বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ট্রলি সুবিধা না দিয়ে প্রতারনা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৪০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯

বেনাপোল চেকপোষ্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এর চার্জ বাবদ ৪২.৭৫ টাকা নিলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারনে যাত্রীর ল্যাগেজ আনা নেওয়ার জন্য ট্রলি চালু হচ্ছে না। পাসপোর্ট যাত্রীদের রোদ বৃষ্টিতে না ভেজা, বিশ্রাম নেওয়া, পানি ও টয়লেট সুবিধা, আধুনিক মানের হোটেল রেস্তোরা, যাত্রীর ল্যাগেজ নেওয়ার জন্য ট্রলি সুবিধা সহ নানান ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানায় গত ২০১৭ সালের জুন মাসে এ টার্মিনালটি দুর দুরান্ত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের সুবিধার্থে চালু করে স্থল বন্দর বেনাপোল কর্তৃপক্ষ। তখন থেকে এই টার্মিনাল এর অজুহাত দেখিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীর নিকট থেকে এট্রি ফি , ওয়েটিং র্ফি, িিসর্ভস চার্জ ও টার্মিনাল চার্জ বাবদ ৩৮টাকা ৭৬ পয়সা নিত বন্দর কর্তুপক্ষ। এর ৬ মাস যেতে না যেতে কোন সুযোগ সুবিধা না বাড়িয়ে যাত্রীদের নিকট থেকে আদায় করছে কাগজে কলমে ৪২.৭৫ টাকা। তবে বাস্তবে নিচ্ছে তারা ৪৫ টাকা। পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে এই ৪৫ টাকা নিয়ে ২০ জন যাত্রীকে বসার কোন সুযোগ সুবিধা না দেওয়ায় জনমনে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়া প্রথমে পুরো টার্মিনাল ভবনের নীচতলা যাত্রীদের জন্য রাখলেও এখন তার অর্ধেকের বেশী আটকিয়ে দিয়ে কাস্টমসের স্কানিং মেশিন বসানো হয়েছে।

ঢাকার পাসপোর্ট যাত্রী হেনা বেগম বলেন আমাদের নিকট থেকে এই টার্মিনাল থেকে ৪৫ টাকা চার্জ নিচ্ছে । অথচ আমাদের ল্যাগেজ বহন করতে হচ্ছে পয়সা দিয়ে । এবং অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ল্যাগেজ বহন করতে হচ্ছে। খুলনার আজিম শেখ বলেন, আমাদের নিকট থেকে ৪৫ টাকা চার্জ নিলেও এখানে কোন সুযোগ সুবিধা নেই। যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। ভিতরে বসার কোন জায়গা নেই। নেই পরিস্কার পরিচ্ছনতা।

এব্যাপারে বেনাপোল স্থল বন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, আমরা ট্রলি চালু করেছি। কিন্তু যাত্রীরা বুঝতে পারছে না ট্রলির ব্যবহার। তবে সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায় প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের পাশে কয়েকটি ট্রলি অলস পড়ে রয়েছে কেউ ব্যবহার করছে না। যেখানে যাত্রী যাতায়াত হয় প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ হাজার পর্যন্ত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন্দরের এক কর্মচারী বলেন, লোক না থাকায় ট্রলি ব্যবহার হচ্ছে না। কারন এই ট্রলি নোম্যান্সল্যান্ডে গেলে হারিয়ে যেতে পারে। এর জন্য জনবল প্রয়োজন।

উল্লেখ্য গত ৭ জুলাই বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ট্রলি চালুর শুভ উদ্বোধন করেন এনবিয়ার চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুুইয়া। সেই উদ্বোধনের পর থেকে এখনো কোন ট্রলি চালু হয়নি।একমাত্র বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলার জন্য।