে ফ্লাইওভার, অজোপাড়া গাঁয়েও জ্বলছে বিদ্যুৎতের আলো । মফস্বল শহর গুলো আধুনিক হচ্ছে ।

 

টিনের পরিবর্তে ইটের পাঁকা বাড়িই বানাতে চেষ্টা করছে অনেকেই । একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে আলাপকালে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহীদুজ্জামান বলেন, “পদ্মা সেতু এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর হয়ে গেলেই দেশের সমগ্র দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল সিঙ্গাপুরের ন্যায় উন্নতি হয়ে যাবে ।” প্রশ্ন এখানেই ! যখন বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের ন্যায় উন্নত হয়ে যাবে তখন সিঙ্গাপুর যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে সিঙ্গাপুর উন্নতির কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে ? বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কতটুকু গতিতে এগুচ্ছে বাংলাদেশ । কচ্ছব গতিতে এগিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টিকে থাকা খুবই মুশকিল ।উন্নয়ণশীল দেশ হিসাবে আমরা অতিদ্রুত পর্যায়ক্রমে মধ্যম আয়ের এবং উন্নত দেশের যে স্বপ্ন দেখি, তা পূরণে সকল ঈর্ষা ভেদাভেদ ভুলে একসাথে সকল প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদকে সঠিক কাজে লাগাতে না পারলে হতাশ হতে হবে । বাংলাদেশের উন্নয়ণে সবচেয়ে বড় বাঁধা টেকসই উন্নয়ণ না হওয়া । জাতির টাকা খরচ করে একই কাজ বারবার করতে হয় । ক্ষমতার অপব্যবহারে দুর্নীতির সঠিক বিচার হয়না ।

 

বিচারহীনতা দূর না করায় অপরাধ ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে । ইয়াবা ফেন্সিডিল সহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য, আকাশ দুনিয়ার অপসংস্কৃতি, ইন্টারনেটের অপব্যবহার উঠতি যুব সমাজ সহ সকল বয়সের নারী-পুরুষকে ধ্বংস করে দিচ্ছে । অমানবিক নির্যাতনে মানুষের মমত্ববোধ ও সম্পর্কের অনুভূতিগুলো পাল্টে যাচ্ছে । প্রতিদিন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে নির্মম হত্যাকান্ড, গুম, ধর্ষণ, ইভটিজিং সহ নানা অপরাধে সমাজের অবক্ষয় ।এগুলো চলতে থাকলে স্বাধীনতা অর্থহীন ।স্বাধীনতার মূলমন্ত্র সম্প্রীতি ও সাম্য । শোষন-বঞ্চনামুক্ত গণতান্ত্রিক ঐক্যবদ্ধ উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজই স্বাধীনতার বিজয়ের নির্ঝাস ।মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবিক অধিকার খর্ব হলে সামনে এগুনো সম্ভব নয় । অথচ বৈষম্যের কারনে দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরেও দেখি ধনী দরিদ্রের বিশাল ব্যবধান ; এক দিকে চোখে পড়ে অহংকারী দামী পোষাক পরা ধনীর বিলাস-বাহুল্য, নানা রকম রিসিপিতে অতিরিক্ত খাবারের রসনা-বিলাস, অন্যদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের কোন রকম বেচে থাকার সংগ্রাম ।

 

এতে বিবেকবান মানুষের বিজয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় অনেকটা ।।প্রতিটি পণ্যের গুনগত মানের উপর নির্ভর করে ভালমন্দ ; তেমনি আমাদের দেশের অনেক মানুষের শিক্ষার গুণগত মান এতই নিম্নমানের যে তাদের কাছে ভাল কিছু আশা করাও বোকামী ছাড়া কিছুই নয় । সু-শিক্ষার মাধ্যমে মেধা ও মননের সঠিক ব্যবহার ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে । বহু ধরনের শূণ্যতা, হতাশা ও আবেগের তীব্রতা মানুষের চিন্তা ও চেতনাকে ভোতা করে দেয় । চেতনার ব্যবসা থেকে বেড়িয়ে এসে দেশ ও জাতির স্বার্থে গুনগত ভালকর্মে সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হবে ।ধন্য বরেণ্য প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের আন্তরিকতার প্রয়াসই স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত অপরূপ প্রকৃতি বিখ্যাত বাংলাদেশকে স্বাধীনতার গৌরবময় বিজয়ের সঠিক গন্তব্য উন্নত একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে । যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সাথে নানা অনিয়মের কারনে বাংলাদেশের উন্নয়নের তফাৎ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এলোমেলো দেখি তখন ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে । আমরাতো এই দেশটাকে চাইনা এভাবে । যখন স্বপ্ন দেখি সেই মুক্তিকামী আত্মত্যাগী বীরদেরই ন্যায় সুখী সুন্দর সমৃদ্ধ উন্নত দেশ হিসাবে বাংলাদেশেরই স্বপ্ন দেখি । আশারাখি প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই স্বপ্ন পূরণে থাকবে আন্তরিক ।আমরা কারো সমালোচনা না করি এবং একে অন্যকে ভালবাসতে শিখি ।কথা ও কর্মের মিল রেখে নিজেদের ভুলগুলো শোধরিয়ে সকলে মনেপ্রাণে খাঁটি বাংলাদেশী হলেই যেখানে যেভাবেই থাকবো হৃদয় থাকবে বাংলাদেশ ।