সম্পর্কগুলো সুন্দর করে শেষ করা যায় না?

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:২২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ১০:২২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

আলফা আরজু:

কেস স্টাডি: এক

পেশায় একজন চিকিৎসক। সন্তানেরা সব বড় বড়। হঠাৎ করে তাঁর স্ত্রী উদ্ধার করলেন – এই লোক বিগত ১৯/২০ বছর ধরে একজন নার্সের সাথে শারীরিক ও মানসিকভাবে জড়িত। লোকের ভাষায় পরকীয়া, অনেকের ভাষায় ব্যভিচার ইত্যাদি।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর – ‘সামাজিক ও পারিবারিক স্বীকৃত’ স্ত্রী’র টালমাটাল অবস্থা। মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন।
“কার সাথে এতোদিন সংসার করলাম, কার সন্তানের মা হলাম, কাকে এতো ভালোবেসে মায়া করে রেঁধে খাওলাম, কার পরিবারের সকল সদস্যকে আপন করে নিয়েছিলাম, কার বাবা-মা’কে মাথায় তুলে সম্মান ও সেবা যত্ন করলাম ইত্যাদি নানা রকম হিসেব।”

 

সাথে আছে সমাজ-সংসারের রক্তচক্ষু! “কেমন স্ত্রী – এতোদিন ধরে স্বামী অন্য বেটির সাথে থাকে টের পায়নি!” “কেমন স্ত্রী – স্বামীকে বশে রাখতে পারেনি” “কেমন স্ত্রী কেমন স্ত্রী কেমন স্ত্রী” – চারদিক থেকে আঙ্গুল তুলা হচ্ছে স্ত্রীর দিকে।

আর, স্ত্রী ভাবছেন শুধুই ভাবছেন – “স্বামীকে বিশ্বাস করা কি তবে ভুল, অন্যায়?”

কেস স্টাডি: দুই

একজন নারী চিকিৎসক। অসম্ভব সুন্দর ও ভালো মানুষ। পেশায় খুব সফল। বন্ধুদের মধ্যে খুব ভালোবাসার মানুষ। সহকর্মীরা ভীষণ পছন্দ করেন। ঘরের সহকর্মী, ড্রাইভার থেকে শুরু করে সবাই খুব সমীহ- শ্রদ্ধা করে। তিনি সন্তানদের মা হিসেবে খুবই কেয়ারিং। সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে রান্নাঘর সামলান। স্বামীর সকল প্রকার চাহিদা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তার কাছে -পরিবার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু ঘটনা হলো যেহেতু এই নারী চিকিৎসক দুই হাতে ঘর-সংসার সামলে সমান তালে পেশায় সফল ও সামাজিক সম্পর্কগুলো খুব নিবিড়। তার স্বামীর অভিযোগ – অতিরিক্ত ক্যারিয়ারিস্ট! এতো মানুষের সাথে মেশার কী দরকার! এতো সাজার কী দরকার! এতো হাসাহাসির কী আছে!- নানারকম দোষ।

সর্বশেষে “সন্তানদের সামনেই” নানাভাবে অপমান অপদস্থ। সন্দেহের রোষানল – “তোর কারোর সাথে সম্পর্ক আছে! তোর চরিত্র খারাপ”।

এবার আসল কথায় আসি – প্রথম ও দ্বিতীয় নারী দু’জনই স্বামীকে ভীষণ ভালোবাসতেন, শ্রদ্ধা করতেন, বিশ্বাস করতেন।
তাঁরা দুজনেই ভীষণ মানবিক মানুষ। তবুও সংসার সংসার করে কাঁদেন ও সমাধানের কিনারা খোঁজেন। স্বামীদের কাউন্সিলিং ও নানাভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন।

আর স্বামীদের প্রথমজন “তার পরবর্তি সঙ্গিনীকে নিয়ে প্রথম স্ত্রী’র কষ্ট পাওয়া নিয়ে হাসি তামাশা করছেন। দ্বিতীয়জনও কোনোপ্রকার পারিবারিক কাউন্সিলিং বা পরিবারটাকে টিকিয়ে রাখার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। ভাবখানা এমন “তার স্ত্রী সব ছেড়ে দিলেই” সকল সমস্যা সমাধান।

পারিবারিক কাউন্সিলিং কতোটা গুরুত্বপূর্ণ – কবে আমরা বুঝবো! যাক্, একটা করে সংসার ভাঙ্গতে দেখি ও কিছু মানুষের হাহাকারের সাক্ষী হয়ে থাকি। মানুষগুলো কবে বুঝতে পারবে একজন সঙ্গী রেখে অন্য কারোর সাথে সম্পর্ক করার ক্ষেত্রে আগের সম্পর্ক সুন্দর করে শেষ করে নিতে হয়!

নোট: প্রেমিক ও বিশ্বাসী হোন, সকলেই সাথে সম্পর্কে সততার চর্চা করুন। জীবন সত্যি সুন্দর।

-উইমেন চ্যাপ্টার