শেখ হাসিনার কল্যানমুখী নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলেছে…… এমপি আফিল উদ্দিন এমপি

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৪৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগ আনন্দ র‌্যালি করেছে । পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে দোয়া,মোনাজাত ও সমাবেশ করা হয়।

শনিবার দুপুর ৩ টায় যশোর -১,শার্শা আসনের সংসদ সদস্য ও যশোর জেলা আঃলীগের সহ-সভাপতি শেখ আফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে শার্শা উপজেলা চত্বর থেকে আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শার্শার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শার্শা উপজেলার অডিটরিয়ামে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

প্রধান অতিথী শেখ আফিল উদ্দিন এমপি বলেন, ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজকের জন্মদিনটি এমন সময়ে পালিত হচ্ছে যখন তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে৷ এক সময়ের কথিত” তলাবিহীন ঝুড়ি”দারিদ্র্য-দূর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশ কে অস্বিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতে হয়েছে। শেখ হাসিনার কল্যানমুখী নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলেছে।

এবারের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেশ কয়েকটি অর্জন তার আজকের জন্মদিনকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করেছে। এর মধ্যে অন্যতম ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সোমবার সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের ব্যাপক সফলতার জন্য তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করেছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই-গ্যাভি)।
এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ইউনিসেফের ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর এই অর্জনে পুরো জাতি গৌরবান্বিত।

ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ও ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার খবর পান।

তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই বছরের ১৭ মে প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি।

১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।

২০০৭ সালের ১/১১-এর পর শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য হাজির করা হয় ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’। শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে আসার সময় বেআইনিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

কিন্তু সাহসী শেখ হাসিনা সরকারি নিষেধাজ্ঞা, ষড়যন্ত্র ও মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে ওই বছরের ৭ মে দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু এর মাত্র দু’মাস পর ১৬ জুলাই নিজ বাসভবন সুধা সদন থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়।

জাতীয় সংসদ এলাকায় একটি অস্থায়ী কারাগারে তাকে বন্দি করে রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা। কারাগারে তার জীবননাশের ষড়যন্ত্র চলে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আওয়াজ ওঠে শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন নয়। বদলে যায় দৃশ্যপট। শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় পায়। এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সরকারে ও দলে আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। আর এতে সফলতাও আসে আকাশচুম্বী। সর্বশেষ চলমান চাঁদা-টেন্ডারবাজ ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান সারা দেশে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিকে নতুন এক আশা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার এই আশার নাম- রূপকল্প-২০২১। তিনি সব বাংলাদেশিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, যেখানে সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি থাকবে।

স্বাধীনতার চার দশক পরে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন তিনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই।

এছাড়া মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনে আশ্রয়হীন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব মহলের মনোযোগ কেড়েছেন শেখ হাসিনা। মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানের কারণে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন সারা বিশ্বে। জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বিশ্ব নেতারা তার এই মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য এনে দিয়েছেন।

এর পূর্বে সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কেক কেটে ও প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্মিত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করে শেখ হাসিনার জন্মদিন উযযাপন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, আসিফ-উদ-দৌলা অলোক সর্দার,যশোর জেলা পরিষদের সদস্য ও শার্শা উপজেলা আঃলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান, পৌর আঃলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক মুকুল,সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সর্দার, সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন রাসেলসহ শার্শা উপজেলা ১১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বৃন্দ।