পেনিসিলিন আবিষ্কারের বর্ষপূর্তি আজ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৩৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

তানজিদ শুভ্রঃ

একটি দুর্ঘটনা থেকে আবিষ্কার পেনিসিলিনের

 

ভাইরাস জ্বর কিংবা সর্দি-কাশি হয়েছে, ১ সপ্তাহ ধরে ভুগছেন; এমন অবস্থায় যে ওষুধটি আর না খেলেই নয়, তা হল অ্যান্টিবায়োটিক। জ্বি, সপ্তাহ জুড়ে কিংবা তার অধিক সময় ধরে খেয়ে যাওয়া এই ওষুধটির বংশে প্রথম যে নামটি শোনা যায়, তা হল পেনিসিলিন।

 

এটি এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। ‘পেনিসিলিয়াম’  নামক ছত্রাক দিয়ে তৈরি করা হয় এই পেনিসিলিন। যা রক্তে থাকা ব্যাক্টেরিয়ার কোষপ্রাচীরের পেপটিডোগ্লাইকেন সংশ্লেষণ বন্ধ করে কাজ করে থাকে।

 

 

ওষুধের ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম ওষুধ। এই ওষুধটি  গুরুতর রোগ সিফিলিস এবং  বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আবিষ্কারের এত বছর পর এখনও পেনিসিলিন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও প্রতিনিয়তই ব্যাকটেরিয়া নানা ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে অ্যান্টিবায়োটিক এই প্রতিরোধের বিরুদ্ধে।

 

তবে আবিষ্কারের পিছনের ঘটনাটি হল, ১৯২৮ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজেন্ডার ফ্লেমিং স্টেফাইলোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া নিয়ে লন্ডনের একটি ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করার সময় তিনি দুই সপ্তাহের গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে স্কটল্যান্ডে যান। যাবার আগে তিনি স্টেফাইলোকক্কাসটি একটি কাঁচের পাত্রে রেখে যান এবং ভুলবশত সেই গবেষণাগারের জানালা খুলে রেখে যান।

 

 

ছুটি কাটিয়ে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান,  স্টেফাইলোকক্কাসটি সম্ভবত জানালা দিয়ে আসা একধরণের ছত্রাকের উপস্থিতিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এই ছত্রাকের আশেপাশে কোথাও স্টেপাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারেনি। আর এর ফলে ফ্লেমিং-এর মনে আগ্রহ জন্মে ঐ ছত্রাকের প্রজাতি চিহ্নিত করে তার জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করার। সেই ছত্রাকটি ছিল পেনিসিলিয়াম।

 

ফলে ফ্লেমিং পেনিসিলিয়াম দ্বারা নিসৃত ঐ পদার্থের নাম দেন ‘পেনিসিলিন’। আর এভাবেই ভুল করে আবিষ্কার হয়ে যায় পেনিসিলিন! আর হ্যাঁ দিনটা ছিলো আজকের দিন, অর্থাৎ ১৫ই সেপ্টেম্বর!