আওয়ামী লীগে বিভক্তি টেনশনমুক্ত বিএনপি

নি র্বা চ নী হা ল চা ল, শরীয়তপুর- ১

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭ | আপডেট: ১০:৩৩:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭
আওয়ামী লীগে বিভক্তি টেনশনমুক্ত বিএনপি

পালং ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-১ আসন। এ আসনে আওয়ামী লীগে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দু’গ্রুপে বিভক্ত নেতাকর্মীরা। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এমপি। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

যদিও মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিএম মোজাম্মেল হকই এগিয়ে। এছাড়াও যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন- শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও শরীয়তপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল হাসেম তফাদার, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও শরীয়তপুর সদর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ- সভাপতি ও জাজিরা উপজেলার চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার। বিএনপিতে একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দীন (কালু)। শরীয়তপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমানও জোটের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়া জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও শরীয়তপুর জেলা জাসদের সভাপতি স.ম মালেক মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লড়তে চান। শরীয়তপুর ইসলামী আন্দোলনের নেতা মুফতি তোফায়েল আহম্মদের নামও শোনা যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে। বি এম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন- আমি শত ভাগ আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। আর মনোনয়ন দিলে ইনশাআল্লাহ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো। এলাকার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করবো। নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক, নিরাপদ ও নিশ্চিত করবো। ইয়াবা, গাঁজা, মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাস উৎখাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বার বার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও জন নেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাবো। সাবেক এমপি ও বিএনপির প্রার্থী নাসির উদ্দীন (কালু) বলেন, সরকার যদি নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয় এবং অবাদ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের ব্যবস্থা করে তাহলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে ও আল্লাহর রহমতে এ আসনে বিএনপি জয়লাভ করবে। জাতীয় পার্টি প্রার্থী এডভোকেট মাসুদুর রহমান ও জাসদের প্রার্থী স. ম মালেক দুজনই বলেন- ১৪ দলের মহাজোট যদি আমাদের মনোনয়ন দেয় তাইলে আমরা এ আসনে শতভাগ ভোট পেয়ে জয়লাভ করবো।

নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নানা কৌশলে মাঠে নেমেছেন। গত দুটি ঈদে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাশাপাশি চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার, রেস্তরাঁ, পাড়া-মহল্লায় সর্বত্র আলোচনা কোনো দল থেকে কে প্রার্থী হবেন। এ আসনে সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ’৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য আঃ রাজ্জাক এ আসনসহ ২টি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে আসনটি ছেড়ে দিলে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইউনুছ খলিফাকে উপনির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু পরে ইউনুছ খলিফার মনোনয়ন পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার মজিবুর রহমানকে মনোনয়ন দেন। উপনির্বাচনে মাস্টার মজিবুর রহমান এমপি হন। ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়াত যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতা হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী নির্বাচনে হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হলে এ আসনে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোবারক আলী সিকদারকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ বহিষ্কৃত হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক আলী সিকদারকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

  • মানবজমিন